নুরুল আমিন হেলালী ,সেন্টমার্টিন থেকে ফিরে :

সৃষ্টির অপরুপ সৌন্দর্য্যের প্রাকৃতিক লাীলাভুমি সেন্টমার্টিন। যেটি বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। ভৌগোলিক দিক থেকে এটি মূল ভূখণ্ডের সর্বদক্ষিণে এবং কক্সবাজার জেলা শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে ১৭ বর্গ কিলোমিটারের একটি ক্ষুদ্র দ্বীপ। স্থানীয় ভাষায় সেন্টমার্টিনকে নারিকেল জিঞ্জিরা বলেও ডাকা হয়। অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এ দ্বীপটি বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন স্থান হিসাবে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের কাছে জায়গা করে নিয়েছে। নীল আকাশের সাথে সমুদ্রের নীল জলের মিতালী, সারি সারি নারিকেল গাছ এ দ্বীপকে করেছে অনন্য। এ দ্বীপটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য রক্ষার দ্বায়িত্ব আমার আপনার সকলের।
সেন্টমার্টিন দ্বীপটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পর্যটন মৌসুমে এখানে প্রতিদিন ৭টি জাহাজ টেকনাফ জেটিঘাট হতে আসা যাওয়া করে। সেন্টমার্টিনের আনন্দটা উপভোগ করতে হলে একরাত থাকতেই হবে। তবে অধিকাংশ পর্যটক জাহাজের সময় অনুযায়ী সকালে যায় বিকেলে ফিরে আসে। তবে বিকেলের পর থেকে দ্বীপে ঘুরে বেড়ানোর মজাই আলাদা। আর যদি ভরা পূর্ণিমায় যেতে পারেন তাহলে তো কথাই নেই, রাতের বেলা সেন্টমার্টিন দ্বীপে ঘুরে বাড়াবেন আর বাঁচার ইচ্ছেটা বাড়িয়ে নিবেন। দ্বীপের কয়েক জায়গা বিশেষ করে পশ্চিম বীচ থেকে সাইকেল এবং মটরসাইকেল ভাড়া নেয়া যায়।
স্থানীয়দের মতে প্রায় ৩শতাধিক ছোট-বড় রিসোর্টের সাথে রয়েছে শতাধিক রেস্টুরেন্ট। এসব কটেজ ও সারি সারি রেস্টুরেন্টের আলো-ঝলমলে পরিবেশে মনেই হয় না দ্বীপে কারেন্ট নাই। তবে দেখা গেছে ব্যাসায়ীরা অনেক রাত অবধি জেনারেটর চালু রাখে। সেন্টমার্টিনে পিডিবি বা পল্লী-বিদ্যুত এর সংযোগ নাই। তবে সৌরবিদ্যুত কিংবা পুরোটাই জেনারেটর নির্ভর। রিসোর্ট-হোটেলগুলো সন্ধ্যা থেকে সাধারণত রাত ১০টা-১১টা পর্যন্ত জেনারেটর চালায়। দিনের বেলায় পানির পাম্প ছাড়ার জন্য কিছুটা সময় চালু রাখা হয়। শীতকালে ফ্যান লাগে না বলে দিনে কারেন্টের অভাব টের পাওয়াও যায় না। রাতের বেলা জেটি অর্থাৎ জাহাজ ঘাটে সারি সারি রেস্টুরেন্টের আলো-ঝলমলে পরিবেশে মনেই হয় না দ্বীপে কারেন্ট নাই। এছাড়া স্থানীয়রা পর্যটন মৌসুমে নিজের থাকার ঘরের সাথে ছোট ছোট রুম তৈরী করে পর্যটকদের ভাড়া দিয়ে বাড়তি আয় করছে। পর্যটকদের জন্য আন্তঃসড়কে চলাচলের একমাত্র বাহন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে স্থানীয়ভাবে তৈরী তিন চাকার ভ্যানগাড়ি। দেখা গেছে যাত্রীবাহী জাহাজ সেন্টমার্টিন জেটিতে ভিড়লে কিংবা ছাড়ার সময় এই ভ্যান চালকরা প্রস্তুত থাকে। অন্যদিকে যাত্রীদের ব্যাগ বহনের জন্যও দৌঁড়ে আসে অনেক শিশু-কিশোর। অন্যদিকে পর্যটকদের সেন্টমার্টিন ভ্রমণকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার শহর,টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনে গড়ে উঠেছে সহস্রাধিক ট্যুর ও টুরিজম কাউন্টার। অপরদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য রয়েছে কোস্ট গার্ড,বিজিবি ও ট্যুরিস্ট পুলিশ। তবে অতিরিক্ত পর্যটকের চাপে বালুকা ভুমির অনেক জীব বৈচিত্র হুমকিরমুখে। সুত্র মতে, মৌসুমে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার পর্যটক যাতায়াত করছে। যেহেতু এটি একটি আমাদের দেশের জন্য গুরুত্বপুর্ণ সম্পদ সেহেতু এটির সৌন্দর্য্য রক্ষার দ্বায়িত্ব আমার আপনার সকলের।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •