নিজস্ব প্রতিবেদক:

কক্সবাজার সদরের ইউনিয়নের দরগায় সন্ত্রাসী হামলায় ২টি দোকান ভাংচুর করা হয়েছে। একই সাথে সন্ত্রাসী কায়দায় লুট করা হয়েছে দোকানের মালামাল ও নগদ টাকা। নিয়ে যাওয়ার দৃশ্যটি মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিড়িও ফুটেজে দেখা যায়। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দরগাহ ষ্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।

এসময় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি হামলা চালিয়ে পুরো বাজার এলাকায় ভীতি ছড়িয়ে দেয়। পরে ব্যবসায়ীদের মারধর করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে বাজারের ২টি দোকান ভাংচুর করে মালামাল ও নগদ টাকা লুটপাত করে নিয়ে যায়।

এসময় সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধে এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা স্থানীয় নুরুল হাকিম (২৮) নামে একজন ব্যবসায়ীকে তুলে গোপন আস্তানায় নিয়ে মারাত্বকভাবে শারিরীক নির্যাতন করে জখম করে। বর্তমানে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ভুক্তভোগী দোকানদার বলেন, শনিবার দুপুরে হঠাৎ দোকানে ঢুকে স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী শফিউল আলমের নেতৃত্বে কুখ্যাত মনিরুল আল, জহির উদ্দিন, নুরুল আলম, বশির উল্লাহ, কলিম উল্লাহ, আব্দুল হাকিমসহ ৩০/৩৫ জনের সশস্ত্র একটি সন্ত্রাসী দল দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, দা, ছুরি, কিরিচ নিয়ে দরগাহ ষ্টেশনে কয়েক রাউন্ড গুলি ফায়ার করলে ব্যবসায়ীরা নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে দিকবেদিক দৌঁড়াতে থাকে।

এসময় ডাকাত ও সন্ত্রাসীরা ষ্টেশনের আফিফা এন্টারপ্রাইজ ও আফিফা কুলিং কর্ণারসহ বেশ কয়েকটি দোকানে হামলা করে ভাংচুর চালিয়ে দোকানগুলির ক্যাশে রক্ষিত দেড় লক্ষাধিক টাকা এবং মুল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। সন্ত্রাসীরা বাজারের দোকান ভাংচুর ও লুটপাটের পর বাজারের পার্শ্বস্থ ৬নং ওয়ার্ড আ.লীগের অফিস ও ওয়ার্ড আ.লীগের সাধারণ সম্পাদকের ঘরেও হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এতে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান আনুমানিক ৫ লক্ষাধিক টাকা। সন্ত্রাসীরা ভাংচুর ও লুটতরাজের সময় নুরুল হাকিম নামে একজন ব্যবসায়ী তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রক্ষার চেস্টা করলে সন্ত্রাসীরা তাকে বেদম প্রহার ও বন্দুকের বেয়নেট দিয়ে খুঁছিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে বেঁধে মারতে থাকে। পরে তাকে বাঁধা অবস্থায় রাস্তায় রেখে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সুত্রে আরও জানা যায়, স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল বাজারের জায়গা দখল নিতে দির্ঘদিন থেকে অন্যায়ভাবে ব্যবসায়ীদের উপর জুলুম নির্যাতন চালিয়ে আসছে, এরই ধারাবাহিকতায় আজকের এ সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান জানান, জায়গা-জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে বাজারে দোকানের হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে মুলত সড়ক ও জনপদের জমি নিয়ে এ বিরোধ।

বাজার কমিটি নেতারা জানান, স্থানীয় ২০ থেকে ৩০ জনের একটি সন্ত্রাসী ও ডাকাতদল স্থানীয় নুরুল কবির ও আমেনা খাতুনের পক্ষ নিয়ে কয়েকটি দোকান ভাংচুর করে নগদ টাকা ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনরত সদর থানার এস আই দেলোয়ার সন্ত্রাসী হামলায় দোকান ভাংচুরের সত্যতা স্বীকার করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •