মোঃ নাজিম উদ্দিন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
প্রধান শিক্ষককের কাছে হঠাৎ হিসাব দেখতে এসেছিলেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম। প্রধান শিক্ষক দ্রুত লিখিত হিসাব প্রদর্শনও করলেন। তবে হিসাবে গরমিল মনে হলো সভাপতির কাছে। এতেই সভাপতি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলেন প্রধান শিক্ষক রুপন কান্তি নাথের উপর। এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষককে মারধর করে বিদ্যালয় এলাকা ত্যাগ করে সটকে গেলেন ওই সভাপতি। (১২ ফেব্রুয়ারি) বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার মছজিদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। স্ত্রী-সন্তান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চোখের সামনে এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এঘটনায় প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের সভাপতির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লোহাগাড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মছজিদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম গত বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হঠাৎ বিদ্যালয়ে ঢুকে প্রধান শিক্ষকের কাছে ২০১৮-২০১৯ সালের স্লিপ, রুটিন মেরামত ও প্রাক প্রাথমিকের বরাদ্দের হিসাব দিতে বলেন। এ সময় প্রধান শিক্ষক সভাপতিকে লিখিতভাবে হিসাব দেখান।
তবে ওই হিসাব সভাপতির কাছে গরমিল বলে মনে হওয়ায় তিনি এ হিসাব গ্রহণ না করে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন প্রধান শিক্ষক রুপন কান্তি নাথের সাথে । এক পর্যায়ে তিনি প্রধান শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন সিরাজুল ইসলাম। এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে প্রধান শিক্ষক রুপন কান্তি নাথ বলেন, হঠাৎ করে সভাপতি বিদ্যালয়ে ঢুকে কিছু বিষয়ের হিসাব দিতে বলেন। আমি তাঁর সামনে লিখিত  হিসাবগুলো দাখিল করেছি। কিন্তু তিনি ওই হিসাব সঠিক নয় জানিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, আমার স্ত্রী ও সন্তানদের (স্ত্রী ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও
সন্তানরা শিক্ষার্থী) সামনে আমাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেছেন। এব্যাপারে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, প্রধান শিক্ষককে সাম্প্রতিক সময়ের কিছু খরচের হিসাব দিতে বলায় তিনি পুরনো কতগুলো হিসাব আমার সামনে নিয়ে আসেন। এ নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছে। প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন সময়ে অনিয়ম করেছেন। ওই অনিয়মগুলো ঢেকে রাখার জন্যই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনছেন।
লোহাগাড়া থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল হক বলেন, প্রধান শিক্ষককে মারধর ও লাঞ্ছিত করার বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া
গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •