মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

আজ ২১শে ফেব্রুয়ারী আন্তর্জতিক মাতৃভাষা দিবস। দেশ-দুনিয়ার ভাষাপ্রেমী মানুষ দিবসটিকে মর্যাদাপূর্ণ কর্মসূচীর মাধ্যমে পালন করছে। কক্সবাজারবাসীও বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে দিবসটি পালন শুরু করেছে।

কক্সবাজারে ১৯৬২ সালে বাঁশ-কাঠের অবকাঠামোতে তৈরি শহীদ মিনার থেকে শুরু করে প্রতিবছর ২১শে ফেব্রুয়ারী সহ নানা দিবসকে স্বাগত জানিয়ে দেশের জন্য প্রাণদানকারী শহীদের প্রতি মানুষ শ্রদ্ধা জানায়। তবে কক্সবাজার জেলাবাসীর অনেকের কাছে এখনো অজানা একটা অধ্যায় হলো- কক্সবাজারের সর্বপ্রথম পাকা শহীদ মিনার কোনটি? কাঁর উদ্যোগে এবং কাঁদের সহযোগিতায় এটি নির্মিত হয়?

এসব বিষয় নিয়ে বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত সহচর, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, কক্সবাজার জেলায় মুক্তিযুদ্ধকালীন সর্বপ্রথম অস্ত্রধারী কমান্ডার, জয় বাংলা বাহিনী’৭১ এর প্রধান এবং বরেণ্য শিক্ষানুরাগী কামাল হোসেন চৌধুরীর সাথে খোলামেলা আলাপচারিতায় তিনি প্রতিবেদনে থাকা ছবিটি দেখিয়ে সিবিএন-কে বলেন, কক্সবাজার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে তাঁর উদ্যোগে ১৯৭২ সালে কক্সবাজারে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রথম পাকা শহীদ মিনার।

৪৭বছর আগের এ ছবিতে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি, তৎকালীন আওয়ামীলীগের তরুণ নেতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক কামাল হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে শহীদ পরিবার, কক্সবাজারে তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক (এসডিও) ওমর ফারুক, সুপরিচিত ম্যাজিষ্ট্রেট চাকমা বাবু, কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মন্ডলী ও ছাত্রবৃন্দ নিয়ে প্রথম ফুল দিতে দেখা যায়। ১৯৭২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি কামাল হোসেন চৌধুরী ১ম শহীদ মিনারটি উদ্বোধন করেন বলে তিনি সিবিএন-এর কাছে দাবি করেন। তাঁর উদ্যোগে এ শহীদ মিনার নির্মাণকল্পে আরো যাঁরা প্রচুর পরিশ্রম করেন, তাঁরা ছিলেন, শিক্ষক বদরুল আলম, শিক্ষক আলহাজ্ব এম.এম সিরাজুল ইসলাম (বর্তমানে কক্সবাজার বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের মহাপরিচালক), শিক্ষক সৈয়দ আহমদ প্রমুখ।

তারও আগে ১৯৬২ সালে কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের জেনারেল সেক্রেটারী কামাল হোসেন চৌধুরী একঝাঁক সংগ্রামী ছাত্র-জনতা নিয়ে কক্সবাজার পাবলিক ইনিষ্টিটিউট অঙ্গনে আমতলায় কাঠ-বাঁশ দিয়ে রাতারাতি একটি শহীদ মিনারের অবকাঠামো নির্মাণ করেছিলেন। পরবর্তীতে কক্সবাজার সরকারী কলেজের প্রথম নির্বাচিত জেনারেল সেক্রেটারি কামাল হোসেন চৌধুরী তাঁর কেবিনেট ও সহযোগী ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে কক্সবাজার কলেজে প্রথম শহীদ দিবস পালন করেন। তাঁদের নেতৃত্বে অনেক আন্দোলন করার পর বর্তমান জেলার শহীদ মিনারটি নির্মাণ করা হয় বলে তিনি জানান। তৎকালীন জেলা প্রশাসক এবং পৌরসভার সহায়তায় নির্মাণ করা হয়েছিল, শহীদ স্মরণীর আজকের এই শহীদ মিনার।

তাছাড়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদের সদস্য, বাংলাদেশ যুবলীগ ও কৃষকলীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার, কক্সবাজার জেলা যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, জেলা কৃষকলীগের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক ও সাধারণ সম্পাদক, কক্সবাজার সদর আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করা এই দেশপ্রেমিক নেতা সিবিএন-কে আরও বলেন, আমি সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করি, মাতৃভাষার জন্যে অকাতরে রক্তদান ও প্রাণ বিসর্জনকারী ৫২এর শহীদের, সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউর, ৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬ এর ছয়দফা, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী ৩০ লক্ষ শহীদান এবং সম্ভ্রম হারানো মা বোনদের। স্বাধীনতা লাভের পরে বঙ্গবন্ধু সরকারের সাড়ে তিন বছরকালে অফিস আদালত, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ও স্কুল কলেজে বাংলা ভাষা ব্যবহারের পূর্ণ প্রচলন হয়।

এই প্রবীনতম জননেতা অতিদুঃখের সাথে সিবিএন-কে বলেন, কক্সবাজার জেলার প্রথম পাকা শহীদ মিনারটিতে উক্ত বিদ্যালয়ের শহীদ ছাত্র-শিক্ষকদের তালিকাটি ভেঙ্গে উপড়ে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে শহীদ মিনারটির যে সংস্কারকাজ চলছে, সেখানে নতুনভাবে শহীদ ছাত্র, শিক্ষক ও উদ্বোধক সহ সংশ্লিষ্ট সকলের নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তিনি। আর তা বাস্তবায়ন হলেই তরুণ প্রজন্ম ইতিহাসের সঠিক ধারণা পাবে এবং আরও বেশি দেশপ্রেম উদ্বুদ্ধ হবে।
তিনি বলেন, ৫২-৫৩ সালে কক্সবাজার স্কুলের সিনিয়র ছাত্র প্রয়াত আমিরুল কবির চৌধুরী (সাবেক বিচারপতি), বাদশা মিয়া (রাজনৈতিক, পেশকার পাড়া), গোলাম রহমান (বাহার ছড়া), জয়নাল আবেদিন (ব্যাংকার, বাহার ছড়া) প্রমুখের নেতৃত্বে কক্সবাজারে ভাষা আন্দোলনের সূচনা হয়।

  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •