মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

চকরিয়া উপজেলার বমু বিলছড়ি ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের হেব্রন মিশনের মহিলা হোস্টেলে এক ত্রিপুরা স্কুল ছাত্রী ধর্ষিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।শুক্রবার ৩১ জানুয়ারী দিবাগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে হেব্রন মিশনের মহিলা হোস্টেলের টিউবওয়েল পাশে এই ঘটনা ঘটে। ধর্ষিতা লামা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী ও হেব্রন মিশনের মহিলা হোস্টেলে থাকে।

লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অপ্পেলা রাজু নাহা সিবিএন-কে বলেন, ঘটনাস্থলটি লামা পৌর এলাকা সংলগ্ন হলেও এটি ভৌগলিকভাবে চকরিয়া উপজেলায় পড়েছে।

ওসি অপ্পেলা রাজু নাহা সিবিএন-কে আরো বলেন, একটি অনুষ্ঠান উপলক্ষে আমরা এখানে এসেছিলাম। অনুষ্ঠানে প্যান্ডেলের পিছনে শোরগোল শুনে এগিয়ে যায়। জনতার হামলা থেকে বাঁচাতে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মিশু বড়ুয়া (২৫) নামে একজনকে আমরা আটক করে থানা নিয়ে আসি। তবে ভিকটিম দাবী করেছে সে তাকে ধর্ষণ করেছে। ধর্মান্তরিত মিশু বড়ুয়া চকরিয়া উপজেলার মালুমঘাট এলাকার আইয়ুব খানের ছেলে। আটক ব্যক্তি ও ঘটনার প্রত্যেক্ষদর্শী আরমান ত্রিপুরাকে চকরিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার আইনী প্রক্রিয়া চকরিয়া মডেল থানায় হবে৷

হেব্রন মিশনের হোস্টেল সুপার গ্রেনার ত্রিপুরা বলেন, ভিকটিম লামা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী ও হেব্রন মিশনের মহিলা হোস্টেলে থাকে। ধর্ষণের ঘটনার পর পরই লামা থানার পুলিশ মেয়ের স্বীকারোক্তি মতে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় এবং ভিকটিমকে চিকিৎসার জন্য লামা হাসপাতালে নিয়ে আসে৷ লামা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. রবিন জানান, ভিকটিমের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে পরীক্ষার জন্য বান্দরবান জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

হাসপাতালে দায়িত্বরত নার্স রেশমি দাশ বলেন, ভিকটিমের শরীরে ধর্ষণের আলামত লক্ষ্য করা গেছে। তবে ডাক্তারি পরীক্ষার পরে আসল বিষয় জানা যাবে।

ভিকটিম জানায়, সে টিউবওয়েলে পানি খেতে যায়। তার সাথে আরমান ত্রিপুরা ছিল। আরমানকে আহত করে মিশু বড়ুয়া তাকে ধর্ষণ করেছে। আরমান ত্রিপুরা পার্শ্ববর্তী আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নের অভিরাম মেম্বারের ছেলে। আটক মিশু বড়ুয়া মালুমঘাট খ্রিষ্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে কর্মচারী বলে দাবী করেছে। সে বমু বিলছড়ি হেব্রন মিশন মহিলা হোস্টেলের চাল নিয়ে সেখানে এসেছিল। আটক মিশু বড়ুয়া বলেছেন, আমি সিগারেট খেতে মিশনের পূর্ব পাশে গেলে সেখানে একজন ছেলেকে মেয়েটির সাথে দেখি এবং মেয়েটির গায়ের কাপড় এক পাশে পড়ে থাকতে দেখি। সেখানে আরো একজন ত্রিপুরা ছেলে ছিল। আমি মেয়েটির কাপড়চোপড় হাতে নিলে তারা প্রথমে আমার কাছে ঘটনা ধামাচাপা দিতে অনুরোধ করে। কিন্তু এরমধ্যে সেখানে পুলিশ হাজির হলে তারা উল্টো আমাকে ধর্ষক বলে ফাঁসিয়ে দেয়। ধর্ষক সে নয় বলে দাবি করে। ধর্ষক অন্য কেউ।

হেব্রন মিশনের মহিলা হোস্টেলের পরিচালক সুভাষ ত্রিপুরা বলেন, ঘটনাটি চরম আপত্তিকর ও ভীতিকর। মহিলা হোস্টেলে এমন ঘটনা আমাদের আতংকিত করেছে। হোস্টেলে থাকা আমাদের অন্যান্য মেয়ে ও শিশুরা ভয় পাচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত দোষীর শাস্তি দাবি করেন তিনি। এঘটনা আইনিভাবে লড়বেন বলে তিনি জানান।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •