নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল বলেছেন,একুশে পদক প্রাপ্ত পন্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথের শুধু একজন বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু ছিলেননা, সকল সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে তার জনপ্রিয়তা ছিল ঈর্ষনীয়। তাঁর কর্ম দিয়ে আজীবন তিনি মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।

রোববার (২৬ জানুয়ারী) রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহা বিহারে কক্সবাজার জেলা বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদ আয়োজিত কৃতি শিক্ষার্থী সন্মাননা ও ‘পন্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথের শিক্ষাবৃত্তি’ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে স্কুল,কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ৪৫ জন গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীকে নগদ পাঁচ হাজার টাকা বৃত্তি ও ক্রেস্ট এবং ২০১৯ সালে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ১৫ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সন্মাননা এবং প্রাথমিক পর্যায়ের ৯জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়।
এবং অনুষ্ঠানের শুরুতে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রকাশিত স্মারক গ্রন্থ ‘সত্যপ্রিয়’-এর আনুষ্ঠানিকভাবে মোড়ক উন্মোচন করেন অতিথিবৃন্দ।

সংসদ সদস্য সাইমুম সরওযঅর কমল অারও বলেন, ১৯৭১সালের মুক্তিযুদ্ধে জাতী,ধর্ম,বর্ণ,নির্বিশেষে বিপদাপন্ন মানুষকে তাঁর বিহারে আশ্রয় দিয়ে যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন তা আজীবন রামুর মানুষ স্মরণ করবেন।

তিনি বলেন ‘তাঁর স্মৃতি ধরে রাখতে বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদ ‘পন্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথের শিক্ষাবৃত্তি’নামে যে বৃত্তি প্রবর্তন করেছে এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এ উদ্যেগের জন্য আমি বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদ এবং এ বৃত্তির প্রধান পৃষ্ঠপোষক সাজু বড়ুয়াকে ধন্যবাদ জানাই।

এ সময় তিনি সমাজ,দেশ এবং জাতীকে এগিয়ে নিতে, সাজু বড়ুয়ার মতো সবাইতে এগিয়ে আসার অাহবান জানান। এবং আগামী ,২৭.২৮ ও ২৯ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য পন্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথেরর জাতীয় অন্ত্যেষ্ঠিক্রিয়া অনুষ্ঠান সফল ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সবার প্রতি অনুরোধ জানান।

উত্তরমিঠাছড়া বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্রের পরিচালক করুনাশ্রী মহাথেরর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন পটিয়া কেন্দ্রীয় বিহার ও কল্যাণ প্রকল্পের পরিচালক ড. সংঘপ্রিয় মহাথের। মূখ্য অালোচক ছিলেন,ঢাকা শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মায়েঁনু, কক্সবাজার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ঋত্তিক চৌধুরী, রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. অাবুল খায়ের, রামু উপজেলঅ স্বাস্খ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নোবেল বড়ুয়া, রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহা বিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজু বড়ুয়া এবং সংবর্ধিত অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, পন্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথের শিক্ষাবৃত্তি অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক সাজু বড়ুয়া প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল বলেন, যারা উদার হস্তে দান করেন তারা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ। তারা সর্বত্র সম্মানিত হয়ে থাকেন। ধর্মের বাণীতে তাই বলা হয়েছে। পণ্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথের কেবল বৌদ্ধদের ধর্মীয় গুরু ছিলেন না, তিনি অসাম্প্রদায়িক চেতনার একজন বড় মনের সার্বজনীন ব্যক্তিত্ব ছিলেন।তাঁর স্মরণে শিক্ষাবৃত্তি প্রবর্তন নিঃসন্দেহে একটি ভাল উদ্যোগ। আমি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।

অনুষ্ঠানের মুখ্য আলোচক ডাঃ উত্তম কুমার বড়ুয়া বলেন, ভারতবর্ষে বৌদ্ধদের পতনের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায় যুগে যুগে বহু বৌদ্ধ বিহার বিভিন্ন শাসকদের আক্রমণের শিকার হয়েছে, বৌদ্ধ ভিক্ষুদের হত্যা করা হয়েছে, ত্রিপিটক লাইব্রেরী ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি বলেন,বাংলাদেশের মাটি কুড়লেই এখনো বৌদ্ধ নিদর্শন পাওয়া যায়। এদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বৌদ্ধদের অবদান আছে, বৌদ্ধ ভিক্ষুদের অবদান আছে।
‘সংখ্যাগুরু এবং সংখ্যালঘু আমাদের মূল পরিচয় নয়। এটা ভোটের ক্ষেত্রে সংখ্যার একটি সমীকরণমাত্র। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্টতার প্রয়োজন হয়। শেখ হাসিনা সরকার আছে বলেই আমরা ভাল আছি। শেখ হাসিনা আজীবন থাকবেননা। নিজেদেরকে নিজেদের পরিচয় তৈরি করে নিতে হবে। শিক্ষা-দীক্ষায় উন্নত হয়ে জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হতে হবে। মহামতি বুদ্ধের শিক্ষা গ্রহণ করলেই সমাজে ঐক্য এবং সংহতি আসবে। শান্তি এবং সমৃদ্ধি আসবে।’ যোগ করেন ডা. উত্তম।

শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন কক্সবাজার জেলা বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু। অনুষ্ঠানে শ্রভেচ্ছা বক্তব্য দেন,জেলঅ যুবলীগ নেতা পলক বড়ুয়া আপ্পু ও রামু উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নীতিশ বড়ুয়া। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, পন্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথের শিক্ষাবৃত্তি পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু ও সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সুনীল বড়ুয়া।

উল্লেখ্য বৃত্তির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য প্রধান পৃষ্ঠপোষক সাজু বড়ুয়া দশলাখ টাকা অনুদানের প্রতিশ্রুতি দেন।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •