নীতিশ বড়ুয়া, রামু:

রামুতে দুই দিন ব্যাপী ঐতিহাসিক ইসলামী মহাসম্মেলনের সমাপনী দিবসে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি বলেছেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) হচ্ছেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং প্রথম রাষ্ট্র বিজ্ঞানী। আজকের প্রথিবীতে যে জাতি গঠন হচ্ছে, সে জাতির মাধ্যমে গঠিত রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যে সংবিধান হচ্ছে তা সর্বপ্রথম মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) শিক্ষা দিয়েছিলেন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) যখন মদিনা গমন করেছিলেন তখন মদিনায় বসবাসরত বিভিন্ন গোত্রদের সাথে একটি লিখিত চুক্তি করেছিলেন। যা শুধু ইসলামের ইতিহাসে নয়, পৃথিবীর ইতিহাসের প্রথম সংবিধান হিসেবে বিশ্বে স্বীকৃত।

সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি বলেন, দুনিয়ায় যে আজকে রাষ্ট্র সৃষ্টি হচ্ছে, বিচারালয় সৃষ্টি হচ্ছে, সংবিধান সৃষ্টি হচ্ছে এসব মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এর মদিনা সনদ থেকে অনুসৃত, অনুকরনীয় এবং অনুস্মরনীয়। তিনি বলেন, আজকে পৃথিবীতে যে জাতি জাতি বা রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে মিলে যুদ্ধের যে নীতিমালা তৈরী হচ্ছে, সেই নীতিমালাও কিন্তু মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এর ৬৩০ খৃষ্টাব্দে যে বদরের যুদ্ধ হয়েছিল সেই বদরের যুদ্ধ থেকে অনুসৃত হয়েছে।

এমপি কমল বলেন, নবীজি শিক্ষা দিয়েছেন যুদ্ধের পরাজিত বন্ধীদের ক্ষমা করার। যুদ্ধের সময়ে কোন শিশুকে হত্যা করা যাবেনা, কোন নারীকে ষ্পর্শ করা যাবেনা, কোন বৃদ্ধকে আক্রমন করা যাবেনা। যুদ্ধের সময়ে মসজিদ, মন্দির, গীর্জা বা কোন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আক্রমন করা যাবেনা। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) আমাদেরকে সে সময়েই সম্প্রীতির কথা জানিয়ে দিয়ে ছিলেন।

সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র মিয়ানমারে গণহত্যার বিচার দাবী করে বলেন, আমরা যদি সকলে ইনসাফের সাথে কলপ পরীস্কার করতে পারি, এই পৃথিবীতে আর কোন দাঙ্গা, হানাহানি, সংঘাত থাকবে না। সুন্দর হয়ে যাবে আমাদের পৃথিবী। সকলের ভালবাসা নিয়ে ইসলামের পতাকা উড়াতে অতীতের মতো ইসলামী মহাসম্মেলন যেন আগামীতেও অব্যাহত থাকে তারজন্য তিনি আর্থিকসহ সকল প্রকার সহযোগীতা করার ঘোষনা দেন।

ইসলামী সম্মেলন পরিষদ রামুর ব্যাবস্থাপনায় শনি ও রবিবার (২২ ও ২৩ ফেব্রুয়ারী) দু’দিন ব্যাপী ৩৫ তম ইসলামী মহাসম্মেলনের তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।

রামু স্টেডিয়ামে আয়োজিত ইসলামী মহাসম্মেলনে প্রধান বক্তার তাশরিফ করেন, আন্তর্জাতিক ইসলামী চিন্তাবিদ, বিশ্বখ্যাত মুফাচ্ছিরে কুরআন, আল্লামা হাফিজুর রহমান ছিদ্দীক, কুয়াকাটা, বরিশাল। তিনি বলেন, কুরআন-সুন্নাহর বিধানের যথার্থ বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে প্রকৃত মুসলমানিত্বের পরিচয় দিতে হবে। আজ কুরআন-হাদীসের নির্দেশিত পথ থেকে সরে গিয়ে নিজেরা বিভাদে জড়িয়ে পড়ার কারণে ইসলামের দুশমনেরা আস্ফালন দেখানোর সুযোগ পেয়ে বসেছে। এ সুযোগ দেয়া যাবেনা। সকল বিদ্বেষ-প্রতিহিংসা পরিহার করে সুদৃঢ় ঐক্য স্থাপন করতে হবে।

মহাসম্মেলনে বিশেষ বক্তার তাশরিফে চট্টগ্রাম ওমর গণি এমইএস বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রাক্তন চেয়ারম্যান, বিদগ্ধ ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক ও গবেষক ড. আ.ফ.ম খালিদ হোসেন বলেছেন, বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মাহ চরম সঙ্কটকাল অতিক্রম করছে। এ সঙ্কট উত্তরণে সকল ভেদাভেদ ভুলে মুসলিম উম্মাহকে শীসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি আরো বলেন, করোনা ভাইরাস আল্লাহর গজব। বান্দাহরা যদি আল্লাহর হুকুম ও রাসুল স. এর আদর্শচ্যুত হয়ে যায় তাহলে এরকম আরও ভয়াবহ আসমানী গজব নেমে আসবে। অতএব হক্কানী ওলামা-মশায়েখের পদাঙ্ক অনুসরণ করে কুরআন-সুন্নাহর ওপর আমল করাই মানবতার মুক্তির একমাত্র পথ। আলোকিত সমাজ বিনির্মাণে ওলামায়েকেরামের অনবদ্য অবদান তুলে ধরে ড. আ.ফ.ম খালিদ হোসেন বলেন, স্বার্থান্বেষী মহল ওলামায়েকেরামের মধ্যে অনৈক্য তৈরি করে ইসলামের ক্ষতি সাধনে তৎপর রয়েছে। এসব চক্রান্তের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে। কওমী-আলিয়া ভেদাভেদ ভুলে উদারতা সংহতি, সম্প্রীতির বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে বৃহত্তর ঐক্য স্থাপন করতে পারলে অনতিবিলম্বে এ দেশে ইসলামের ঝান্ডা উড্ডীন হবে ইনশাআল্লাহ। তিনি মহানবী স. এর শাশ্বত আদর্শের আলোকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার উপরও গুরুত্বারোপ করেন।

ইসলামী মহাসম্মেলনে বিশেষ বক্তা ছিলেন, আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ায় সহকারী মহাপরিচালক মাওলানা আবু তাহের নদভী, টেকনাফ জামিয়ার মহাপরিচালক আল্লামা মুফতি কিফায়ত উল্লাহ শফিক, রাজঘাটা মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা ছৈয়দ আলম আরমানী, জামিয়া আহলিয়া মঈনুল ইসলাম হাটহাজারীর শিক্ষক মাওলানা নুরুল ইসলাম সাদেক, কক্সবাজার বদরমোকাম জামে মসজিদের খতীব মাওলানা আব্দুল খালেক নিজামী, বিশিষ্ট আলেম মাওলানা আলী হায়দার গাজিপুরী, টেকনাফ ইসলামিয়া আজিজুল উলুম মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা মুফতি রিদওয়ানুল কাদির।

বিভিন্ন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন, রামু ইসলামী সম্মেলন পরিষদের সভািপতি আল্লামা মুফতি মোরশেদুল আলম চৌধুরী, ধাউনখালী খলিলিয়া ছিদ্দিকিয়া ফয়জুল উলুম মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ মুসলিম, রামু কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমপ্লেক্সের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ তৈয়ব, রাজারকুল আজিজুল উলুম মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মোহাম্মদ মোহছেন শরীফ, রামু ইসলামী সম্মেলন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, রামু জামেয়াতুল উলুম মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা হাফেজ শামসুল হক। সম্মেলন সঞ্চালনায় ছিলেন, রামু ইসলামী সম্মেলন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক এস. মোহাম্মদ হোসেন, মাওলানা মুফতি কামাল হোসাইন, মাওলানা কাজী এরশাদুল্লাহ। বিশেষ মুনাজাতের মধ্যদিয়ে মহাসম্মেলন সম্পন্ন হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •