cbn  

 

শাহিদ মোস্তফা শাহিদ, কক্সবাজার সদর :

বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে মাথা গোঁজার ঠাই হিসেবে কুড়ে ঘরের মত ছোট্ট বাসা বাঁধেও সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারছে না কক্সবাজার সদরের ভারুয়াখালী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডে আশ্রয়ন প্রকল্পে আশ্রিত ১১১ পরিবারের হাজারের বেশি সদস্যরা। কোন ধরনের ক্ষতিপূরণ, পূনর্বাসন ব্যবস্থা না করে সপ্তাহ ব্যাপী বসতঘর গুলো গুড়িয়ে দেওয়ার ফলে শিশু সন্তান, বয়োবৃদ্ধ নারী পুরুষ, অসুস্থ রোগী স্বজনদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ছে সেখানকার শতাধিক পরিবার।
বার বার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিলেও অধ্যবদী কোন সুরহা পাননি পরিবার গুলো। যদিও বা প্রকল্প কাজে নিয়োজিতরা বলছে কাগজপত্র গড়মিল থাকায় একটু বেগ পেতে হচ্ছে , শ্রীঘ্রই তাদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা, ঘুমধুম টু দোহাজারী পর্যন্ত রেল লাইন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার মেগা প্রকল্প হিসেবে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে এই কাজের কার্যক্রম। ইতিমধ্যে ভারুয়াখালী ইউনিয়নের আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকা দিয়ে যাচ্ছে রেল লাইন। সেখানে ১১১ টি পরিবার অধিগ্রহণের আওতায় আসলেও তাদের ক্ষতিপূরণ বা পূনর্বাসন ব্যবস্থা না করে দিনে এবং রাতে অনবরত ঘর-বাড়ি গুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ৩৬ টি বাড়ি ভেঙে পেলা হয়েছে, ভাঙ্গন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ভেঙে পেলা ঘর বাড়ির লোকজনেরা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন পার করছে।
এদিকে ভারুয়াখালী ৪নং আশ্রয়ন প্রকল্প ভূমিহীন সমবায় সমিতির ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরিবারের পক্ষে সভাপতি শামশুল আলম লিখিত ভাবে ভারুয়াখালী আশ্রয়ন প্রকল্পের অধীনে বরাদ্দকৃত ভূমি ও অবকাঠামো ক্ষতিপূরণের টাকা বরাদ্দ ও ক্ষতিগ্রস্ত পূনর্বাসন পাওয়া আশায় জানিয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছে। রেল লাইন জন্য অধিগ্রহণকৃত জমির উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পূনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ২৯৬ কক্সবাজার ৩ আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল ও কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কায়সারুল হক জুয়েল সুপারিশ করেন।

লিখিত আবেদন সূত্রে জানা যায়, ভারুয়াখালী আশ্রয়ন প্রকল্প বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা আপোষহীন নেত্রী হাসিনার নিজস্ব প্রকল্প। একই ২০০০ সালের ১২ ডিসেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার উক্ত আশ্রয়ন প্রকল্পে বসাবাসকারীদের রেজিষ্ট্রি প্রদান করেন। সম্প্রতি কক্সবাজারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বেশ কয়েকটি উন্নয়নমূলক মেগা প্রকল্প চলমান রয়েছে। তার মধ্যে রেল লাইন প্রকল্প অন্যতম। উক্ত রেল লাইন ভারুয়াখালী আশ্রয়ন প্রকল্পের উপর দিয়ে যাওয়ার কারণে সম্প্রতি ১১১ টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরেজমিনে তদন্তে আসেন জেলা প্রশাসক ও রেল লাইন প্রকল্পের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় পরিদর্শনকারীরা অসহায় ও ভূমিহীন হিসেবে বরাদ্দকৃত ভূমি ও অবকাঠামোর টাকা প্রদান করার আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে ৭ ধারা মোতাবেক শুধুমাত্র অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণের নোটিশ ইস্যু করেন। অধিগ্রহণকৃতকে শুধু মাত্র অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হলে তারা নিঃস্ব হিসেবে কোথাও গিয়ে বসবাস করতে পারবে না। তারা ১১১ টি পরিবারকে উপযুক্ত জায়গা ও অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণ দাবী করেন।তাছাড়া বর্তমানে রেল লাইন কর্তৃপক্ষ যে হারে ক্ষতিপূরণ প্রদান করে আসছে তাহা দিয়ে জমি ক্রয় পূর্বক বসতবাড়ি নির্মাণ করা আদৌ সম্ভব নয়। কারণ খতিয়ান ভুক্ত জমি হওয়া সত্বেও ন্যায্য মূল্যা দিচ্ছে না। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্তরা ভিটে জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে।
তারা অন্যন্যা এলাকার জনগণের চেয়ে অসহায়, বঞ্চিত। কেউ কেউ ভিক্ষা করে সংসার চালায় আবার দরিদ্র পুরুষরা রিকশা, দিনমজুরী কাজ করে সংসার চালায় বলে জানান, স্থানীয়রা। জেলা প্রশাসক বরাবর করা আবেদনে আরও উল্লেখ করেন, গত ২২ জানুয়ারী হঠাৎ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার কোন প্রকার ক্ষতিপূরণ ও চেক না পাওয়া সত্বেও অবকাঠামো ও জায়গা ছেড়ে দেওয়া জন্য বলে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জোর প্রতিবাদ জানালেও কোন প্রকার ক্ষতিপূরণ এবং পূণর্বাসন না করে উল্টো উচ্ছেদ করার চেষ্টা করেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম মাহফুজুর রহমান বলেন, অভিযোগ গুলো সত্য নয়,অধিগ্রহণকৃত রেল লাইন প্রকল্পে যাদের ঘরবাড়ি জমি পড়ছে তাদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হচ্ছে।ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে চেক প্রদান করা হয়েছে। কিছু পরিবারের কাগজপত্রে অসঙ্গতি থাকায় চেক প্রদান করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। রেল লাইন প্রকল্পের কাজে কর্মরত ইকবাল নামের একজন কর্মকর্তা বলেন, তাদেরকে নিজ উদ্দ্যেগে সরে যেতে বলা হয়েছে। গুড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি সত্য নয় বরং তাদেরকে শ্রমিক বাবদ খরচ প্রদান করে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। আগামীকাল বুধবার সবাইকে ৫ হাজার করে শ্রমিক খরচ দেওয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •