সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমীর উদ্যোগে আয়োজিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান একুশে ফেব্রুয়ারির আলোচনা সভায় বক্তাগণ তৃণমূলের ভাষাসংগ্রামীদের মূল্যায়নের আহবান জানিয়েছেন।

বক্তাগণ বলেন, ১৯৫২ সালের মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার নিশ্চিত করার জন্য তৎকালীন প্রাদেশিক রাজধানী ঢাকায় বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বুলেটের আঘাতে তরুন ছাত্র-জনতা, শ্রমিক পিচঢালা রাজপথে লুটিয়ে পড়েছিলো। ঢাকার বুকে মিছিলে পুলিশের গুলিবর্ষনের প্রতিবাদে সারা পূর্ব-পাকিস্তান গর্জে উঠেছিলো। বিশেষ করে জেলা শহর, মহকুমা শহরসহ প্রত্যন্ত গ্রামেও ভাষা আন্দোলনকে বেগবান করার জন্য মিটিং, মিছিল, ঘেরাও, আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিলো। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে বেগবান করার জন্য প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেসব অকুতোভয় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এসেছিলো বর্তমান প্রজন্ম তাদেরকে চিনেন না ও জানেন না। এখন সময় এসেছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের এসব ভাষা সংগ্রামীদের চিহ্নিত করে মূল্যায়ন করা হোক। এতে করে সে সব ভাষা সংগ্রামী যেমন নিজেদের কাজের স্বীকৃতি পাবে তেমনিভাবে এপ্রজন্মের মধ্যে তারা পরিচিতি লাভ করবেন।

সাহিত্য একাডেমীর ৪৬৬তম পাক্ষিক সাহিত্য সভা ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন একাডেমীর সভাপতি মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম। আলোচনা সভা ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ শনিবার বিকালে কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভা কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তাগণ আরো বলেন, আল্লাহ তা’আলা মাতৃভাষাকে সর্বাধিক গুরুত্বারূপ করেছেন। সে জন্যই কুরআন করিমের একাধিক স্থানে আল্লাহ তা’আলা আরববাসীর উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘আমি আরবি ভাষায় এই কুরআন নাযিল করেছি, যাতে আরবি ভাষাভাষী আরববাসী এটা বুঝে পড়তে পারে।’ অথচ পাকিস্তানিরা আমাদের মায়ের ভাষা মাতৃভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিলো। কিন্তু এদেশের আমজনতা তাদের সেই প্রচেষ্টা রুখে দিয়েছে। যার ফলশ্রুতি আজকের আমাদের লাল-সবুজের একটি পতাকা, একখণ্ড স্বাধীন-সার্বভৌম মানচিত্র। ১৯৫২ সালে যদি তারা ব্যর্থ হতো তাহলে আজ আমাদেরকে উর্দু ভাষায় কথা বলতে হতো। এদেশ এখনো স্বাধীন হতো না।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনায় অংশ নেন একাডেমির স্থায়ী পরিষদের চেয়ারম্যান কবি এডভোকেট সুলতান আহমদ, স্থায়ী পরিষদের সদস্য গবেষক নুরুল আজিজ চৌধুরী, স্থায়ী পরিষদের সদস্য ও প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক-কবি দিলওয়ার চৌধুরী, কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমীর সহ-সভাপতি, কক্সবাজার সরকার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছড়াকার মো. নাছির উদ্দিন, একাডেমীর অর্থ সম্পাদক কবি মোহাম্মদ আমিরুদ্দীন, একাডেমির নির্বাহী কমিটির সিনিয়র সদস্য, কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক কথাসাহিত্যিক, কবি সোহেল ইকবাল, একাডেমীর মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক কবি শামীম আকতার, একাডেমীর সদস্য উত্তর নুনিয়াছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জ্যোৎস্না ইকবাল, কক্সবাজার মডেল হাইস্কুলের সিনিয়র শিক্ষক কবি কানিজ ফাতেমা, একাডেমীর নির্বাহী সদস্য জহির ইসলাম ও নির্বাহী সদস্য আবৃত্তিকার কল্লোল দে চৌধুরী।

সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক কথাসাহিত্যিক-গল্পকার সোহেল ইকবাল।

পরে ভাষা আন্দোলন ও অমর একুশে ফেব্রুয়ারি নিয়ে লেখা কবিতা ও ছড়া পাঠ করেন যথাক্রমে সুলতান আহমদ, মো. নাছির উদ্দিন, শামীম আকতার, কানিজ ফাতেমা, জোসনা ইকবাল, জহির ইসলাম, মো. খ্য়ারুল ইসলাম, কল্লোল দে চৌধুরী, সোহেল ইকবাল প্রমুখ।

কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমীর ৪৬৭তম সাহিত্য সভা ২৯ ফেব্রুয়ারি
কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমী ৪৬৭তম পাক্ষিক সাহিত্য সভা আগামী ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। এবারের আলোচনা অনুষ্ঠানে সাহিত্য একাডেমীর নির্বাহী কমিটির সদস্য, কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক গল্পকার-কবি সোহেল ইকবালের সদ্য প্রকাশিত উপন্যাস ‘বেলা শেষের গান’ গ্রন্থের উপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

অনুষ্ঠানে একাডেমীর সংশ্লিষ্ট সকলসহ জেলার কবি-সাহিত্যিক, সাহিত্যামোদিদের যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য একাডেমীর সভাপতি মুহম্মদ নূরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক কবি রুহুল কাদের বাবুল আহবান জানিয়েছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •