শিক্ষায় আলোকিত মানুষেরাই যুগযুগ ধরে বেঁচে থাকে : লে.কর্ণেল ফোরকান আহমদ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

আদর্শ শিক্ষায় কৃতিত্বের সাথে শিক্ষিত হওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর সংবর্ধনা দেয়ার জন্য কল্যাণ তহবিল তৈরী করা হবে এবং অন্যান্য শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করতে এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে: কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমদ। মঙ্গলবার সকালে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সার্বিক সহযোগিতা ও হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর নিকট হতে স্বর্ণপদকে ভূষিত দুই শিক্ষার্থীকে কৃতি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ‘যারা লেখাপড়া করে দেশটাকে পরিচালনা করবে তাদের যদি আমরা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে না পারি, সত্য কথাটা বলতে না পারি, সঠিক জিনিসটা দেখাতে না পারি তাহলে আমাদের মতো দুর্ভাগা জাতি আর নেই। আজকে ভালোভাবে লেখাপড়া করে যারা সংবর্ধিত হয়েছেন তারা শুধু কক্সবাজারের নয় পুরো বাংলাদেশের জন্য একটা অনন্য উদাহরণ। মনের মধ্যে হিংসা কাজ করলে সাফল্য সম্ভব নয়। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিক্ষিত হয়ে কাজ করে যাওয়াটা সকলের দায়িত্ব। আজকের সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের দেখে মনের মধ্যে উৎস কাজ করতে হবে। তাদের মতো আমরাও সংবর্ধিত হবো। সেভাবে নিজেকে তৈরী করতে হবে। এক্ষেত্রে পরিশ্রমের বিকল্প নেই।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম সিকদারের সভাপতিত্ব ও সরকারি কলেজের শিক্ষক মিঠুন চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় কৃতি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ একেএম ফজলুল করিম চৌধুরী, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব আবু জাফর রাশেদ, মেরিন ড্রাইভ হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান, বর্ণমালা স্কুল এন্ড দারুল কুরআন একাডেমির প্রধান শিক্ষিকা সুফিয়া আক্তার প্রমুখ।

অধ্যক্ষ একেএম ফজলুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষা মানুষকে আলোকিত করে, পরিবার ও সমাজের মুখ উজ্জল করে। আর শিক্ষার্থীদের এমন সাফল্যে সবচেয়ে বেশি খুশি হয় শিক্ষক। যারা সংবর্ধিত হয়েছে তাদের কারণে আজ আমরা গর্বিত। তাদের কাজ থেকে সকলকে শিক্ষা নিয়ে সামনে অগ্রসর হতে হবে। নিয়মিত পড়ালেখা ও সকলের দোয়া নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে আবুল কাসেম সিকদার বলেন, ‘আজকে কউক এর সহযোগিতায় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক স্বর্ণপদকের মাধ্যমে কৃতি শিক্ষার্থীদের যে সম্মান ও সংবর্ধনা দেয়া হচ্ছে এটি গৌরবের। বিগত ৪০ বছরে জাতীয় ও আঞ্চলিক যৌথ উদ্যোগ থেকে কৃতি শিক্ষার্থীদের এমন সুন্দরভাবে সংবর্ধনা আমি দেখিনি। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে উন্নতির দিকে। উন্নত লেখাপড়ার মাধ্যমে আরো এগিয়ে যাবে। যে দুজন শিক্ষার্থী সংবর্ধিত হয়েছে আজকে শুধু তারা সংবর্ধিত হয়নি তারা দু’জন আজ পুরো কক্সবাজারকে সংবর্ধিত করেছে। তাদের মা-বাবা ও তাদের সম্মানের জন্য যোগ্য করে গড়ে তুলার কারিগরদের অভিনন্দন জানাচ্ছি।’ সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘শিক্ষাই শিক্ষক, শিক্ষকই শিক্ষা’ আজ আপনারা সংবর্ধিত হয়েছেন এই প্রতিদান হিসেবে আপনারা অপরকেও আপনাদের মতো হতে পরামর্শ ও শিক্ষা দিয়ে যাবেন বলে আশা করছি।’ মুকিম খান বলেন, ‘বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে সু শিক্ষার বিকল্প নেই। সু শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশকে উন্নতির শিকরে নিয়ে যাওয়া সকলের দায়িত্ব। নিজের দায়িত্ববোধ থেকে দেশকে ভালোবেসে শিক্ষার আলো ঘরে ঘরে জ¦ালতে হবে। এভাবে নিজের মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে কৃতিত্ব অর্জন করতে হবে।’

সুফিয়া আক্তার বলেন, ‘শিক্ষা নিয়ে গড়বো দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে শিক্ষার মশাল হাতে নিয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে। দেশ উন্নত হলে আমরা উন্নত হবো, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নত হবে। এভাবে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।’

অনুষ্ঠানে কক্সবাজার সরকারি কলেজের ২০১৫ ব্যাচ বিএসসি (সম্মান) এর ছাত্রী তাসলিমা সিরাজ ও ২০১৬ ব্যাচ বিএসসি (সম্মান) এর ছাত্রী হোসনে আরা সংবর্ধিত হন। প্রধানমন্ত্রীর নিকট হতে স্বর্ণপদকে ভূষিত এ দুই শিক্ষার্থীকে অতিথিরা পুরস্কার ও ক্রেস্ট তুলে দেন। সংবর্ধিত তাসলিমা সিরাজ বলেন, ‘এ সংবর্ধনা আমার জীবনে একটি বড় পাওয়া, আমি আশাও করিনি এমন একটি মুহুর্ত আমার জীবনে আসবে। আমার পরিশ্রমের ফলে আজ যেভাবে সম্মানিত হলাম তার জন্য আমি মহান আল্লাহ তা’আলার কাছে শোকরিয়া জ্ঞাপন করছি। এক্ষেত্রে আমার অভিভাবক ও শিক্ষকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।’ এতে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বীচ হলিডে সত্ত্বাধিকারী হাফিজুর রহমান লাভলু, মালিক সমিতির সদস্য আলিম উদ্দিন, মো. ফোরকান, মহসিনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •