এস. এম. রুবেল, মহেশখালী:
একের পর এক গ্রাহকদের ভুলে ভরা বিল দিচ্ছে মহেশখালী পল্লী বিদ্যুৎ অফিস। এই সুযোগে গ্রাহকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। ভুতুড়ে বিল হাত পেয়ে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ করতে গেলে পড়তে হয় নানান হয়রানীতে। অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীদের ব্যবহারে অতিষ্ট স্থানীয় জনসাধারণ।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাহককে মনগড়া বিল তৈরী করে বিলের কপি প্রদান করছে মহেশখালী পল্লী বিদ্যুৎ অফিস। অনেক গ্রাহক ব্যবহৃত মিটার রিডিং না দেখে এই বিল পরিশোধ করে দেয়। এই সুযোগে গ্রাহকের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। কোন গ্রাহক এই ব্যাপারে অভিযোগ দিতে আসলে তাদের সাথে খারাপ আচরণ করে দায়িত্বরতরা৷ এমনকি মনগড়া বিল তৈরীর বিষয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ আমলে নেননা বলেও অভিযোগ করে তারা।

কালারমারছড়ার পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহক রেজাউল করিম জানান, এই মাসে তাকে ১৭’শ টাকার বিল দেয় কর্তৃপক্ষ। তার ব্যবহৃত মিটার রিডিং এর সাথে বিলে উত্থাপিত রিডিং এর মিল না থাকায় ২৭ ফেব্রুয়ারী সে মহেশখালী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ করতে আসে। এসময় বিকেল ৩ টায় অফিস সময় শেষ হয়েছে বলে তার অভিযোগ আমলে নেননি দায়িত্বরত কর্মচারী৷ পরে অনেক অনুরোধের পর বিলটি নিয়ে ভুল হয়েছে বলে ৯৭টাকার আরেকটি বিল তৈরী করে দেন তারা।

এদিকে খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, নিজেদের ইচ্ছেমত বিল তৈরী করে গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ এর অভিনব এই পদ্ধতি অনুসরণ করছে পল্লী বিদ্যুতের এই অফিসটি। গত কিছু দিন আগে মহেশখালী পৌরসভার পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহক মোঃ রফিক ও বড়মহেশখালীর রুবেল এর মিটারেও অতিরিক্ত বিল তৈরী করা হয়৷ পরে অভিযোগের ভিত্তিতে গড়িমসি করে বিল কমিয়ে নতুন বিল তৈরী দেয় কর্তৃপক্ষ।

এদিকে পল্লী বিদ্যুতের এই হয়রানীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় জনসাধারণ। গ্রাহকদের অসচেতনতাকে কাজে লাগিয়ে দুর্নীতির আশ্রয় নেয়ায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের প্রতি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করছে সচেতন মহল। অনেক গ্রাহক এই দুর্নীতি বুঝতে না পেরে অতিরিক্ত টাকা পরিশোধ করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত তাদের।

এই ব্যাপারে মহেশখালী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম বলেন, এই বিষয়ে গ্রাহকদের বেশ কিছু অভিযোগ পেয়েছি। যাছাই বাছাই করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে৷ কেন প্রতিমাসে এরকম ভুয়া রিডিং এ বিল তৈরী হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি৷

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •