প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

মহেশখালীতে কয়েকটি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ আরো বেশ কিছু মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। এ কারণে বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। কিন্তু শুরু থেকেই জমির মালিকেরা অভিযোগ করে আসছিলেন তাদেরকে ন্যায্য মূল্য দেয়া হচ্ছে না। এবার নতুন করে কালারমারছড়ার চার মৌজায় প্রায় ১৪’শ একর জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের একর প্রতি আড়াই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবিতে এক মানববন্ধন করেছে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন। ‘ক্ষতিগ্রস্ত ন্যায্য দাবি আদায় পরিষদের’ উদ্যোগে মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ওই মাববনন্ধনে ন্যায্যমূল্য ছাড়াও অধিগ্রহণের ফলে শ্রমিক ও ব্যবসায়ীসহ ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন পেশার মানুষ যোগ দিয়ে তাদের দাবি তুলে ধরেন। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর এক স্মারকলিপি দেয়া দেন তারা

‘ক্ষতিগ্রস্ত ন্যায্য দাবি আদায় পরিষদের’ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ সরওয়ার আজিমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মোর্শেদের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত উক্ত মানববন্ধনে মানববন্ধনে প্রধান অতিথি ছিলেন- মহেশখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শরীফ বাদশা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে বিশ^ দরবারে বাংলাদেশকে উন্নয়নের রুল মডেলে পরিণত করেছে। তিনি এই দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর করেছেন এবং উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। এই জন্য তিনি অসংখ্য উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। তারই অংশ হিসেবে মহেশখালী ১৫টির বেশি কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্র, গভীর সমুদ্র বন্দর, গ্যাস সঞ্চালন কেন্দ্র, বেশ কয়েকটি অর্থনৈতিক জোনসহ আরো কয়েকটি মেগা প্রকল্প বাস্তায়বন করছেন। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়ে গেলে পুরো দেশ উন্নয়নের এক উচ্চ আসনে আসীন হয়ে যাবে।

বক্তারা বলেন, নিজেদের জমিজমা, বাসস্থান ও কর্মসংস্থান হারালেও দেশের উন্নয়ন এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা নিদ্বির্ধায় সব কিছু ত্যাগ করে যাচ্ছি। তবে আমাদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ চাই। কেননা এই জমিগুলো চলে গেলে এখানকার মানুষের জীবিকার জন্য কোনো অবলম্বন থাকবে না। ইতিমধ্যে অনেক মানুষ বেকার হয়ে পড়ে জীবিকার তাগিদে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছুটে বেড়াচ্ছে।

মানববন্ধনে আটটি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো- কালারমারছড়ায় অধিগ্রহণাধীন চার ঝাপুয়া, কালিগঞ্জ, ইউনুছখালী ও কালারমারছড়া মৌজার ১৪’শ এক জমির ক্ষতিপূরণ মূল্য আড়াই কোটি টাকা দিতে হবে। একইসাথে অবকাঠামো উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ, খাস জমি ও বেড়িবাঁধের উপর থাকা ভূমিহীনদের জন্য পুনর্বাসন, অধিগ্রহণের জমির উপর আয়ে জড়িত সকল পেশাজীবিদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন করা, সরকারের নামে ভুল রেকর্ডীয় খাস জমি মিস মামলা করে উপযুক্ত মালিককে ক্ষতিপূরণ দেয়া, ক্ষতিপূরণের চেক স্ব-স্ব জমির মালিক ও খতিয়ানভুক্ত এলাকার মানুষের কাছে হস্তান্তর করা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সেলিম চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা হাসান বশির, আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ ইসহাক, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মোঃ জাকারিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা বদিউল আলম, গিয়াস উদ্দীন শাহীন, এড. শাহাব উদ্দীন, এড. আবু বকর, সাবেক এমইউপি রশিদ আহমদ, মৌলভী সোলাইমান, যুবলীগ নেতা বেলাল হোসাইন প্রমুখ।

  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •