মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাজাহান আলি বলেছেন, কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প সম্প্রসারণে ‘অ্যাকোয়াহোলিক ট্যুরিস্ট ক্যারাভ্যান’ বাসটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ অঞ্চলের পর্যটন শিল্পে নতুন দিগন্তে উম্মোচিত হবে। পর্যটক ও ভ্রমনকারিরা বৈচিত্র্য ও নতুনত্বের স্বাদ পাবে। কক্সবাজার পর্যটনের প্রতি আগ্রহ বাড়বে।দেশের প্রথম ট্যুরিস্ট ক্যারাভ্যানের যাত্রার মাধ্যমে এক মাইলফলক সৃষ্টি হলো। এ কারণেই বাসটি পরিচালনায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সম্ভব সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

বুধবার ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে পর্যটক বাস ‘অ্যাকোয়াহোলিক ট্যুরিস্ট ক্যারাভ্যান’ সার্ভিসটির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাজাহান আলি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পর্যটকদের সুবিধার জন্য কক্সবাজার থেকে সাগরঘেঁষে টেকনাফমুখী মেরিন ড্রাইভ সড়কে চালু করা হয়েছে ‘অ্যাকোয়াহোলিক ট্যুরিস্ট ক্যারাভ্যান’ নামে এই বিশেষ বাস সেবা।

অ্যাকোয়াহোলিক ট্যুরিস্ট ক্যারাভ্যানের কর্মকর্তারা জানান, ‘অ্যাকোয়াহোলিক ট্যুরিস্ট ক্যারাভ্যান’ নামে নতুন বাস চলবে ম্যারিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে, যা দেশের কোনো পর্যটক স্পটে এই প্রথম। এটি চলাচল করবে কলাতলী থেকে টেকনাফ জিরো পয়েন্ট হয়ে আবার কলাতলী পর্যন্ত। ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে জনপ্রতি ২ হাজার টাকা। প্রতিদিন সকাল ৯টায় কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে ছেড়ে যাবে এই বাসটি।

১০ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বন্ধুর উদ্যোগে এক কোটি টাকা ব্যয়ে চালু হয়েছে এ বিশেষ ছাদখোলা দোতলা বাস। এসব শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পড়াশোনা শেষ করে বেরিয়েছেন। তাদের মধ্য তিনজন এখনো পড়াশোনায় রয়েছেন। পাশাপাশি এ বাস সার্ভিসটি পরিচালনা করবেন। কয়েকটি কাউন্টার ছাড়াও ওয়েবসাইটেও (www. aquaholic.com.bd) এ বাসের টিকিট ক্রয় করা যাবে।

অ্যাকোয়াহোলিক ট্যুরিস্ট ক্যারাভানের ব্যবস্থপনা পরিচালক তানজীল আহমেদ বলেন, বর্তমানে বাস একটি। আসন সংখ্যা উপরে ৩৬টি, নিচে ১২টি। ধাপে ধাপে চাহিদা অনুযায়ী বাসের সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে। চালু করা ট্যুরিস্ট বাসটি আশাকরি কক্সবাজারের পর্যটনে অগ্রণী ভুমিকা পালন করবে। বিশেশত্ব সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ। পর্যটনের প্রসারের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের বাস সার্ভিস চালু আছে। এ বাসের বিশেষত্ব হচ্ছে ছাদ খোলা। বাসের চাদের উপর বসে আনন্দে ভ্রমন করা যাবে। পর্যটকেরা বিনোদনের মাধ্যমে ভ্রমণ করতে পারে। আর মেরিন ড্রাইভ হচ্ছে বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকতে। এই সড়কটির দু’পাশের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের প্রসারের জন্য মূলত এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, দেশের প্রথম মেরিনড্রাইভ সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ ছিলো। ছোট পরিবহনে ভ্রমণ করতো আগত দেশি-বিদেশি পর্যটকরা।
উদ্বোধনের পর প্রধান অতিথি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাজাহান আলি, দৈনিক সমুদ্রকন্ঠের সম্পাদক অধ্যাপক মঈনুল হাসান পলাশ, উদ্যোক্তা মিনহাজ সহ অতিথিদের নিয়ে বাসটি যাত্রা শুরু করে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •