মোহাম্মদ ফারুক :

কক্সবাজারস্থ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান সংলগ্ন পৌর প্রি প্যার‌্যাটরি বিদ্যালয়ের মূখেই গড়ে উঠেছে অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড। ফলে চিৎকার করে ড্রাইভারদের যাত্রি ঢাকা, যাত্রী ওঠানামা, বিভিন্ন চেচামেচি এবং যানজটের কারণে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ পথচারীদের নানা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।এছাড়া শহরের বিভিন্ন সড়কে অবৈধ যানের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে।

এদিকে বিদ্যালয়ের গেইটের সামনে অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড স্থাপন করে অবৈধভাবে চাঁদাবাজি করছে কুমিল্লা থেকে আসা জনৈক কবির।

ওই স্ট্যান্ডে মরিচ্যা,সোনারপাড়া,উখিয়া, হ্নীলার প্রায় ৩০০ সিএনজি গাড়ি পরিচালিত হয় বলে জানা যায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কক্সবাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠের সামনে এবং পৌর প্রি প্যার‌্যাটরি উচ্চ বিদ্যালয়ের গেইটের মূখে সড়কের দুই পাশে ও স্কুলের সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে বিশাল লম্বা লাইনে প্রায় শতাধিক সিএনজি লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে এবং একজন পথচারি দেখলেই আসেন ভাই আসেন  চেচামেচি করতে থাকে সিএনজির ড্রাইভারেরা। এভাবে দিনের সারাক্ষণ সিএনজিগুলো সড়কে ওঠানামা করার কারণে সাধারণ পথচারী এবং শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের সামনে স্ট্যান্ড স্থাপনের কোনো বৈধ অনুমতি আছে কি না জানতে চাইলে মরিচ্যা থেকে আসা সিএনজি ড্রাইভার বদিউল আলম জানান, পাঁচমাস আগে শহরের ভোলাবাবুর পেট্রোল পাম্পের পাশে ছিল তাদের স্ট্যান্ড। পরে ওখান থেকে জনৈক কবিরকে প্রতি সিএনজি গাড়ি ৫০০ টাকা করে দিয়ে এই জায়গাতে স্ট্যান্ড করে। তিনি আরো জানান, ওই স্ট্যান্ড থেকে ৩০০ সিএনজি পরিচালিত হয়। এছাড়া মাসিক চাঁদা হিসেবে প্রতি গাড়ি ১০০ টাকা, এবং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ির দিতে হয় প্রতি মাসে ২ হাজার২০০ টাকা করে। ওই স্ট্যান্ডের মাসিক টাকাগুলো কে নেয় জানতে চাইলে বদি আলম জানান, কবির নামে এক ব্যাক্তি টাকাগুলো ড্রাইভারদের কাছ থেকে নেয়।

এ ব্যাপারে  কবিরের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এখন সব বন্ধ, আগে নিতেন, এখন এসব কাজ তিনি করেন না। কুমিল্লা থেকে এসেছেন,বর্তমানে কক্সবাজার শহরে থাকেন তিনি।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক আবু তালেব, আনোয়ারা বেগম, ইয়াহিয়া সহ আরো অনেকেই জানান, বিদ্যালয়ের সামনে সিএনজি স্ট্যান্ডের কারণে বিশেষ করে বিদ্যালয় শুরু ও ছুটির সময় এবং পরীক্ষার সময় মারাত্মকভাবে যানজটের সৃষ্টি হয়, এবং যে কোন দুর্ঘটনার ভয়ে সবসময় তাঁদের আতঙ্কে থাকতে হয়। এতে তাঁরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে রাস্তায় স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারেন না।

পৌর প্রি প্যার‌্যাটরি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের নিরাপদ পরিবেশ ও শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে এই সিএনজি স্ট্যান্ডটি মারাত্মকভাবে ঝুঁকি বহন করছে। সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়।

এই বিষয়ে কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশের টি আই বিল্লাল হোসেন জানান, সবে মাত্র কয়দিন হয়েছে তিনি এসেছেন। এব্যপারে তিনি কিছু জানেন না।

কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশের সহকারি পুলিশ সুপার বাবুল চন্দ্র বনিক বলেন, আগামীকাল থেকে বিদ্যালয়ের সামনে একটি গাড়িও থাকবেনা। কবির নামে কোন লোক এখন নেই। ইতিমধ্যে ড্রাইভারেরা যদি কাউকে টাকা পয়সা দেয় এর জন্য এরা দায়ী। তিনি বলেন, দুই বছর ধরে এই শহরটাকে যানজট নিরসন করার অনেক চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •