তাজুল ইসলাম পলাশ, চট্টগ্রাম:
দেশের সিংহভাগ আমদানি রফতানি হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। গত দুই বছরে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে খুব একটা উন্নতি করতে পারেনি এ সমুদ্রবন্দর। একই আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে বাণিজ্য পরিস্থিতি।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া ৩লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা মূল্যের পণ্যে শুল্কায়ন সম্পন্ন করা হয়েছে। এর আগের বছর শুল্কায়ন হয়েছিল ৩ লাখ ২ হাজার কোটি টাকার আমদানি পণ্যের।

আমদানি কার্যক্রমে স্থবিরতার প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রেও। ২০১৯ সালে ৪৩ হাজার ৬৩৯ কোটি টাকার রাজস্ব আয় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ২০১৮ সালে এর পরিমাণ ছিল ৪৩ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা।

আমদানির পাশাপাশি রফতানি খাতেওঅনেকটা একই চিত্র বজায় রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কনটেইনারবাহী ও খোলা পণ্যবাহী বাল্ক—এ দুভাবে পণ্য রফতানি হয়। রফতানি পণ্যের তালিকায় রয়েছে পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য,চামড়াজাত পণ্য, চা, হিমায়িত খাদ্য, সারপ্রভৃতি।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী,২০১৯ সালে কনটেইনারে রফতানি পণ্যহ্যান্ডলিং (ওঠানামা) হয়েছে ১৫ লাখ ৮৪৪ ইউনিট (প্রতিটি ২০ ফুট দীর্ঘ হিসেবে)। ২০১৮ সালে রফতানি পণ্য হ্যান্ডলিং হয়েছিল ১৪ লাখ ৪২ হাজার ২৯৬ ইউনিট। সেই হিসেবে রফতানি কার্যক্রমে পণ্যের ওঠানামায় মাত্র ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিতহয়েছে।

অন্যদিকে রফতানির ক্ষেত্রে গত বছর খোলাপণ্য (কার্গো) হ্যান্ডলিং হয়েছে ৭১ লাখ ১৯হাজার ৭৪৪ টন। ২০১৮ সালে হ্যান্ডলিং হয়েছিল ৭১ লাখ ২৪ হাজার ৩৫১ টনরফতানি পণ্য।

আমদানি ও রফতানি খাতের জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের চিত্রে। ২০১৯সালে চট্টগ্রাম বন্দরে ১ হাজার ৫১৯ টিকনটেইনার ভেসেল হ্যান্ডলিং হয়েছে। ২০১৮ সালেও এ সংখ্যা একই ছিল। ২০১৯সালে এ সমুদ্রবন্দরে ২ হাজার ২৮৮টিকার্গো ভেসেল হ্যান্ডলিং হয়েছে। ২০১৮সালে এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ২২৮।

প্যাসিফিক গ্রুপের পরিচালকও চট্টগ্রাম চেম্বারের ডিরেক্টর সৈয়দ এমতানভীর বলেন, দেশের জিডিপি অগ্রগতিতে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রভাব ফেলেছে চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় একটা জায়গাতেই থমকে আছে বন্দরের বাণিজ্য কার্যক্রম।

এ বিষয়ে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরামঅব বাংলাদেশের (আইবিএফবি) চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের চেয়ারপারসন এসএম আবু তৈয়ব বলেন, বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানির যে নেতিবাচক চিত্র, তার বেশকিছু কারণ রয়েছে। সময়মতো বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে নাপারাটা অন্যতম কারণ।

তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যলোড-আনলোডের ধীরগতি পোশাকশিল্পের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। পোশাকের কাঁচামাল হাতে পেতে সময় লাগছে অনেক। এ কারণে আমরা নির্ধারিতসময়ে পণ্য ডেলিভারি দিতে পারছি না।ফলে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা পাকিস্তান,ভিয়েতনামে অর্ডার নিয়ে যাচ্ছে।

এ সমস্যাসমাধানে চট্টগ্রাম বন্দর আধুনিকায়ন করতেহবে। তবেই বন্দরটির বাণিজ্য কার্যক্রমেগতি ফিরবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •