মোসলেহ উদ্দিন, উখিয়া:
সমুদ্র উপকুলীয় এলাকা উখিয়ায় সাগরপথে মানবপাচার ফের শুরু হয়েছে। সম্প্রতি উখিয়া উপজেলা সম্মেলন কক্ষে মানবপাচার বিরোধি সেবা সংস্থা ইপসার উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের কিছু দরিদ্র জনগোষ্টি পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে সাগরপথে পাড়ি দিচ্ছে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে।

তারা বলেন, চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে সকলকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। অর্ধশতাধিক থাইল্যান্ড সীমান্তের গভীর জঙ্গলে রোহিঙ্গার কংকাল উদ্ধারের খবরে এবং সেন্টমার্টিনে অদুরে সমুদ্রে ট্রলার ডুবিতে পাচারি নারী পুরুষ মারা যাওয়ার ঘটনায় দেশ জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলে প্রশাসনের মধ্যে টনক নড়ে।

রোহিঙ্গা ও স্থানীয় পেশাদার মানব পাচারকারীরা উখিয়ার উপকূল ও টেকনাফের শাহ পরীর দ্বীপ দিয়ে প্রতিনিয়ত সাগর পথে মানব পাচার চলছে। গত মঙ্গলবার রাতে রাজাপালং এলাকায় গাড়ির জন্য অপেক্ষমান ১১জন রোহিঙ্গাকে স্থাণীয় গ্রামবাসী আটক করে উখিয়া থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করেছে। এ নিয়ে পুলিশ গত ২ দিনে ২৮জন রোহিঙ্গাকে ক্যাম্পে ফেরত পাঠিয়েছে এবং ২জন মানব পাচারকারী বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় মানব পাচার আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে বলে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মর্জিনা আকতার মর্জু জানিয়েছেন।

উখিয়া থানার এসআই রাজু আহমদ গাজী জানান, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে একজন দুজন করে রোহিঙ্গা রাজাপালং জাদিমোরা এলাকায় এসে জড়ো হতে থাকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে রোহিঙ্গারা তাদের ভাড়া করা গাড়ি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে পুলিশ পিছু ধাওয়া করে গাড়ীসহ রোহিঙ্গাদের আটক করা হয়। আটক কৃত রোহিঙ্গারা হচ্ছে বালুখালী ক্যাম্পের ছলিমের মেয়ে নুর কায়দা (১৮), থাইংখালী ক্যাম্পে বশির আহমদের মেয়ে জেসমিন (১৮), থাইংখালী ক্যাম্পের আব্দুর শুক্কুরের মেয়ে আনু (১৮) কুতুপালং ক্যাম্পের আলী আহমদের মেয়ে সামসিদা (১৭), কুতুপালং ক্যাম্পের নাজিমুল্লার ছেলে হারেজ (১৩), কুুতপালং ক্যাম্পের ছলামত উল্যাহর মেয়ে রোকেয়া (১২), জামতলী ক্যাম্পের আবু নাসিরের মেয়ে রকিমা (১২), একই ক্যাম্পের ছলিমুল্লার মেয়ে দিলদার (১৩), বালুখালী ক্যাম্পের ইমাম হোসেনের মেয়ে শফিকা (১৫), ইমাম হোসেন ছেলে নবী হোসেন (১৮), বালুখালী ক্যাম্পের ইয়াছিনের ছেলে মোহাম্মদ ইদমি (১৮)।

এর আগের দিন সোমবার ২৪ই ফেব্রুয়ারী রাত ১০টার দিকে ইনানী পুলিশ জালিয়াপালং ইউয়িনের উপকূলীয় জনপদ চারাবটতলী এলাকায় মেরিন ড্রাইভের অদূরে নৌকার জন্য অপেক্ষমান ২ দালালসহ ১৭জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে ইনানী পুলিশ ফাড়িঁর ইনচার্জ সিদ্ধার্থ সাহা জানিয়েছেন। উদ্ধারকৃত মালয়েশিয়া যাত্রীরা হচেছ হোসেন মোহাম্মদ (১৮), পিতা: আব্দুল মজিদ, কুতুপালং ক্যাম্প, মো: রাশেল (১৮), পিতা: কামাল আহম্মদ, কুতুপালং ক্যাম্প, মো: নুরুল আমিন (১৬), পিতা: আবুল কালাম, থাইংখালী, ছৈয়দুল্লাহ (১৬), পিতা: মো: ইসলাম, কুতুপালং ক্যাম্প, হামিদা বানু (১৮), পিতা: আব্দুল হামিদ, বালুখালী ক্যাম্প, রুমা আক্তার (১৮), পিতা: নুরুল হাকিম, কুতুপালং ক্যাম্প, হাসিনা বেগম (১৭), পিতা: মো: সিদ্দিক, কুতুপালং ক্যাম্প, পারমিনা আক্তার (১৮), পিতা: আলী হোছন, টেকনাফ জাদিমোরা ক্যাম্প, লায়লা বেগম (১৮), পিতা: আবু তালেব, উনচিপ্রাং ক্যাম্প, শাহানা বেগম (১৭), পিতা: মো: সেলিম, চাকমারকুল ক্যাম্প, তাহমিনা বেগম (১৮), পিতা: আবুল কালাম, কুতুপালং ক্যাম্প, জান্নাত আরা (২০), পিতা: জাফর আলম, বালুখালী ক্যাম্প, শাহানা আক্তার (১৫), পিতা: কবির আহম্মদ, কুতুপালং, ছেনোয়ারা (১৮), পিতা: ইউসুফ আলী, কুতুপালং, মো: ফাহিম (২০), পিতা: ছৈয়দুল আমিন, কুতুপালং।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, জালিয়াপালং ইউনিয়নের দক্ষিন নিদানিয়া গ্রামের মৃত লোকমান হাকিমের ছেলে নুরুল আমিন (৪২) ও বড় ইনানী গ্রামের সাবেক মেম্বার সলিমুল্লার ছেলে মো: শোয়েব (৩০) সহ ২ দালালের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় পৃথক ২টি মামলা রজু করা হয়েছে। তিনি জানান, মানব পাচার আর মাদক এর বিরুদ্ধে তিনি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরন করবেন। তিনি বলেন, উখিয়াতে থাকা অবস্থায় আইনশৃঙ্খলার উন্নতিসহ একটি অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •