ফাইল ছবি

মোহাম্মদ ফারুক :

পুরো জেলাজুড়ে এই শীত মৌসুমে প্রচুর শীতজনিত রোগ দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই জেলা সদর সহ জেলার ৮ টি উপজেলার হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে বিভিন্ন শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পীড়িত ব্যক্তিরা।

গত ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত পুরো জেলায় এই ৯০ দিনে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে দশ হাজার ৮০৫ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছে।

শীতের মাঝামাঝি সময়ে দৈনিক ৪০ থেকে ৫০ জন ডায়েরিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এবং শ^াসকষ্ট জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ১০ থেকে ১২ জন। সম্প্রতি শীতের শেষের এই দিকে আগের তুলনায় শীতজনিত রোগী কম বলে জানা গেছে।

সিভিল সার্জন পরিসংখ্যান তথ্য অনুসারে জানা যায় ৯০ দিনে শীতকালীন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পুরো জেলার হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে ৯ হাজার ১৯২ জন, শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৬১৩ জন।

তম্মধ্যে পেকুয়া উপজেলায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে২১১ জন, মহেশখালীতে ১ হাজার ৭০৯ জন,টেকনাফে ৭৮৪ জন,উখিয়াতে ২ হাজার ৫৩১ জন,রামুতে ৭৫০ জন,কুতুবদিয়াতে ১ হাজার ১৪৫ জন, সদর হাসপাতালে ১২৪ জন, চকরিয়াতে ১ হাজার ৯৩৮ জন। আর শ^াসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে পেকুয়ায় ২৪৭ জন, মহেশখালীতে ২৫৭ জন,টেকনাফে ২০২ জন, উখিয়াতে ১৯৯ জন, রামুতে ১৬৪ জন, কুতুবদিয়ায় ১৪৬ জন, সদর হাসপাতালে ৯৯ জন, চকরিয়াতে ২৯৯ জন।তবে পরিসংখ্যানবিদ জানান, সাম্প্রতিক সময়ে আগের তুলনায় কমে আসছে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা।

বিশেষজ্ঞরা জানান, শীতের শুরুতে ও মাঝামাঝি সময়ে কিছুদিন ধরে শীতের অস্বাভাবিক আচরণের ফলে রোগের গতিও অস্বাভাবিক দেখা গেছে। বিশেষ করে পৌষের শীতেও বৃষ্টি ও বাতাস বইছে তা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল জনস্বাস্থ্যের জন্য। কারণ এবার এমন কিছু রোগ দেখা যাচ্ছে, যা সাধারণত শীতের সময় দেখা যায় না।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ ফখরুল ইসলাম বলেন, অন্যবারের চেয়ে এবার ডায়রিয়ায় আক্রান্তের হার বেশি। এ ক্ষেত্রে ভাইরাল ডায়রিয়া ব্যবস্থাপনায় সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। আক্রান্তদের জন্য তথ্যগুলো সহজভাবে মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। ওরস্যালাইন খাওয়ার সময়ও পরিমাণ ও প্রয়োজন সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা জরুরি। কারণ খুব ঘন ও অতিরিক্ত ওরস্যালাইনেও অনেক ক্ষেত্রে অবস্থার অবনতি ঘটতে পারে। তাই ওরস্যালাইন বানানোর সময় অবশ্যই নির্দেশিকা পড়ে সে অনুসারে সঠিকভাবে তা বানাতে হবে। সেই সঙ্গে ডায়রিয়া থেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্যালাইনও থামাতে হবে। তিনি আরো বলেন, ডায়রিয়ার রোগীদের পায়খাানার সাথে রক্ত বিকার দেখা গেলে তাহলে এন্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। শীতজনিত সাধারণ সর্দি, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, ঠোঁট ফেটে যাওয়া, ইত্যাদি রোগ হয়ে থাকে। আবার হৃদরোগীদের ক্ষেত্রেও ঠান্ডায় অনেক সময় কিছু ঝুঁকির কারণ তৈরি হয়। যাদের আগে থেকে অ্যাজমা রয়েছে তাদের অবস্থা আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ থাকে।

শীতজনিত রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকারের তরফ থেকে কী করা হচ্ছে জানতে চাইলে কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডাঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা বিভিন্ন ধরনের মাধ্যমে মানুষকে যেমন সচেতন করতে কাজ করছি, তেমনি সরকারিভাবেই খাবার স্যালাইন বিতরণ করা হচ্ছে। হাসপাতালেও কলেরার স্যালাইন সরবরাহ করা হয়। এ ছাড়া শ্বাসতন্ত্রের রোগ থেকে রক্ষায়ও একইভাবে বিভিন্ন রকম কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে সবার আগে শীত থেকে সুরক্ষায় ব্যক্তি ও পারিবারিকভাবে সচেতন থাকাই সবচেয়ে ভালো উপায়, যাতে রোগে আক্রান্ত না হয়।

  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •