বেলা গেলে সাধন হবে না!!

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১২:৪৫ , আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১০:৫৮

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে


আলমগীর মাহমুদ

দুই এক কিলে ভাল মানুষের ইজ্জত যায় না ভাবিয়া সত্য সাহস করিয়া আপনাগোরে কইয়া গেলাম। “রোয়াইঙ্গা আসার পর দখিনের স্কুল, কলেজগুলোতে আপনাগো ছেলেমেয়েরা পাঠ নিতে আসে না। সবাই যেন কাজীর গরু কেতাবে আছে , গোয়ালে নেই” !

আরাকান রোডের গাড়ীতে চেপে কলেজের অট্টালিকায় চোখ পড়তেই তারপরও আপনার বুক ফুলিয়া ফ্যাপিয়া উঠে। ভাবনা কয়, মাশাল্লাহ আমার ছেলেমেয়েরা রোয়াইঙ্গা ক্যাম্পে ৪০ — ৮০ হাজার মাইনার চাকরি ও করে এই কলেজেও পড়ে। কামাইও হইবে, বিএ/ বি,এ অনার্স ডিগ্রিও হইবে।

ষ্টেশনের কম্পিউটারে বানানো সার্টিফিকেটের বিএ/ এম,এ .. পাশে N.G.O চাকরি, আসল সার্টিফিকেট আসিবে যখন, নগদ নারায়ণও থাকিবে তখন—টেকায় কে !

দখিনের মা, বাবার ভাবনা আজ ছেলেরে মানুষ করা নয়, সার্টিফিকেটধারী করা । জ্ঞান, স্কুল কলেজের পাঠ তার নিকেশে নেই !

এমন চিন্তায় দখিনের পাঠশালাগুলো বনে আছে উপস্থিতিহীন সার্টিফিকেটের কারখানা।

ছাত্র শিক্ষক নেই চেনাজানাও। পরীক্ষা পাশে প্রতিষ্ঠানে/ গুরুগৃহে মিষ্টান্ন সে যেন নয় আজ আর্শীবাদের! অনর্থক অপচয়, অপব্যয়ই! কথাটা কেউ নাড়াচাড়া করিলে উত্তর আসে ‘ এখন কি আর ঐ যুগ আছে ?

গবেষক, শিক্ষক, বিজ্ঞানী ঘরনার ছাত্রছাত্রীর আশায় সন্মান শ্রেণি খোলা হয়। ধার্য ৫০ জন। কাগজে ৫০ জনই , বাস্তবে মেলে না তাদের দেখা।

প্রেসারে রাখলে কয়, ৪০-৮০ হাজার বেতন কি স্যারেরা পায়? আমাদের ইনকাম স্যারদের সহ্য হচ্ছে না। বহুতভেবেই আমরা পড়ালেখাটারে রেখেছি ‘অপসনাল’।

৬০% উপস্থিতির কথা বিধিতে আছে। এইকারনে পরীক্ষায় বসতে না দিলে দিব না।

রাজনীতি বিজ্ঞানের বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ আলী অনার্সের ফরমফিলাপে আসতে ফোনে বার বার তাগাদায় গার্ডিয়ান রাগতস্বরে উত্তর করে আমার মেয়ে ৪০ হাজার মাইনায় রোয়াইঙ্গা ক্যাম্পের চাকরীতে সে পরীক্ষা দিবে না । ছাত্রীটিও সাফ জানায় স্যার বার বার ফোন করলে আমার বাবা বিব্রত হন!

জরিমানার বিধান আছে। এই বিধিতে ছাড়া পেলে মহাখুশি।

পড়ালেখা চাকরি সহবস্থানে রেখে চাকরীর বন্ধের দিন এরপর একদিন সপ্তাহে অন্তত দু’দিন আসতে প্রেষণায়ও আসছে না সুফল।

ফাইনাল পরীক্ষায় ড্রপ দিয়ে যায় N.G.O নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে। প্রজেক্ট শেষ মোবাইল নিয়ে পড়ে রয় আসেনা পাঠশালায়। চাকরি করে না তারাও পাঠশালা বিমূখ। আবার অনেকে পাঠশালায় আসলেও ক্লাসে বসছে না। গার্ডিয়ান নির্বিকার।
খবর পাঠানোর পরও গরজবোধ করছে না একটিবার বিদ্যাপীঠে গিয়ে খবর নেবার !

মাধ্যমিকের পাওয়া তথ্য আরো রম্য। S.S.C ফেল করে দ্বিতীয়বারের কথা বলছে না তারা। বলছে ফেল করছি কি অইছে আই,এ বিএ পাশই বনব , সাড়ে তিন শ টাকায় আই,এ/ বি, এ সার্টিফিকেট দখিনের স্টেশনগুলোতে কম্পিউটারের দোকানে পাওয়া যায়। এই সনদে রোয়াইঙ্গার চাকরি নেব।

করোনা ভাইরাস চীনকে করেছে অচিন। রোয়াইঙ্গা ভাইরাস উখিয়া টেকনাফের পড়ুয়াদের মেধা মননকে করেছে হুশহীন। ভাবছে শুধু ”টিঁয়া থাইলেই মিয়া”!

যখন কক্সবাজারের মাটিতে পাওয়া গেছে আণবিক বোমার উপাদান ইউরেনিয়াম। নৈসর্গিক নিসর্গ খনিজের এই এলাকাটি যখন বিশ্বের উন্নত মানুষের আকাঙ্খার ধন বনছে ঠিক সে সময়েই এই মাটির প্রজন্মরা ছাড়ছে স্কুল, কলেজ , জ্ঞান, গরিমা, গুরু, গবেষণা —বিষয়টি ভাববার, গবেষণার..!!

 

লেখকঃ- বিভাগীয় প্রধান। সমাজবিজ্ঞান বিভাগ। উখিয়া কলেজ , কক্সবাজার।
[email protected]

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •