বার্তা পরিবেশক:
উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকা বরইতলিতে এক আওয়ামী লীগ নেতার মালিকানাধীন সামাজিক বনায়ন ও মাছের ঘের রোহিঙ্গাদের দিয়ে জবর দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পালংখালী ইউনিয়নের পশ্চিম থাইংখালী এলাকার বাসিন্দা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা শেখ হাবিবুর রহমান এই অভিযোগ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, তার প্রতিপক্ষ রোহিঙ্গা জামাই মমতাজ মিয়া, ফকির আহমদের পুত্র মনু, বশর এবং হাসেম ড্রাইভার ষড়যন্ত্র করে বরইতলীতে অবস্থিত তার মালিকানাধীন সামাজিক বনায়নের জমি দখল করার জন্য রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে লেলিয়ে দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে বালুখালী ১৯ নং ক্যাম্পের হেডমাঝি মুজিবুল্লাহর নেতৃত্বে একদল রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে শেখ হাবিবুর রহমানের ওই পাহাড়ি সামাজিক বনায়নের জমি দখল করার অপচেষ্টা করেছে। শুধু তাই নয়, ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পরিকল্পিতভাবে শেখ হাবিবুর রহমানের পুত্র মোঃ রাসেলকে প্রধান আসামী করা হয়েছে।
শেখ হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেন, ১৯ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দক্ষিণে বরইতলীতে তার মালিকানাধীন সামাজিক বনায়নের জমি এবং মাছের ঘের রয়েছে। সেখানে খামারবাড়িও রয়েছে। এসব সামাজিক বনায়নের জমি ও মাছের ঘের দেখাশোনার জন্য ১০জন শ্রমিক রয়েছে। তারা রাতদিন সেখানে পাহারায় থাকে। কিন্তু পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ওই পাহাড়ি জমি দখল করে নেয়ার জন্য বালুখালী ১৯ নং ক্যাম্পের হেডমাঝি মুজিবুল্লাহর নেতৃত্বে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের মদদ দেয় পশ্চিম থাইংখালী কোনাপাড়ার এলাকার মৃত সৈয়দ আহমদের পুত্র রোহিঙ্গা জামাই মমতাজ মিয়া, ফকির আহমদের পুত্র মনু, বশর এবং হাসেম ড্রাইভার। । এই মদদে প্রলোভিত হয়ে বালুখালী ১৯ নং ক্যাম্পের হেডমাঝি মুজিবুল্লাহর নেতৃত্বে প্রায় প্রায় ৩০ জনের বেশি রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী সেখানে সশস্ত্র হামলা চালায়। সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দুটি খামার বাড়ি পুড়িয়ে দেয় এবং পাহারাদারদের ব্যাপকভাবে মারধর করে। শুধু তাই নয়, ওই রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা রাহিঙ্গা জামাই মমতাজ মিয়া, ফকির আহমদের পুত্র মনু, বশর এবং হাসেম ড্রাইভারদের পূর্ব পরিকল্পনা মতো তিনজনকে সাধারণ রোহিঙ্গাকে সেখানে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখে। রোহিঙ্গা আটকে রাখার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযানে যায়। অভিযানে পুলিশের সাথে ওই রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি হয়ে বলেও জানা গেছে।
নিজের জমি দখলের চেষ্টা, খামারবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া, শ্রমিকদের মারধর এবং মালামাল লুটপাটের পরও উল্টো ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুত্র মোঃ রাসেলকে প্রধান আসামী চরম বিস্মিত হয়েছেন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা শেখ হাবিবুর রহমানসহ এলাকার সাধারণ লোকজন। মোঃ রাসেলকে প্রধান আসামী করা হলেও আরেকজন ছাড়া অন্যসব আসামী রোহিঙ্গা। এতেই প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্র এবং পরিকল্পিত ঘটনার বিষয়টি সবার কাছে ফাঁস হয়ে গেছে। এই নিয়ে এলাকায় তোলপাড় চলছে!
স্থানীয়রা জানান, ১৯ নং ক্যাম্প এবং পাশের ১৩ ক্যাম্পের বেশ কিছু সন্ত্রাসী নিয়ে ১৯ নং ক্যাম্পের হেডমাঝি মুজিবুল্লাহর নেতৃত্বে একটি বিশাল রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ওই এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তারা অপহরণ, সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে পাচার, স্থানীদের গরু লুটসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। তাদের কাছে বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। ১৯ নং ক্যাম্পের হেডমাঝি মুজিবুল্লাহর স্থানীয় কিছু অসাধু লোকজনের যোগসাজসে স্থানীয়দের জমি দখল করে তা বিক্রি করছে সাধারণ রোহিঙ্গাদের। এভাবে রোহিঙ্গাদের শেখ হাবিবুর রহমানের ওই জমি দখল করে বিক্রির পাঁয়রা করছে। এই জন্য পুলিশকে মিথ্যা দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে মামলায় প্রকৃত হামলাকারী সন্ত্রাসীদের বাদ দিয়ে শেখ হাবিবুর রহমানের পুত্র মোঃ রাসেলকে প্রধান বানিয়ে দিয়েছে।
শেখ হাবিবুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা জামাই মমতাজ মিয়া, ফকির আহমদের পুত্র মনু, বশর এবং হাসেম ড্রাইভার দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সাথে ষড়যন্ত্র করে আসছে। তারা এভাবে ষড়যন্ত্র করে আমার ছেলে মোঃ রাসেলকে কয়েকটি মিথ্যা মামলার আসামী করেছে। এর ধারাবাহিকতায় এবার রোহিঙ্গাদের দিয়ে আমার সামাজিক বনায়ন ও মাছের ঘের দখলের অপচেষ্টায় নেমেছে। এই হামলার ঘটনায় আমি মামলার করবো। অধিকতর তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আমি আকুল আহ্বান জানাচ্ছি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •