ইয়ামিন শাহরিয়ার

বর্তমান বহুল জনপ্রিয় ব্যাগ হিসেবে ‘পলিথিন’ বাজারে আসে আশি’র দশকে। সহজলভ্যতা ও স্বল্প দামের কারণে জনপ্রিয় হয়ে উঠে। কিন্তু, এখন ধীরে ধীরে তা পরিবেশ বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হতে চলছে। এমন সময়ে পলিথিন এর বিকল্প হিসেবে অন্যকিছু ব্যবহার করা যৌক্তিক নয় কি?

বর্তমান সময়ে সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গুলস (এস.ডি.জি)’র ১৭ টি লক্ষ্যের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো ক্লাইমেট চেঞ্জ! এতে বিশ্বের সব নেতারা ঐকমত পোষণ করেছে। কিন্তু, আদৌ তা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান তেমন কোন পদক্ষেপ চোখ পড়ছেনা। ফলে, পরিবেশ দিন দিন আরো খারাপ এর দিকে যাচ্ছে। যার কারণে ইতোমধ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে প্রাকৃতিক ধ্বংসযজ্ঞ চলছে। তার পিছনে বেশ কয়েকটি কারণ এর মধ্যে পলিথিন বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।

কারণ, পলিথিন শত শত বছর পড়ে থাকলেও পচে না, গলে না কিংবা মাটির সঙ্গে মিশে না। ফলে মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে মাটির উর্বরতা। গাছের বৃদ্ধিতে বাঁধা প্রদান করছে। গাছ কে আঁকড়ে ধরার মতো মাটির ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। জীববৈচিত্র বিপন্ন হতে চলছে। “ক্যান্সার” এর মতো নীরব ঘাতক রোগ চড়া দিচ্ছে। এই ‘পলিথিন’ ব্যবহার শেষে আমরা অনায়াসে ছুড়ে দিই চারপাশে। ফলে পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে!

২০০২ সালে আইন করে পলিথিন উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা দিলেও তা আমলাদের কাগজে-কলেম বন্ধি রয়ে যায়। কিন্তু বাস্তবায়নের বিন্দুমাত্রও তেমন পদক্ষেপ নেই! তবে ‘পলিথিন’ এর বিকল্প হিসেবে পাটের পলিমার থেকে ‘সোনালি ব্যাগ’ খ্যাত প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করেন আমাদের দেশের বিজ্ঞানী মোবারক আহমদ খান। যেটি পরিবেশবান্ধব এবং দ্রুত মাটির সাথে মিশে যাবে বলে দূষণ এর পরিমাণ অনেকাংশে কমবে। কিন্তু, ওনার পরিশ্রম ও গবেষণাকে আমরা মূল্যায়ন করছিনা। ফলে, ওনার পরিবেশবান্ধব এই প্রচেষ্টা আজ বৃথা। অথচ, এই প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে পাটের আঁশ থেকে “সোনালি ব্যাগ” উৎপাদন, সুলভ মূল্য ও সহজলভ্যতা বাড়ালে ঘাতক ‘পলিথিন’ থেকে মুক্তি মিলবে। পরিবেশ কিছুটা স্বস্তি ফিরে পাবে। অন্যদিকে ‘পলিথিন’ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ কমালে পলিথিন এর বিকল্প হিসেবে “সোনালি ব্যাগ” খ্যাত পাটের লিমার এর প্রতি অভ্যস্ত হবে এবং অচিরেই জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।

এছাড়াও, সরকার শক্তভাবে বিষয়টা মনিটরিং করে সফলতা আনতে পারলে, বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের প্রশংসা বহুগুণে বাড়বে। এতে করে আমাদের মাতৃভূমির চিত্র বিশ্বের কাছে ভিন্ন আঙ্গিকে ধরা দিবে এবং দূরদূরান্তে এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদী। তাই এই বিষয়ে কর্মপ্রক্রিয়া চালানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারসহ সকলের প্রতি বিনীত অনুরোধ করছি।

ইয়ামিন শাহরিয়ার।
এইচ.এস.সি দ্বিতীয় বর্ষ।
কক্সবাজার সরকারি কলেজ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •