মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

সারা বাংলাদেশে একযোগে কালেক্টরেট সহকারী সমিতির টানা তিনদিন এর কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। ২৫ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার হতে ২৭ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলবে কেন্দ্র ঘোষিত এই লাগাতার কর্মবিরতি। কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে মঙ্গলবার প্রথমদিনের এ কর্মবিরতি পালন করা হয়।

বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসন, উপজলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) এর কার্যালয়ের মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কর্মচারিদের গ্রেড ১৩ -১৬ পদবি পরিবর্তন ও বেতন গ্রেড উন্নীতকরনের দাবিতে এ কর্মবিরতি শুরু হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সমিতির ১১৭ জন সদস্য নিয়ে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচী অনুসারে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কর্মবিরতি চলছে। উল্লেখ্য, গত ২০ থেকে ২১ জানুয়ারি, ২২ থেকে ২৩ জানুয়ারি যথাক্রমে সকাল ৯ থেকে ১১টা এবং সকাল ৯টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালিত হয়েছিলো। এতে তাদের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় পুণরায় এ কর্মবিরতি পালিত হচ্ছে বলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল আলম ফরিদ সিবিএন-কে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কক্সবাজার কালেক্টরেট সহকারী সমিতির সভাপতি নাজির স্বপন কান্তি পাল বলেন, সারাদেশের মতো কক্সবাজারেও শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চলছে। ৩৩ বছর ধরে একই চেয়ারে একই পদে বসে আছি। আমাদের পরে এমএলএসএস পদে চাকুরীতে প্রবেশ করে সহকারি কমিশনার বা নন ক্যাডারে উপসচিব পর্যন্ত পদোন্নতি পেয়েছেন। অথচ তাদের অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতা আমাদের চেয়ে অনেক কম। দেশের হাজার হাজার কর্মচারি আমাদের মতো এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে অসহায় ও মানবেতরভাবে চাকুরীতে আছেন। প্রবীণ বয়সেও আমরা পরিবার পরিজনের কাছে ছোট হয়ে থাকি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি খুব ভালোভাবেই জানেন। তিনি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনাও দিয়েছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হীনমন্যতার জন্য আমাদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি পূরণ করা হচ্ছে না। যা মোটেও কাম্য নয়।

কক্সবাজার জেলা কালেক্টর সহকারী সমিতির সাধারন সম্পাদক ফরিদুল আলম ফরিদ আরো বলেন, আমরা শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়মতান্ত্রিক ভাবে, কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে কর্মসূচী পালন করছি। কর্তৃপক্ষকে অনেকবার আলটিমেটাম দিয়েছি। তাতেও আমাদের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় টানা কর্ম বিরতিতে আসতে আমরা বাধ্য হয়েছি। আমরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কমবিরতিতে যেতে চাই না। ইতোমধ্যেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পুনরায় দাবি বাস্তবায়ন করতে সদয় সম্মতি দিয়েছেন বলে আমরা জেনেছি। আশাকরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং আমাদের যৌক্তিক দাবি সরকার মেনে নেবেন।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট দপ্তর সমুহে এমনিতেই কর্ম অনুযায়ী প্রচুর জনবল সংকট। তারমধ্যে কক্সবাজার জেলা কালেক্টর সহকারী সমিতির সদস্যদের লাগাতার কর্মবিরতির কারণে সংশ্লিষ্ট অফিস গুলোতে ফাইলের স্তুপ জমে যাচ্ছে। চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে সেবাপ্রার্থীরা। সেবাপ্রার্থীরা কোন সেবা না পেয়ে অসহায় হয়ে ফিরে যাচ্ছে দপ্তর গুলো থেকে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •