হামিদুল হক, ঈদগড়
ভালো দাম পেয়ে খুশী কক্সবাজার জেলার ঈদগড়ের কুল চাষীরা। কারণ এবছর অনুকুল আবহাওয়ায় কুলের আকার আকৃতি ও স্বাদ বেড়েছে। চাহিদা ও বেড়েছে। ঈদগড়ে বাণিজ্যিক ভাবে বাউকুল জাতের কুলের চাষ হয়েছে। এসব কুলকে ঘিরে ঈদগড় বাজারে বসেছে পাইকারী মোকাম। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকার ও ফড়িয়ারা দর-দাম করে কুল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
ঈদগড় ইউনিয়ন জুড়ে কুলের আবাদের জন্য খ্যাতি রয়েছে। বিভিন্ন বাগান ঘুরে দেখা গেছে, গাছে গাছে থোকায় থোকায় কুল ঝুলে রয়েছে। কৃষক বাগান থেকে কুল সংগ্রহ করছেন মোকামে নেয়ার জন্য। অনেকে আবার প্রাক-প্রস্তুতি হিসেবে বাগান পরিস্কার করছেন। বাগান জুড়ে উৎসবের আমেজ চাষীদের।
এক কুলচাষী জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে বাউকুলের আবাদ করেছেন। বিগত বছরের চেয়ে এবছর অনুকুল আবহাওয়ার কারণে কুলের আকার-আকৃতি বেড়ে কুলের ওজন বৃদ্ধি হয়েছে। দুই বিঘা জমিতে দুই লাখ টাকার ওপরে বিক্রি হবে। তাঁরমতে, কুল চাষিরা এবার পোয়া-বারে অবস্থা। বাগান থেকে পাইকাররা ৮০/১০০টাকা কেজি দরে কুল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
আরেক কৃষক জানান, বিগত কয়েক বছর কুলের আবাদে লাভ হয়নি। উৎপাদন কম হওয়ায়, আকার-আকৃতিতে বড় না হওয়ায় কুল চাষে ক্ষতি গ্রস্থ হয়েছিলেন তাদেরমত অনেক চাষী। এবার অনুকুল আবহাওয়ায় উল্টোচিত্র। আকার-আকৃতির সাথে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে কুল চাষীদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। উৎপাদন খরচ হলেও ফলন বৃদ্ধি ও দাম ভালো পাওয়ায় বিগত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিচ্ছেন তারা। তাছাড়া এবছর নতুন নতুন কুলের বাগান বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয় উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা সহিদুল ইসলাম বলেন, অনুকুল আবহাওয়া থাকায় ফলন বৃদ্ধির সাথে সাথে কুলের আকার-আকৃতি ও স্বাদ বেড়েছে। ফলে কুল চাষীদের মুখে খুশীর ঝিলিক ফুটে উঠেছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে নিয়ম করে বালাইনাশকসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ায় এবছর কুলে পোকার আক্রমন নেই বলেই চলে। এবছর এলাকা জুড়ে জমিতে কুলের আবাদ হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে বেশি।

  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •