মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

বেতন বৈষম্য নিরসনসহ ছয় দফা দাবি আদায়ে সারাদেশের মতো ৩ দিন ব্যাপী পূর্ণ দিবস লাগাতার কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিবস পালন করেছে কক্সবাজার কালেক্টরেট সহকারী সমিতি। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার হতে আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলবে কেন্দ্র ঘোষিত তিনদিনের এই লাগাতার কর্মবিরতি। কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে বুধবার ২য় দিনের এ কর্মবিরতি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করা হয়। কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সমিতির ১১৭ জন সদস্য নিয়ে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচী অনুসারে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কর্মবিরতি চলছে।

চলমান আন্দোলনের কর্মসূচী বিষয়ে কক্সবাজার কালেক্টরেট সহকারী সমিতির সভাপতি নাজির স্বপন কান্তি পাল বলেন, সারাদেশের মতো কক্সবাজারেও শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চলছে। ৩৩ বছর ধরে একই পদে বসে আছি। আমাদের পরে এমএলএসএস পদে চাকুরীতে প্রবেশ করে সহকারি কমিশনার বা নন ক্যাডারে উপসচিব পর্যন্ত পদোন্নতি পেয়েছেন। অথচ তাদের অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতা আমাদের চেয়ে অনেক কম। আমাদের নিয়োগের শুরুর পদ ‘সহকারী’ থেকেই চাকুরীর শেষ বয়সে বিদায় নিতে হয়। দেশের হাজার হাজার কর্মচারি আমাদের মতো এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে অসহায় ও মানবেতরভাবে চাকুরীতে আছেন। প্রবীণ বয়সেও আমরা পরিবার পরিজন, সমাজের কাছে ছোট হয়ে থাকি। তাই অনেকটা বাধ্য হয়ে ন্যুনতম সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে আকুতি জানিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি।

কক্সবাজার জেলা কালেক্টর সহকারী সমিতির সাধারন সম্পাদক ফরিদুল আলম ফরিদ বলেন, আমরা শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়মতান্ত্রিক ভাবে, কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচী পালন করছি। কর্তৃপক্ষকে অনেকবার আলটিমেটাম দিয়েছি। তাতেও আমাদের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় টানা কর্ম বিরতিতে আসতে আমরা বাধ্য হয়েছি। আমরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কমবিরতিতে যেতে চাই না। তবে লাগাতার কর্মসূচীতে আমাদের দাবি আদায় না হলে কঠোর কর্মসূচী পালনে আমরা বাধ্য হবো। কালেক্টরেট সহকারী সমিতির সাধারন সম্পাদক ফরিদুল আলম ফরিদ তাদের সমিতির ১১৭ সদস্যের সকলেই কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচী যথাযথভাবে পালন করায় তাঁদের ধন্যবাদ জানান।
কালেক্টরেট সহকারী সমিতির সাধারন সম্পাদক ফরিদুল আলম ফরিদ আরো বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের সচিব থেকে শুরু করে একজন অফিস সহায়ক পর্যন্ত সবাই প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, যারা ২০টি গ্রেডে বিভক্ত। এরমধ্যে ১১ তম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা বরাবরই বৈষম্যের শিকার। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে অনেক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। হয়তো কিছু কিছু ক্ষেত্রে অল্প কিছু সাফল্য এসেছে—যা আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম। আমরা চাই, সরকার দাবিগুলো মেনে নিয়ে আমাদের প্রত্যাশাগুলো পূরণ করুক।’
সাধারন সম্পাদক ফরিদুল আলম ফরিদ সিবিএন-এর কাছে তাঁদের দাবিগুলো তুলে ধরেন, দাবিগুলো হচ্ছে— নবম পে-কমিশন গঠন এবং বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কমপক্ষে ২০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি করতে হবে, সচিবালয়ের মতো সচিবালযয়ের বাইরে কর্মরত সব পর্যায়ের কর্মচারীদের পদবি ও বেতন বৈষম্য দূর করতে হবে, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার ১০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে; ১- ৬ গ্রেডের কর্মকর্তাদের মতো ১০ শতাংশ ও বার্ষিক মূল্যহ্রাস পদ্ধতিতে বিনা সুদে গাড়িঋণ সুবিধার মতো ১০ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদেরকে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা বিনা সুদে গৃহনির্মাণ সুবিধা প্রদান করতে হবে, রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত কর্মচারীদের চাকরি গণনা, অযাচিত ২০ শতাংশ পেনশন কর্তনের হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং কল্যাণ তহবিলের অর্থ লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করতে হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
cbn