নিজস্ব প্রতিবেদক:

কক্সবাজার শহরের হোটেল-মোটেল জোন কলাতলীতে উচ্চ আদালতের নির্দেশকে অমান্য করে উচ্ছেদের নামে ব্যাপক ভাংচুর ও সরঞ্জাম জব্দ করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও গণপূর্তের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছেন ওই এলাকার গিয়াস উদ্দীন নামে এক ব্যক্তি। সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) কক্সবাজার প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তিনি।

গিয়াস উদ্দীন সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন, চিরস্থায়ী বন্দোবস্তমূলে ঝিংলজার মৌজার কলাতলী সৈকত পাড়া এলাকা সংলগ্ন এক একর পঞ্চাশ শতাংশ জমির মালিক গিয়াস উদ্দীন গং। যার বন্দোবস্তি খতিয়ান নং- ১২২৪/২৯২, দাগ নং- ১৭/৯১২৪, এম আর আর খতিয়ান নং ৮১৩, দাগ নং ১৭/১। পৈত্রিক সূত্রে এই জমির মালিক হন গিয়াস উদ্দীন গং। বিগত ৭২ বছর ধরে গিয়াস উদ্দীনের পিতা মৃত অছিউর রহমান গং এই জমির ভোগ দখল করে আসছিলেন। সে সুবাদে ওই জমিতি বহু বছরের গাছ-গাছালি রয়েছে। এই জমিরি বিএস সংশোধনী মামলা চলমান রয়েছে। যার মামলা নং- ১৪৭/২০১১। কিন্তু মামলা চলমান অবস্থায় গণপূর্ত বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে এই জমিটি দখল নেয়ার চেষ্টা চালায় এবং জমিটির দখল ছেড়ে গিয়াস উদ্দীন গংকে নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে আসছিলো। গিয়াস উদ্দীন গং তাদের বৈধ মালিকানার কাগজপত্র দেখালেও তা আমলে নেয়নি গণপূর্ত বিভাগ। তাই প্রতিকার চেয়ে উচ্চ আদালতে দখল রক্ষার জন্য গণপূর্তের বিরুদ্ধে রীট পিটিশন দায়ের করেন গিয়াস উদ্দীন গং। সর্বশেষ গত ২৫/০৮/২০১৯ইং বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি রঞ্জন দাশের সমন্বয়ে গঠিত এক যৌথ বেঞ্চ ওই জমির স্থিতিতাবস্থা বজায় এবং কোনো কর্তৃপক্ষকে সেখানে হস্তক্ষেপ না করতে নির্দেশ দেন।

সংবাদ সম্মেলনে গিয়াস উদ্দীন অভিযোগ করেন, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গত ২৬ ডিসেম্বর গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলী মাসুদ মোল্লা ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু জাফর রাশেদের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশসহ অভিযানে যায়। অভিযানে গিয়ে তারা কোনো পূর্বঘোষণা ও বিনা নোটিশে কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই গিয়াস উদ্দীন গংয়ের মালিকানাধীন বসত ঘর ও রেস্টুরেন্টে ব্যাপক ভাংচুর শুরু করে। ওই সময় গিয়াস উদ্দীন উচ্চ আদালতের কাগজপত্র দেখালেও তা আমলে নেয়নি। এভাবে দুপুর সাড়ে ১২ থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত উচ্ছেদের নামে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। এই কথিত উচ্ছেদকালে গিয়াস উদ্দীন গংয়ের মালিকানাধীন বসতঘর ও রেস্টুরেন্টের সব ধরণের আসবাবপত্র ও মালামাল ব্যাপকভাবে ভাংচুর করে এবং বহু মালামাল জব্দ করে নিয়ে যায়।

গিয়াস উদ্দীন বলেন, অবৈধভাবে ভাংচুরের সময় আমি ও আমার ছেলে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বার বার আকুতি জানাতে গেলে উল্টো আমাদের দুইজনকে মারধর, গালি-গালাজ করে এক পর্যায়ে আটক করে রাখে। আটক অবস্থায় আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি। তারপরও তারা আমাকে চিকিৎসা না করে গাড়ির ভেতর আটকে রাখে এবং অভিযান শেষ হলে অজ্ঞান অবস্থায় আমাকে কউক কার্যালয়ে নিয়ে যায়। পরে আমার শারীরিক অবস্থা অবনতি আমার ছেলে আমাকে হাসপাতালে নেয়া আকুতি-মিনতি করলে ম্যাজিস্ট্রেট তাকে বলে ‘মরে গেলে যাক’। পরে নিরূপায় হয়ে চারটি সাদা কাগজে আমার ছেলের দস্তখত নিয়ে অজ্ঞান অবস্থায় আমাকে ও আমার ছেলেকে ছেড়ে দেয়। পরে আমাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুইদিন চিকিৎসাধীন ছিলাম।

গিয়াস উদ্দীন জানান, উচ্ছেদের নামে ভাংচুরে প্রায় তার ৩৭ লাখ টাকার মালামাল ক্ষতি সাধন করা হয়েছে এবং তিন লাখ ২২ হাজার টাকার মালামাল জব্দ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অভিযানে ভাড়াটে মমতাজ বেগমকেও ব্যাপকভাবে মারধর করা হয়। শুধু তাই নয়; ২৯ ডিসেম্বরও ফের গণপূর্তের প্রকৌশলী মাসুম মোল্লার পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি ভাংচুর করা বসতঘরের ভাঙা মালামাল সরিয়ে নিতে হুমকি দেয়। না নিলে বাকি জিনিসগুলো নিয়ে যাবে হুঁশিয়ারি করে।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও গণপূর্ত বিভাগের এই অভিযানকে জঘন্য ও আদালত অবমাননা করা হয়েছে বলে দাবি গিয়াস উদ্দীনের। তাই তিনি এর প্রতিকার চেয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে গিয়াস উদ্দীন গংয়ে ১০জন ওয়ারিশ উপস্থিত ছিলেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •