রিয়াজ উদ্দিন ,পেকুয়া :

পেকুয়ায় পাল্টাপাল্টি মামলায় ছাত্রলীগ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি তার দু’সহোদর পেকুয়া জিএমসি ইনষ্টিটিউশনের ৯ম শ্রেনীর ছাত্র ও জিয়াউর রহমান উপকুলীয় কলেজের একাদশ শ্রেনীর ছাত্রসহ ১২ জন নিকট আত্মীয়ের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের বাইন্নাঘোনা গ্রামে দু’পক্ষের মধ্যে মারপিট হয়েছে। এ সময় উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছে। প্রতিপক্ষের হামলায় ছাত্রলীগ মগনামা ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মনছুর আলম নানক, তার পিতা কৃষক মো: কালু, ভাই জিয়াউর রহমান, উপকুলীয় কলেজের একাদশ শ্রেনীর ছাত্র আলী হোসেন, জিএমসির ৯ম শ্রেনীর ছাত্র কবির হোসেন, মা পাখি আক্তার, বোন রুজিনা আক্তারসহ ৫ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। স্কুল ও কলেজ ছাত্র দু’ভাইকে চমেক হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল। গত ৯ ফেব্রুয়ারী ভোর ৬ টার দিকে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের বাইন্নাঘোনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার ৫ দিন পর পেকুয়া থানায় পৃথক দুটি মামলা রেকর্ড করা হয়। একটি মামলার বাদী ছাত্রলীগ নেতা মনছুর আলম নানক। যার মামলা নং ০৬/২০। অপর মামলাটির বাদীর নাম রশিদ আহমদ। তিনি বাইন্যাঘোনা গ্রামের মৃত একরাম মিয়ার ছেলে। যার মামলা নং ০৭/২০। একই দিন পৃথক দুটি মামলা পেকুয়া থানায় রেকর্ড হয়েছে। তবে মনছুর আলম নানকের মামলাটি রেকর্ডের ৭/৮ ঘন্টা পর পাল্টা মামলাটি রেকর্ড হয়েছে। দুটি মামলার বাদী পৃথক মামলায় প্রধান আসামী হয়েছে। সুত্র জানায়, ১ নং খাস খতিয়ানের ৪০ শতক জমি নিয়ে রশিদ আহমদ গং ও মনছুর আলম নানকের পিতা মোহাম্মদ কালুর বিরোধ। ওই জমি বন্দোবস্তী মুলে কালুকে দলিল দিয়েছেন সরকার। বন্দোবস্তী মালিকের নামে জমাভাগ খতিয়ানও সৃজিত হয়েছে। বাইন্যাঘোনার লোকজন জানায়, কালু একজন ভূমিহীন ব্যক্তি। সরকার তার নামে বন্দোবস্তী দিয়েছেন। অপরদিকে রশিদ আহমদ ও অপর দু’ভাই আবদুল মজিদ ও কামাল হোসেন প্রায় ১০০ কানিরও বেশী জমির মালিক। তারা কালুর জমিতে স্থাপনা নির্মাণ চেষ্টা চালায়। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে মারপিট হয়েছে। তবে আঘাত বেশী পেয়েছে মনছুর আলম নানকগং। পাল্টা মামলার জন্য যারা আঘাত করেছে তারাও হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হয়েছে। চলে কৌশলে মনছুর আলম নানকদের মামলা ঠেকাতে তারা মোটা অংকের টাকা ব্যয় করে। এরপর পাল্টা মামলা রুজু করেছে মোটা অংকের টাকা দিয়ে।

মগনামা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নিন্দা

এ দিকে পাল্টাপাল্টি রেকর্ড ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি মনছুর আলম নানককে মামলায় জড়ানোর ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। মামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার মুহুর্তে ছাত্রলীগ ওই ঘটনায় বিস্ময় ও উদ্বেগ জানিয়ে তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। মগনামা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ মামলার বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিবৃতিতে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ বলেছেন, আমরা এমন মামলায় চরমভাবে হতাশ হয়েছি। মনছুর আলম নানক একজন ভদ্র, ন¤্র ও সুশিক্ষিত ছাত্র সংগঠক। কৃষক পরিবারের জন্ম বলে ছোট্ট চাকুরী নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে মা-বাবার সংসার চালান। হামলাকারীরা তিনিসহ তার ৯ম শ্রেনীর ছাত্রভাই কলেজের একাদশ শ্রেনীর ছাত্র ভাই বোন, মা ও পিতাকে কুপিয়ে, পিটিয়ে জখম করেছে। অথচ টাকা ও ধনে বলিয়ানদের পক্ষে আইনী সহায়তা গেছে। রশিদ আহমদ, আবদুল মজিদ তার ভাই কামাল হোসেন এরা বিএনপি জামায়াতের অর্থের যোগানদাতা। রশিদ আহমদের ছেলে আতিক চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠ স্কুল কমিটিতে শিবিরের সভাপতি। সরকার পতনের জন্য যে সময় বিরোধী আন্দোলন করেছিল রশিদ আহমদ গং ছিল সহিংস। সড়ক অচল করেছিল তারা। এখন বিএনপি জামায়াতের ওই প্রভাবশালী চক্রের হাতে মগনামা আ’লীগ অসহায় ও জিম্মী রয়েছে। তারা টাকা দিয়ে আমাদের নেতাদের নিয়ন্ত্রন করছে। প্রশাসনও এদের কথায় উঠাবসা করছে। নানকভাই প্রথমে ছিলেননা। দ্বিতীয় দফায় আসার সময় তাকেও হামলা চালানো হয়েছে। এখন হামলাকারীরা উল্টো জখমীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। আমরা এঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি। বিবৃতিদাতারা হলেন ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি ফয়সাল রহমান, তোহা, যুগ্ম সম্পাদক খোরশেদ আলম, মো: শহীদ, আবু সুফিয়ান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাশেম রানা, তানভীর আহসান, ১ নং ওয়ার্ড সভাপতি সাদেক, সাধারন সম্পাদক শোয়াইব, ২ নং সভাপতি মো: আনিছ, সাধারন সম্পাদক আজু মিয়া, ৩ নং সভাপতি দোলাল, সাধারন সম্পাদক আনছার, ৪ নং সভাপতি মো: ইউনুছ, সাধারন সম্পাদক এনামুল হক, ৫ নং সভাপতি দারমিন, সম্পাদক মো: আরিফ, ৬ নং সভাপতি আহমদ নবী, সম্পাদক মো: রিদুয়ান, ৭ নং সভাপতি মো: আনোয়ার, সম্পাদক মো: তকি, ৮ নং সভাপতি ওয়ারেচ বিন ওসামা, সম্পাদক মো: রাকিব, ৯ নং সভাপতি লোকমান হাকিম ও সাধারন সম্পাদক মো: রাশেদ।

 

  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •