মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

দোষ স্বীকার করে যারা আত্মসমর্পণ করেছেন, তাদের সাধুবাদ জানাই। আর যারা এখনও ইয়াবা কারবার করে বাইরে রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বিপিএম (বার) পিপিএম টেকনাফ সরকারি কলেজ মাঠে সোমবার ৩ জানুয়ারি বিকেলে অনুষ্ঠিত ২১ জন ইয়াবাকারবারীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ হুশিয়ারি দেন।

ডিআইজি আরো বলেন, নিরীহ কাউকে ইয়াবা কারবারি সাজানোর চেষ্টা করলে সে পুলিশ কর্মকর্তাকেও কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে। একইভাবে পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশের কেউ মাদকের সঙ্গে ন্যুনতম যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার ঠিকানা হবে সরাসরি কারাগারে। তিনি বলেন, বাস্তুচ্যুত করে ১১ লাখ রোহিঙ্গা শরনার্থীকে বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে মিয়ানমার। সেই মিয়ানমার থেকে বছরে কমপক্ষে ৫০ হাজার কোটি টাকার ইয়াবা আনছে এদেশীয় ইয়াবা কারবারিরা। এটি নিজেদের পায়ে কুড়াল মারার মতো। মাদক, দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্সে’ নীতি রয়েছে। সেটি বাস্তবায়নে মাঠে কাজ করছে পুলিশ। আজকের আত্মসমর্পণ তারই একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ আয়োজিত এ আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.বি.এম মাসুদ হোসেন বিপিএম (বার) সভাপতিত্ব করেন।

ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বিপিএম (বার) পিপিএম আরো বলেন, ’৯০-এর দশকের শেষদিকে এদেশে জঙ্গীবাদ চরমভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কারণে জঙ্গিবাদ দমনে সফলতা পেয়েছি। ইয়াবা আসাও
ক্রমান্বয়ে বন্ধ হবে ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধেও কঠোরভাবে হাঁটছি।

আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, জেলা কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সভাপতি, সিনিয়র সাংবাদিক তোফায়েল আহমদ, সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহমদ বাহাদুর, কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ইকবাল হোসেন, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস বিপিএম (বার), টেকনাফ পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, টেকনাফ উপজেলা কমিউনিটি পুলিশের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা ও টেকনাফ বড় মাদ্রাসার মহাপরিচালক মাওলানা মুফতি কিফায়েত উল্লাহ প্রমুখ। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আত্মসমর্পণকারীদের পক্ষে মোহাম্মদ তৈয়ব বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ইয়াবা অঢেল টাকা দেয়, কিন্তু শান্তি দেয় না। এই ব্যবসার সঙ্গে জড়ানোর পর স্বজনদের নিয়ে একটি ঈদও করতে পারিনি। শুধু শুধু বিপদগামী হয়েছি।

এর আগে ডিআইজির হাত থেকে ফুল নিয়ে এক এক করে ২১ জন ইয়াবা কারবারি আত্মসমর্পণ করেন। তারা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে ১০টি অস্ত্র ও ২১ হাজার পিচ ইয়াবা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •