শাহেদ মিজান, সিবিএন:

কক্সবাজার শহরের খন্ড-বিখন্ড প্রধান সড়ক নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ঝেড়েছে শহরবাসী। সোমাবার কক্সবাজার প্রেসক্লাব মাঠে আয়োজিত এক নাগরিক সভায় ক্ষোভ ঝেরেছেন। শুধু প্রধান সড়ক নয়; শহরের উপসড়ক, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করেছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। এতে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমদ ও কক্সবাজার পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সিনিয়র সাংবাদিক ও জেলা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি তোফায়েল আহমদ, সিনিয়র সাংবাদিক ফজলুল কাদের চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পদাাক এড. রনজিৎ দাশ, সাংস্কৃতিকক সম্পাদক এড. তাপস রক্ষিত, এড. আয়াছুর রহমান, কক্সবাজার চেম্বার সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক আবদুল কুদ্দুস রানা, দৈনিক কক্সবাজারের পরিচালনা সম্পাদক মুজিবুল ইসলাম, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার এর সভাপতি মমতাজ উদ্দীন বাহারী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসানুর রশীদ, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা রাসেদুল ইসলাম, জেলা যুবলীগের সভাপতি সোহেল আহমদ বাহাদুর, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল হক সোহেল, জেলা জাতীয় পার্টির নেতা রুহুল আমিন সিকদার, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অনুপ বড়ুয়া অপু, সকালের কক্সবাজারের সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল। এছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ বক্তব্য রাখেন। সভা সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক ইমরুল কায়েস।

তারা বলেন, কক্সবাজারের শহরের প্রধান সড়কের যে মরণ দশা হয়েছে তাতে চলাচল করা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই শহরের চলাচল করতে গিয়ে রোগী ও শিক্ষার্থীসহ সব স্তরের মানুষ তীব্র ভোগান্তি আর কষ্টে ভুগছে। এতে শহরবাসীর নাভিশ্বাস চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমান এমন পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে দেয়ালে পিট ঠেকে যাওয়ার অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আর প্রতিশ্রুতি নয়; খুব দ্রæত সময়ের মধ্যে প্রধান সড়কের ভঙ্গুর দশা সংস্কার করা হোক। না হলে শহরবাসী আর বসে থাকবে না। সড়ক উন্নয়নের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসবে সর্বস্তরের মানুষ।

সুশীল প্রতিনিধরা আরো বলেন, শুধু প্রধান সড়ক নয়; শহরের উপ-সড়কগুলোও চলাচলের উপযোগী নেই। প্রায় সব উপসড়ক খানা-খন্দে ভরে গেছে। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো সড়কের উন্নয়নের ব্যবস্থা নেয়নি। শুধু তাই নয়, শহরের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আশাপ্রসূত নয়। শহরের প্রধান সড়ক থেকে অলিগলিতে ময়লা দেখা যায়। কিন্তু এসব আর দেখতে চায় না শহরবাসী। মেয়র মুজিবুর রহমান নির্বাচনের আগে এবং নির্বাচিত হওয়ার পর অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
বক্তারা বলেন, পর্যটন নগরী হিসেবে কক্সবাজার শহরকে আর পরিচয় দেয়ার মতো নেই। প্রধান সড়কের যে দশা হয়েছে তাদের এই শহর ইতোমধ্যে দেশজুড়ে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এভাবে আর কিছুদিন চললে পর্যটনের এই রাজধানী থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে পর্যটকেরা। ইতিমধ্যে এমন আভাস দেখা যাচ্ছে। পর্যটন মৌসুম শুরু হয়ে গেলেও এখনো কক্সবাজারে আশানুরূপ পর্যটক আসছে না। সময় অনেক গড়িয়ে গেছে, আর এভাবে সম্ভব না। যদি এখনো টনক না নড়ে, কর্তৃপক্ষগুলোর বোধোদয় না হয় তাহলে মুখ থুবড়ে পড়বে কক্সবাজার।


কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমদ উদ্দেশ্যে করে বক্তারা বলেন, বহু প্রতীক্ষার কক্সবাজারবাসী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পেয়েছে। উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পেয়ে কক্সবাজারবাসী আশায় বুক বেড়েছে। কক্সবাজারবাসী আপনার কাছ থেকে অনেক কিছু প্রত্যাশা করে। আপনিও অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু আপনি এখন পর্যন্ত প্রতিশ্রুতির আশানুরূপ বাস্তবায়ন করে দেখাতে পারেননি প্রধান নিয়ে কক্সবাজারবাসী চরম হতাশ হয়েছে। দয়া করে আর নয়; প্রধান সড়কটি অন্তত সংস্কার করে শহরবাসীকে সীমাহীন দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিন।

কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমানকে উদ্দেশ্য করে বক্তারা বলেন, আপনার মেয়র হওয়ার মধ্য দিয়ে শহরবাসী অনেক প্রত্যাশা করেছিলো। আপনাকে ঘিরে একটি নতুন শহরের স্বপ্ন দেখেছিলো। কিন্তু আমরা এখন পর্যন্ত সেটা আশানুরূপ দেখতে পায়নি। তবে এখনো সময় আছে, আপনার সামনে আরো বেশ সময় রয়েছে। আমরা আশা করছি আপনি পারবেন। বাকি সময়গুলো আপনি আপনার সর্বোচ্চটা দিয়ে কক্সবাজার শহরকে বদলে দিবেন।

সভায় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা কক্সবাজার শহরের সমস্যাগুলো নিরসন করতে নির্দিষ্ট সময় দিয়ে আল্টিমেটাম বেঁধে দেন।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, আমি জনগণের জন্যই আমার জীবনটা ত্যাগ করে আসছি। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নিরলসভাবে পৌরবাসীর জন্য কাজ করছি। ইতিমধ্যে পৌরসভার বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প । ইতিমধ্যে উপ-সড়কটি টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই কাজ শুরু হবে।

তিনি আরো বলেন, আমি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে একটি পৌরসভার একটি টাকাও তছরুপ করিনি। আমার ব্যক্তিগত টাকা খরচ করে পৌরসভার কাজ করি। জনগনের সেবা করি। এটি আমার মা-বাবার নির্দেশ ছিলো । আমি সে মোতাবেক কাজ করেছি। আপনারা নিরাশ হবে না। সবার পরামর্শ মতে কাজ করে আপনাদেরকে দেয়া আমার প্রতিশ্রুতি আমি বাস্তবায়ন করে দেখাবো ইনশাল্লাহ।

সভায় কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমদ বলেন, কক্সবাজার নিয়ে নান পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কউক। ইতিমধ্যে পরিকল্পনা বাস্তয়ান হতে শুরু হয়েছে। অত্যাধুনিক মানের করে কাজ করতেই প্রধান সড়কটি উন্নয়নের জন্য কউক’র নিয়ন্ত্রণ দেয়া হয়েছে। একনেকে প্রকল্প পাশ হয়েছে। কাজ শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু তার আগেই জরুরী ভিত্তিতে এই সড়ক সংস্কার করা হবে। প্রতিনিয়ত এই সংস্কার কাজ অব্যাহত থাকবে। যতবার খানা খন্দ হতে ততবার সংস্কার করা হবে। দয়া করে আপনারা আমার সাথে থাকবেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •