মোঃ নিজাম উদ্দিন, চকরিয়া:
চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ক্রীড়া সংসদ থেকে ৮ জুয়াড়িকে আটক করেন থানা পুলিশ। এসময় জুয়া পরিচালক সহ পালিয়ে যায় আরো ৫ জুয়াড়ি।
রবিবার দিবাগত রাত ৯ টার দিকে ডুলাহাজারা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের পূর্ব প্রান্তে ক্রীড়া সংসদ কার্যালয়ের জুয়ার আসর থেকে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়।
আটকদের মধ্যে পরিচয় পাওয়া সাত জন হলো, স্থানীয় নতুন পাড়া (৮নং ওয়ার্ড) এলাকার জামাল হোছনের ছেলে মাইন উদ্দিন (৩০), একই এলাকার মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে নবীর হোছন বাবুর্চি (২৮), কবির আহমদের ছেলে নরুল হুদা (৩৫), আব্দুল মালেক মিস্ত্রির ছেলে মোঃ রিপন (২৭), বালুচর ষোলহিচ্ছা (৫নং ওয়ার্ড) এলাকার মোঃ শাহা আলমের ছেলে মোঃ ওসমান (২৮), একই এলাকার মৃত আফুয়াজ উদ্দিনের ছেলে কফিল উদ্দিন (৪৫) ও মোস্তাক আহমদের ছেলে শামসুদ্দীন (২৮)।
পুলিশ জানান, ডুলাহাজারা ক্রীড়া সংসদে নিয়মিত জুয়ার আসর বসার খবর পেয়ে ওসি মোঃ হাবিবুর রহমানের নির্দেশে, উপপরিদর্শক (এসআই) থুয়াই চাক মং ও মিজানুল হকের নেতৃত্বে, এএসআই মোঃ ওয়াসিম উদ্দিন ও মোঃ লুৎফর রহমান সহ একদল পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। এসময় জুয়ার আসর থেকে আট জুয়াড়িকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়া পরিচালক সহ কৌশলে পালিয়ে যায় আরো পাঁচ জুয়াড়ি।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ছেলেরা খেলাধুলায় দেশ-বিদেশে অত্যন্ত সুনাম অর্জন করছে। ফুটবলে জাতীয় দলের হয়ে বহির্বিশ্বে খেলছে ডুলাহাজারা ইউনিয়নের চার কৃতী সন্তান। তাদেরও প্রশিক্ষণের প্রাথমিক স্থর ছিল ডুলাহাজারা ক্রীড়া সংসদ। কিন্তু সঠিক পরিচালনার অভাবে সেখানে এখন প্রতিনিয়ত চলছে অবৈধ জুয়া ও বিভিন্ন অপকর্মের আসর। এ আসরের পাশেই রয়েছে জুয়াড়িদের মা-বাবা, দাদা-দাদী’র পবিত্র কবরস্থান। তাদের বিভিন্ন অপকর্মে কবরস্থানের পবিত্রতা বিনষ্ট করছে বলে অভিযোগে জানায় স্থানীয়রা। সচেতন মহল থানা পুলিশের এ অভিযানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
চকরিয়া থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, ডুলাহাজারা ক্রীড়া সংসদ কার্যালয়ে জুয়ার আসর বসার খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। এসময় হাতেনাতে আট জুয়াড়িকে আটক করা হয়। আটকদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •