মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতি কক্সবাজার জেলা শাখা চতূর্থ দিনের মতে কর্মবিরতি পালিত করেছে। বৃহস্পতিবার ২৩ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে এ কর্মবিরতি পালন করা হয়।

কর্মবিরতিতে
বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসন, উপজলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) এর কার্যালয়ের মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কর্মচারিদের গ্রেড ১৩ -১৬ পদবি পরিবর্তন ও বেতন গ্রেড উন্নীতকরনের দাবিতে এ কর্মবিরতি গত ২০ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সমিতির ১০৪ জন সদস্য নিয়ে কেন্দ্র ঘোষিত নিম্মোক্ত সময় অনুসারে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কর্মবিরতি চলছে। গত ২০ থেকে ২১ জানুয়ারি, ২২ থেকে ২৩ জানুয়ারি যথাক্রমে সকাল ৯ থেকে ১১টা এবং সকাল ৯টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালিত হয়েছে। আগামী ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি যথাক্রমে সকাল ৯টা থেকে ১টা এবং আগামী
২৫, ২৬ ও ২৭ ফেব্রুয়ারি একটানা ৩ দিন পূর্ণদিবস এ কর্মবিরতি পালিত হবে বলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল আলম ফরিদ সিবিএন-কে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কক্সবাজার কালেক্টরেট সহকারী সমিতির সভাপতি নাজির স্বপন কান্তি পাল বলেন, সারাদেশের মতো কক্সবাজারেও শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চলছে। ৩৩ বছর ধরে একই চেয়ারে একই পদে বসে আছি। আমাদের পরে এমএলএসএস পদে চাকুরীতে প্রবেশ করে সহকারি কমিশনার পর্যন্ত হয়ে গেছে। আমাদের অনেক জুনিয়রদের এখন স্যার ডাকতে হয়, উর্ধ্বতন কর্মকতা মানতে হয়। অথচ তাদের অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতা আমাদের চেয়ে অনেক কম। দেশের হাজার হাজার কর্মচারি আমাদের মতো এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে চাকুরীতে আছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি ভালোভাবেই জানেন। তিনি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনাও দিয়েছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের গাফিলতির জন্য আমাদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি পূরণ হচ্ছে না।

কক্সবাজার জেলা কালেক্টর সহকারী সমিতির সাধারন সম্পাদক ফরিদুল আলম ফরিদ বলেন, আমাদের দাবি আদায়ে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে দেশব্যাপি কঠোর আন্দোলন শুরু হবে ইনশাল্লাহ। আমরা শৃঙ্খলার কারণে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে অনেকবার আলটিমেটাম দিয়েছি। তাতে কোন কাজ হয়নি। আমরা পূর্ণ কর্মবিরতি পালন করলে দেশ অচল হয়ে যাবে। তবে আমরা অতোদূর যেতে চাই না। তার আগেই সমাধান চাই। সাধারন সম্পাদক ফরিদুল আলম ফরিদ বলেন, আশা করি আমাদের আন্দোলন হার্ডলাইনে নিয়ে যাওয়ার আগেই আমাদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি সরকার মেনে নেবেন।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট দপ্তর সমুহে এমনিতেই কর্ম অনুযায়ী প্রচুর জনবল সংকট। তারমধ্যে কক্সবাজার জেলা কালেক্টর সহকারী সমিতির সদস্যদের কর্মবিরতির কারণে সংশ্লিষ্ট অফিস গুলোতে ফাইলের স্তুপ জমে যাচ্ছে। সেবা প্রার্থীরা অসহায় হয়ে ফিরে আসছে দপ্তর গুলো থেকে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •