শাহেদ মিজান, সিবিএন:

কয়েকদিন ধরে শহরবাসীর ব্যাপক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার মুখে কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়কের সংস্কারে নেমেছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। আজ সোমবার সকাল থেকে শহরের কয়েকটি স্থানে ইটের খোয়া ফেলে সড়ক সংস্কার করছে কউকের লোকজন। সকাল ১০টার দিকে খুরুশ্কুল রাস্তার মাথা স্থানে কাজ করতে দেখা গেছে।

সীমাহীন ভঙ্গুর সড়কে দীর্ঘদিনের চরম দুর্ভোগের কারণে ব্যাপকভাবে ফুঁসে উঠেছে শহরবাসী। এই নিয়ে কয়েকদনি দু’তিন ধরে সামাজিক ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হচ্ছে। একই সাথে সড়ক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে কক্সবাজার সচেতন মানুষ। এই জন্য আজ বিকাল চারটায় কক্সবাজার প্রেসক্লাবে এক নাগরিক সভাও ডাকাও হয়েছে।

কউক সূত্রে জানা গেছে, শহরের প্রধান সড়ক সংস্কারে নির্দেশ দিয়েছেন কউক চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমদ। তাই জরুরী ভিত্তিতে এই সড়কে সব গর্ত ভরাট করার কাজ শুরু করা হয়েছে। আজকালের মধ্যে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হবে।

এদিকে সড়কটি বর্তমানে চলাচলে সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে গেছে দাবি করে চরমভাবে ক্ষেপে উঠেছে শহরের সচেতন মানুষ। এরমধ্যে দুইদিন আগে কক্সবাজারের সাংবাদিক ইমরুল কায়েস চৌধুরী এই সড়ক নিয়ে কয়েকটি ‘অবজ্ঞাসূচক’ কার্টুন প্রকাশ এবং ধিক্কার জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। এতে তিনি সড়কটি সংস্কারে সর্বস্তরের মানুষকে আন্দোলনে নামার আহŸান জানান। একই সাথে চাঁদা তুলে সড়কটি উন্নয়নের কথা জানান ইমরুল কায়েস। তাই এই আহŸান মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এতে সচেতনমহলসহ সর্ব সাধারণ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ফেসবুকে এই সড়ক নিয়ে ক্ষোভের কথা জানান এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কউককে ধিক্কার জানান। এ নিয়ে সর্বমহলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। আন্দোলনের নামার ঘোষণা হয়ে গেছে ইতোমধ্যে। যার অংশ হিসেবে আজ বিকালে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে এক নাগরিক সভাও ডাকা হয়েছে।

জানা গেছে, পরিকল্পিত নগরায়নের অংশ হিসেবে কক্সবাজার শহরের ‘হলিডের মোড়-বাজারঘাটা হয়ে লারপাড়া বাসস্ট্যান্ড’ পর্যন্ত প্রধান সড়ক চার লেনে উন্নীত হবে। শহরের সৌন্দর্য বর্ধন ও যানজট নিরসনের লক্ষ্যে ২৯৪ কোটি ১৪ লাখ ৮৪ হাজার টাকায় সড়কটি চার লেন করার প্রকল্প নিয়েছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)। গত বছরের ১৬ জুলাই একনেক সভায় প্রকল্প অনুমোদন লাভ করে প্রকল্পটি। গত ডিসেম্বরে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করার কথা বলেছিলেন কউক চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমদ। কিন্তু এখন পর্যন্ত কাজ শুরুই হয়নি। এমনকি নিকট সময়েও শুরু হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

এদিকে নিজেরদের অধীনে নিয়ে নেয়ার পর কউক কয়েকবার বড় বড় খান্দখন্দে ইটের খোয়া ফেলেছেন। কিন্তু বর্ষা মৌসুম বিদায়ের গত চার/পাঁচ মাসেও একটি ইটের খোয়া বা এক মুঠো মাটিও কোথাও দেয়নি কউক। বরং কউক চেয়ারম্যানের দাবি ছিলো ইটের খোয়া ফেলে যে ‘সংস্কার’ করা হয়েছিলো সেখানে যে পরিমাণ টাকা গেছে তার সুফল পাওয়া যায়নি। কিন্তু এ কারণে প্রল্পের কাজ শুরু না হওয়া পর্যন্ত আর কোনো সংস্কার করছে না তাও তারা বলছে না। এতে সড়কটি পুরো অংশে খন্ড-দ্বিখন্ডিত হয়ে গেছে। ফলে শহরবাসী এবং পর্যটকরা চরম দুর্ভোগে শিকার হয়ে আসছেন প্রতিনিয়ত।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •