সংবাদদাতা:
কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়ক ধরে বার্মিজ মার্কেট হয়ে কালুর দোকান পর্যন্ত এগোলে রাস্তার ধারে দক্ষিণ পাশে এডভোকেট মোহাম্মদ আলী মার্কেট এর দ্বিতীয় তলায় চোখে পড়বে সুন্দর একটি প্রতিষ্ঠান KIDS IT CENTER। সারি সারি সবুজ অর্কিড ও ফুলের টব দিয়ে সাজানো এই ‘অন্যরকম পাঠশালার’ নান্দনিক পরিবেশ মোহিত করবে যেকোন বয়সের মানুষকেই। বাইরে-ভেতরে সর্বত্রই আভিজাত্যের ছাপ। শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষগুলো একেবারেই শিশুবান্ধব করে তৈরী করা হয়েছে। এই এক জায়গাতেই শিশুরা পাচ্ছে বিনোদনমূলক শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞান ও সৃজনশীলতার চর্চ্চার অনন্য সুযোগ।

কচিকাঁচা শিশুদের জন্য অসাধারণ কিছু উদ্যোগ নিয়ে এসেছে এ প্রতিষ্ঠান। সেই কথাই জানালেন KIDS IT CENTER এর পরিচালক আব্দুল ওয়াহিদ।

তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারে এরকম উদ্যোগ এই প্রথম। আমরা ছোট সোনামণিদের জন্য আমাদের কার্যক্রমকে দু’ভাগে সাজিয়েছি একটি প্রি-স্কুল এবং অন্যটি আফটার স্কুল। প্রি স্কুল এ স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত শিশুদের প্রি-প্রাইমারি ও বিনোদন মূলক শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেখানে ছোট ছোট শিশুরা খেলতে খেলতে বাংলা, ইংরেজি, অংক, ধর্মীয় শিক্ষাসহ সব ধরনের শিক্ষা লাভ করবে। আর আফটার স্কুল হল স্কুলে যারা লেখাপড়া করে তাদের জন্য। এর কার্যক্রম শুরু হয় বিকেলে। এখানে স্কুল পড়ুয়া শিশুদের জন্য কম্পিউটারে ছবি আঁকা, স্পোকেন ইংলিশ, আবৃত্তি, ক্রাফটিং সহ বিভিন্ন ধরনের বিনোদন মূলক শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, ‘অবিভাবকদের সবচেয়ে বড় যে সুবিধাটি হবে তা হল, তাঁদের আর প্রতিটি বিষয়ের জন্য একেক জায়গায় দৌড়াতে হবে না। এক জায়গাতেই ছোট সোনামণিদের সবকিছু নিয়ে এসেছি আমরা অভিভাবকদের জন্যও সুন্দর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিকেলের নাস্তা ও ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সব ক্লাস রুম, হলরুম গুলোতে এসির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ প্রশিক্ষক শামীমা বলেন, ‘আমরা খুব যত্নের সাথে বাচ্চাদের ক্লাস নিই। সবসময় আমরা বাচ্চাদের বিনোদনকে প্রাধান্য দিই। যেহেতু তারা সারাদিনের স্কুলের পড়ালেখার চাপ নিয়ে বাসায় ফিরে আমাদের চেষ্টা থাকে এখানে এসে যেন তারা স্বস্তি পায়। একই সাথে বিনোদনমূলক শিক্ষাগুলোও যেন শিখতে পারে। যেমন আমরা কম্পিউটার শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্বমানের সফটওয়্যার নিয়ে এসেছি। যেখানে বাচ্চারা তাদের আইকিউ টেস্ট, ম্যাথমেটিক্যাল টেস্ট, লজিক্যাল টেস্ট সবকিছুই খেলতে খেলতে শিখতে পারবে। একইভাবে অন্যান্য বিষয় গুলোতেও আমরা বিশেষ বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করি। আমরা দেখেছি বাচ্চারা এতে এত খুশি হয় যে অসুস্থ হলেও বাচ্চারা ক্লাস মিস করতে চায় না।

কিডস আইটি সেন্টার এর পরিচালক আব্দুল ওয়াহিদ বলেন, ‘কক্সবাজার শহরের অধিকাংশ শিশু-কিশোর সাধারণত স্কুলে লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করে। একদিকে তোতাপাখির মতো মুখস্ত করানোর চেষ্টা অন্যদিকে ভালো রেজাল্ট করার জন্য অভিভাবক গণ ছোট ছোট সোনামণিদের অনেকটা যান্ত্রিক রোবট বানিয়ে ফেলছে I অতি অল্প সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী বিনোদনমূলক শিক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এ অবস্থায় শিশুদের জন্য একটি স্বস্তির জায়গা হতে পারে আমাদের এই প্রতিষ্ঠান।’

সেন্টারটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পেতে facebook.com/kidsitschool অথবা ০১৮৮৬৪৮৬৩৯৮ এ যোগাযোগ করা যেতে পারে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •