cbn  

নিজস্ব প্রতিবেদক :
মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের ছনখোলাপাড়া পাবলিক বিদ্যালয় নিয়ে ‘লুকোচুরি’ চলছেল অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে স্থানীয় সর্বস্তরের লোকজনের এই অভিযোগ। এতে প্রতিষ্ঠার দীর্ঘদিন অতিবাহিত, শিক্ষার্থী বৃদ্ধি এবং এলাকাবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতার পরও বিদ্যালয়টি শিক্ষার সার্বিক মান উন্নয়ন হচ্ছে না বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। বিদ্যালয় পরিচালনায় নিয়োজিত আহ্বায়ক কমিটি ও প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়টি কুক্ষিগত রাখার কারণে এই পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে বলেও দাবি তাদের।

স্থানীয়দের লোকজনের অভিযোগ, ২০০৩ সালে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় ছনখোলাপাড়া পাবলিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়। এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় বিদ্যালয়টির শুরু থেকেই বেশ নামডাক ছড়ায়। এতে ক্রমান্বয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়তে থাকে। এভাবে চলছিলো বিদ্যালয়ের সার্বিক পাঠ কার্যক্রম বিদ্যালয়টি পরিচালনায় সমর্বশেষ গঠিত নির্বাহী আহ্বায়ক হয়েছিলো কুতুবজোম অফসোর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম। ওই আহ্বায়ক কমিটি দায়িত্ব নিয়েই প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন তৎকালীন ধর্ম শিক্ষক মোস্তাক আহমদকে।

অভিযোগ মতে, আহ্বায়ক সিরাজুল ইসাম এবং তার পছন্দের প্রধান শিক্ষক মোস্তাক আহমদ মিলে গড়ে তুলে সিন্ডিকেট। মূলত তারা দুজনই হয়ে উঠে এই বিদ্যালয়ের হর্তাকর্তা। তারা এলাকার জনপ্রতিনিধি, সমাজপতিসহ কাউকে তোয়াক্কা না করে নিজেদের মতো করে বিদ্যালয় পরিচালনা করতে থাকে। মূলত বিদ্যালয়ের আয়ের টাকা লোপাটের জন্যই তারা বিদ্যালয়টিকে নিজেদের মধ্যে কুক্ষিগত করে রাখে বলে সবার অভিযোগ। এভাবে আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম এবং প্রধান শিক্ষক মোস্তাক আহমদ মিলে বিদ্যালয়ের আয়ের বিপুল টাকা আত্মসাৎ করেছেন এলাকাবাসীর অভিযোগ। তাদের এই লোপাট নির্বিঘ্ন রাখতেই এলাকার উচ্চ শিক্ষিত কোনো লোকজনকে শিক্ষক হিসেবে নেয় না। অতীতে এলাকার অনেক ছেলে-মেয়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষক হতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও তাদেরকে কোনোভাবেই নিয়োগ দেয়নি।

অন্যদিকে প্রধান শিক্ষকসহ সিন্ডিকেটভুক্ত অন্য শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। সে কারণে তারা বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত করতে চাচ্ছে না। একই কারণে এখন পর্যন্ত মন্ত্রণালয় থেকে বিদ্যালয়টির স্বীকৃতিও তারা আনেনি; আনতেও তাদের বেশ অনীহা রয়েছে। তাই বর্তমানে প্রায় চার শতাধিক শিক্ষার্থীর এই বিদ্যালয়টি শুধুমাত্র অনুমতি নিয়ে পাঠদান করা হচ্ছে।

দাতা সদস্য ও ইউপি সদস্য আবদুল করিম বলেন, আমরা অনেক স্বপ্ন এবং আশা নিয়ে নিজেদের অর্থ এবং জমি দিয়ে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছিলোম। এই লক্ষ্যে আমরা এগিয়ে এসেছিলাম অনেকদূর। কিন্তু মাঝপথে কথিত আহ্বায়ক এবং তার পছন্দের অযোগ্য প্রধান শিক্ষক মোস্তাক আহমদ বিদ্যালয়টি নিয়ে লুকোচুরি শুরু করেছে। তাদের লুকোচুরির কারণে আমাদের এই স্বপ্নের বিদ্যালয়টি ঝিমিয়ে আছে।

স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুস সালাম বলেন, পুরো এলাকার মানুষের সহযোগিতায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হলেও বর্তমানে এটি শুধু কয়েকজন স্বার্থান্ধ মানুষের সম্পদে পরিণত হয়েছে। তারা বিদ্যালয়টি চুষে খাচ্ছে। এভাবে খেয়ে যাওয়ার জন্যই তারা পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা কমিটি গঠন করছে না। যোগ্য প্রধান শিক্ষককহ শিক্ষক নিয়োগ দিচ্ছে না। স্বীকৃতি এবং এমপিও প্রাপ্তিরও কোনো ধরণের চেষ্টা করছে না।

হোয়ানক ইউপি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য মিনারা রহমান মিনা বলেন, পরিচালনাকারীদের স্বেচ্ছাচারিতা ও একঘেয়েমির কারণে বিদ্যালয়টি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। তারা নিজেদের আখের গোছানোর জন্য কৌশলে তারা এটি করলেও কিন্তু এর পরিণতি খারাপ হবে। স্থানীয় লোকজন মুখ ফিরিয়ে নিলে বিদ্যালয়টি চূড়ান্তভাবে মুখ থুবড়ে পড়তে পারে।

অভিযোগে ব্যাপারে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাক আহমদ বলেন, অভিযোগগুলো সত্য নয়। মূলত আমাদের সামাজিক এবং ব্যক্তিগত কারণে প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে কিছু মানুষ এসব অভিযোগ করছে।

তিনি আরো বলেন, স্বীকৃতি পাওয়ার পর্যন্ত বর্তমান নির্বাহী কমিটি (তার দাবি মতে) শিক্ষার মান বজায় রেখে প্রতিবছর ভালো ফলাফল করছে আমাদের বিদ্যালয়টি।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এলাকার লোকজনের অভিযোগ থাকলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানাতে পারে। তারপরও বলছি, বিদ্যালয়ের ফলাফলের মান যাচাই করলেই বুঝা যাবে আমরা কিভাবে বিদ্যালয়টি পরিচালনা করছি।’ যোগ্যতার ভিত্তিতে স্থানীয়দের শিক্ষকতার সুযোগ দেবেন বলেন তিনি জানান।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা একাডেমিক সুপারভাইজার ফজলুল করিম বলেন, ‘আমার জানা মতে বিদ্যালয়টি বর্তমানে নির্বাহী কমিটি দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে। সরকারি স্বীকৃতি পেলে নিয়মিত কমিটি গঠন করত হতে হবে। নির্বাহী কমিটিতে থাকতে পারবে তবে নিয়মিত কমিটিতে অন্য একটি বিদ্যালয়ের এমপিওভুক্ত শিক্ষক জড়িত থাকতে পারবে না।’

অনিয়ম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনিয়মের কোনো অভিযোগের বিষয়ে কোনো সময় আমার কাছে অভিযোগ আসেনি। তারপরও আমি খোঁজ নেবো।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •