আনোয়ার হোছাইন
গত ১০ ফেব্রুয়ারী সকাল ১০ টার দিকে ঈদগাঁহস্থ ইসলামপুর ইউনিয়নের ভিলেজার পাড়ার পূর্বের গহীন বন থেকে উদ্ধার হওয়া মাথার খুলি, শার্ট, লুঙ্গি ও স্যান্ডেল কোন হতভাগার তা বিগত তিন দিনেও শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে দিন যতই গড়াচ্ছে ততই চারদিকে আলোচিত হচ্ছে এ নির্মম খুনের শিকার যুবকটি কি ইব্রাহিম?
যার বর্তমান বাড়ি লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের লাইল্যারমার পাড়া। যুবকটির বাবার নাম ফরিদুল আলম। পূর্বে তাদের বাড়ি ছিল কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁহস্থ ইসলামাবাদ ইউনিয়নের খোদাই বাড়ী ওয়াহেদর পাড়ায়। দীর্ঘদিন আগে তারা স্বপরিবারে লামা উপজেলার উক্ত এলাকায় স্থায়ী বসবাস শুরু করে। ছেলে ইব্রাহিমকে বিয়ে করায় পূর্বের বাসস্থান ইসলামাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিম গজালিয়া গ্রামের মমতাজুল হকের মেয়ে শামিমা আক্তারের সাথে। পরবর্তী তাদের সংসারে নানা বিষয়ে ঝগড়ার সৃষ্টি হয়।এক পর্যায়ে স্ত্রী শামীমা বাবার বাড়ি চলে যায়।অদ্যাবধি সেখানেই রয়েছে। মাসাধিককাল পূর্বে হঠাৎ ইব্রাহিম নিখোঁজ হলে তারা বাবা লামা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে। ইতোমধ্যে গত ১০ ফেব্রুয়ারি ঈদগাঁহের গহীন জঙ্গল থেকে মানুষের মাথার খুঁলিসহ শরীরের বিভিন্ন অংশের হাড়গুড়, কাপড় ও সেন্ডেল উদ্ধারের সংবাদ পেয়ে ফরিদুল আলমসহ স্বজনরা ঈদগাঁহে ছুটে যায়। উদ্ধারকৃত কাপড় ও সেন্ডেল দেখে তা তাদের নিখোঁজ ছেলে ইব্রাহিমের বলে দাবি করে।কিন্তু উদ্ধারকারী ঈদগাঁহ পুলিশ তা সঠিক মনে না করায় প্রকৃত পরিচয় উদঘাটনে ডিএনএ টেস্ট করার জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ হাড়গুড় উদ্ধারের পর নিখোঁজ ইব্রাহিমের বাবা ও শ্বশুর মমতাজুল হক পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর তাক করলেও পুলিশ এখনো সুনির্দিষ্ট ভাবে পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত না হওয়ায় আপাতত ডিএনএ টেস্টের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছে। তবে একটি পক্ষ এ নৃশংস ঘটনা ধামাচাপা দিতে প্রভাবশালী মহলের মধ্যস্থতায় কক্সবাজার শহরে বসে মোটা অংকের টাকায় ধামাচাপার মিশনে নেমেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশ পাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিমত উদ্ধারকৃত হাড়গুড় কি আসলে ইব্রাহিমের, না অন্য কোন হতভাগার? এ নিয়ে সর্ব মহলে প্রশ্নের অন্ত নেই।
এদিকে ঈদগাঁহ পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আসাদুজ্জামান এখনো উদ্ধারকৃত হাড়গুড়ের নির্ভরযোগ্য পরিচয় ও মৃত্যুর রহস্য বিষয়ে নিশ্চিত হয় নি জানিয়ে বলেন,ফরিদ নামের লামা উপজেলার এক লোক উদ্ধারকৃত হাড়গুড় তার ছেলে ইব্রাহিমের বলে দাবি করলেও তা পরিচয়ের জন্য যথেষ্ট নয় বলে দাবি করেন এবং পুলিশ এ স্পর্শ কাতর ঘটনার ক্লু উদঘাটনে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান। ধামাচাপার মিশনে কোন মহল জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে নিশ্চিত করেন।

  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •