আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হাজার হাজার চিকিৎসাকর্মী প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। মুখে মাস্কসহ সুরক্ষিত পোশাক পরার পরেও সংক্রমণ ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না।

চাইনিজ সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তিন হাজার ১৯ চিকিৎসাকর্মী। পরের সাত দিনে এই সংখ্যা কোথায় পৌঁছে তা এখনও নিশ্চিত নয়।

গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে। এরপর চীনের বিভিন্ন শহরসহ বিশ্বের অনেক দেশেই এই ভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে উহান হাসপাতালের পরিচালকের মৃত্যু হয়েছে। করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াইয়ে চিকিৎসক-নার্সদের সঙ্গে নির্ঘুম রাত কাটছিল উচ্যাং হাসপাতালের পরিচালক লিউ ঝিমিংয়েরও। এ লড়াইয়ে নেতৃত্বে থেকে সবাইকে প্রেরণা যোগাচ্ছিলেন তিনি।

এর মধ্যেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়েন তিনি। চিকিৎসা সত্ত্বেও সুস্থ হওয়ার বদলে চিরদিনের জন্য সবার কাছ থেকে বিদায় নিলেন তিনি। লিউ’র মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন তার সহকর্মী চিকিৎসকরা। এক চিকিৎসক বলেন, লিউ বেশ সুস্থ-সবল মানুষ ছিলেন। করোনাভাইরাস তাকেও কেড়ে নেবে, ভাবতে পারছেন না কেউ।

অপরদিকে, করোনাভাইরাসে আরও ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৮০৭ জন। সবমিলিয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৮৬৮ জনের এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৭২ হাজার ৩৫৫ জন।

চীনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হুবেই প্রদেশে করোনভাইরাসে আরও ৯৩ জন মারা গেছে। চীনে মোট মৃত্যুর সংখ্যা কমপক্ষে ১ হাজার ৮৬৩ জন। হংকং, তাইওয়ান, জাপান, ফিলিপাইন এবং ফ্রান্সে প্রতি একজনের সঙ্গে বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর সংখ্যা কমপক্ষে ১ হাজার ৮৬৮ জন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, হুবেই ৪১ হাজার ৯৯৫ জন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। যার মধ্যে ১ হাজার ১৮৩ জন গুরুতর অসুস্থ। ৮৬৬২ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •