cbn  

বার্তা পরিবেশক:
চুক্তিনামা লঙ্ঘন করে কক্সবাজার কলাতলী সড়কস্থ আবাসিক হোটেল ‘জামান সী হাইটস’ থেকে ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ, খরিদকৃত ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রি ও প্রাপ্য সেলামীর টাকা ফেরত না দেওয়ার পাঁয়তারা অভিযোগ উঠেছে। মানা হচ্ছে না আদালতের নিষেধাজ্ঞা। এমনকি দখলবাজ ও প্রভাবশালী মহল দিয়ে হোটেলের ভাড়াটিয়াদের বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি ধমকি দেয়া হচ্ছে।
গণমাধ্যমকে এমন অভিযোগ করেছেন ভাড়াটিয়া মালিক মোঃ শাহজাহান আনচারীর পিতা আলহাজ্ব নুর মোহাম্মদ আনচারী। বুধবার (২৯ জানুয়ারী) বিকালে সংবাদ সম্মেলন ডেকে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
আলহাজ্ব নুর মোহাম্মদ আনচারী বলেন, চট্টগ্রাম পাঁচলাইশ থানার পশ্চিম ষোলশহর, মোহাম্মদুর এলাকার মরহুম ডাঃ নুরুজ্জামানের পুত্র ওয়াহিদুজ্জামান বাবুর সাথে ২০১৬ সালের ১০ ডিসেম্বর ২ কোটি টাকা ফেরতযোগ্য নগদ সেলামীতে ৫ বছর মেয়াদে চুক্তি করেন আমার ছেলে মোঃ শাহজাহান আনচারী। যার মেয়াদ রয়েছে ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
হোটেলটির ছোট-বড় ৬০টি সোয়ীটের মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ৫ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। চুক্তিপত্র মতে ভাড়া নেওয়ার সময় থেকে আমার ছেলে সুনামের সাথে কক্সবাজারে পর্যটক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। দুঃখের বিষয়, আমার ছেলের কঠোর পরিশ্রমে হোটেলটি একটা লাভজনক অবস্থানে পৌঁছলে নানামুখি ষড়যন্ত্র করতে থাকে মালিকপক্ষ। ওয়াহিদুজ্জামান বাবুর অব্যাহত ষড়যন্ত্রে আমার ছেলের জীবন বর্তমানে হুমকির মুখে পড়েছে। শুধু তাই নয়- বাদীর এই কর্মকান্ডের প্রতিবাদে আমরা আদালতে দ্বারস্থ হলে কক্সবাজারের বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ আদালত ‘জামান প্রপার্টিজ’ ডেভেলপমেন্টে স্থিতিবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়। যার অপর মামলা নং- ৩০০/২০১৯ইং।
আলহাজ্ব নুর মোহাম্মদ আনচারী দুঃখ ভারাক্রান্ত ভাষায় বলেন, সরকারে কোন মাদকের তালিকায় আমার ছেলে মোঃ শাহজাহান আনছারীর নাম নাই। তবু নানামুখি ষড়যন্ত্রের কারণে জীবন রক্ষার্থে আত্মসমর্পণ করে বর্তমানে কারাবন্দি জীবন যাপন করছে। এই সুযোগে আমার অসহায় পরিবারটির উপর একের পর এক স্টিম রোলার চালানো হচ্ছে। আমরা চরম অসহায়।
তিনি বলেন, হোটেলের ভাড়ানামার চুক্তিপত্র মতে মেয়াদ শেষ না হওয়া স্বত্ত্বেও সেলামী ও অগ্রীম বাবদ প্রাপ্য ফেরত না দিয়া ও খরিদকৃত ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রি না দিয়া আমাকে হোটেল থেকে জোরপূর্বক প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত ক্ষমতা খাটিয়ে উচ্ছদের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ডেভেলপমেন্ট কোম্পানী হতে খরিদসূত্রে আমার ছেলে একটি ফ্ল্যাট এর মালিক, ১২টি ফ্ল্যাট পৃথক মালিক থেকে ভাড়া নিয়েছে। অনেক ফ্ল্যাট মালিক ফ্ল্যাট ক্রয়ের পর রেজিস্ট্রির জন্য বাবুকে চুক্তি অনুযায়ী লিগ্যাল নোটিশ দিলেও বাবু তা কর্ণপাত করছেন না। ইতোমধ্যে ৭০টি ফ্ল্যাট বিক্রি করে ফেলেছেন হোটেল মালিক ওয়াহিদুজ্জামান বাবু। কিন্তু সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করা স্বত্ত্বেও ফ্ল্যাট মালিকদের কাউকে তিনি রেজিস্ট্রি দিচ্ছেন না।
আমাদের উচ্ছেদ করতে বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাটে সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী নারী পুরুষ জড়ো করা হয়। মহামান্য রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে প্রশাসনের বিভিন্নস্তরে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়া ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াহিদুজ্জামান বাবু।
ইতোমধ্যে আমার পুত্রবধু জিগারুন্নেছা এসব মিথ্যা অভিযোগ খন্ডন করে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সিনিয়র স্বরাষ্ট্র সচিব, বাংলাদেশ পুলিশের মহা-পরিদর্শক, র‌্যাবের ডিজি, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
বয়োবৃদ্ধ আলহাজ্ব নুর মোহাম্মদ আনচারী আবেগঘন পরিবেশে সংবাদকর্মীদের বলেন, চতুর্মূখী ষড়যন্ত্রের কারণে আমার কনিষ্ট ছেলে আবু সুফিয়ান জেল হাজতে। বাবুর লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসীদের হামলায় মেঝ ছেলে মোঃ আবুল কাসেম আনছারী মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। নাতি-নাতনিরা বাবুর হুমকিতে স্কুলে আসা-যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। আমার ছেলের হোটেল পরিচালনায় দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে পুলিশসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
ফ্ল্যাট মালিক ও ভাড়াটিয়াদের মধ্যে রয়েছেন -মো. সাইফুল, আবদুস সবুর, হাজি শফি, শাহজাহান আনছারী, মোহাম্মদ জবরুত খান, মশিউর রহমান, হাসান মাহমুদ চৌধুরী, মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, দিলদার আহমদ, লিয়াকত আলী।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •