cbn  

জে.জাহেদ, চট্টগ্রাম:

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিলো একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। সে লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অঙ্গীকার করেছেন ২০৪১ সালে দেশকে সুখী সমৃদ্ধ একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ার। জননেত্রী শেখ হাসিনার এই অঙ্গীকারকে সফল করতে আমরা চট্টগ্রামের জনসাধারণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।

জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, যৌতুক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করেছি ৪১টি ওয়ার্ডে। আমাদের মূল লক্ষ্য-নগরবাসীকে শপথ করানো ও মাদক থেকে দুরে রাখা। মেয়র বলেন, এই চট্টগ্রাম বার আউলিয়ার, এই চট্টগ্রাম মাস্টারদা সূর্য সেনের, এই চট্টগ্রাম মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর, এই চট্টগ্রাম এম এ মান্নানের, এই চট্টগ্রাম আখতারুজ্জামান বাবুর, এই চট্টগ্রাম আতাউর রহমান কায়সার ও এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী’র।

ঐতিহাসিক লালদিঘীর মাঠে সন্ত্রাস, মাদক, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিবিরোধী মহাসমাবেশে এসব কথা বলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

এ সময় লালদীঘি মাঠে উপস্থিত অর্ধলক্ষাধিকের ও বেশি নারী-পুরুষকে হাত উঁচিয়ে শপথ করিয়েছেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টা থেকে পবিত্র কোরআন তেলোয়াত ও গীতা, বাইবেল, ত্রিপিটক পাঠে মহাসমাবেশ শুরু হয়। মহাসমাবেশে নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে গঠিত কমিটির আহ্বায়কের নেতৃত্বে ‘সন্ত্রাস, মাদক, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিকে না বলুন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলুন’ শ্লোগানে হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

সিটি মেয়র আরো বলেন, আমরা চাই এ শহর সবার জন্য নিরাপদ থাকুক। জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য বাসযোগ্য হোক। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে নতুন প্রজন্মকে সুস্থ সবল থাকতে হবে। মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, যৌতুক, জঙ্গিবাদ থেকে তাদের দূরে রাখতে হবে।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দিন আহমেদ ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আমেনা বেগম।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জামাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, মাদক যারা সেবন করে আমি তাদের সাথে কথা বলেছি। আমি বলেছি আপনারা কি জানেন, মাদক সেবন করলে মানুষ পশু ও জানোয়ারে পরিণত হয়। জীবন যৌবন আর ভবিষ্যত নষ্ট হয়ে যায়। তখন মাদকসেবীরা কান্নাকাটি করে বলেন, আমরা তো এসব জানিনা।

তিনি বলেন, ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে জননেত্রী শেখ হাসিনা যে স্থানে নিয়ে যেতে পরিকল্পনা নিয়েছেন। মাদক যেনো কিছুতেই তার বাধা হতে না পারে। আমাদের ছোট্ট বাংলাদেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র মাদক প্রবেশ করিয়ে দিচ্ছে। বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা মাদকে পাচার হচ্ছে। সরকার তথা চট্টগ্রামের মেয়র মাদকের বরিদ্ধে যে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। চট্টগ্রামের ছেলে হিসেবে বলছি নিশ্চয় এই যুদ্ধে চট্টগ্রামবাসী জয়ী হবে। আমরা মাদকের বিরুদ্ধে গর্জন শুনতে চাই।

সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আমেনা বেগম বলেন, মাদক বন্ধের জন্য মাননীয় মেয়রের কথা শুনতে হবে। আমার বাবাকে অনেকে বলেছিলেন মেয়েকে পড়িয়ে কি হবে, বিয়ে দিয়ে দেন। বাবা তখন মাথা নিচু করে ঢাকায় আমাকে বিসিএস পরীক্ষা দিতে নিয়ে যেতেন। আমার মা প্রাইমারি স্কুলের গন্ডি পার হতে পারেননি। কিন্তু আমার মা স্বপ্ন দেখতেন মেয়েকে এমএ পাশ করাবেন।

অতিরিক্ত কমিশনার আরো বলেন, চট্টগ্রামের নারী নির্যাতন ও যৌতুক নির্যাতন ভিন্ন। এটা মানসিক নির্যাতন। এখানে পুরুষেরা নারীদের বলে থাকেন, তোমার বাবা গরু ন দে, ছাগল ন দে, বিয়েতে ইছা মাছ ন দে, বিয়ে ভেঙে দেবো। এটাই যৌতুক আর নারী নির্যাতন। এটার কোন প্রমাণ থাকে না।

সিএমপি কমিশনার অতিরিক্ত কমিশনার তার বক্তব্যে মা বাবাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনার ছেলেমেয়ে কোথায় যায়, কার সাথে মেলামেশা করে খোঁজ খবর নিবেন। পিতামাতা সচেতন হলে চট্টগ্রামে মাদক থাকবে না।

২৭ নম্বর দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এইচএম সোহেলের সভাপতিত্বে সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য দেন চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আকতার। পরে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামশুদ্দোহা, প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনীর পরিচালনায় বক্তব্য দেন প্যানেল মেয়র জোবাইরা নার্গিস খান, নিছার উদ্দিন আহমদ, কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক। এছাড়াও কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী, গিয়াস উদ্দিন, আবিদা আজাদসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলরা উপস্থিতি ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মাদকের সর্বনাশা পথ থেকে ফিরে আসা মোহাম্মদ সেলিম। আনুষ্ঠানিক মহাসমাবেশ শুরুর আগে মাদক, জঙ্গিবাদ ও যৌতুকের বিরুদ্ধে কবিগান পরিবেশন করেন কবিয়াল কল্পতরু ভট্টাচার্য।

মহাসমাবেশে লালদিঘী ময়দানে বেলা আড়াইটা থেকে ব্যান্ডপার্টি, ব্যানার, ফেস্টুনসহ মিছিল নিয়ে আসতে শুরু করেন নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা। হাজার হাজার মানুষ এতে বাস, ট্রাক নিয়ে সমাবেশস্থলে আসেন। মিছিল নিয়ে আসেন চসিক কলেজ শিক্ষক সমিতি, প্রধান শিক্ষক ফোরাম, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, সম্মিলিত হকার ফেডারেশন, ফুটপাত হকার সমিতি, চট্টগ্রাম ওয়াসা শ্রমিক লীগ, টেরিবাজার ব্যবসয়ী সমিতি, স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতি, ক্যাব, চসিক যান্ত্রিক ও প্রকৌশল বিভাগ, অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন, বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

মহাসমাবেশে পৌনে পাঁচশ’ পুলিশ সদস্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছেন। সমাবেশস্থল সার্বক্ষণিক ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারী করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •