শফিক আজাদ, উখিয়া:

সদ্য সমাপ্ত প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা (পিইসি)ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা/১৯ এ বহিস্কৃত উখিয়া উপজেলার বালুখালী ইবতেদায়ী মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থীকে হাইকোর্টের নির্দেশে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর আদেশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ঠ শিক্ষা অফিস তার পরীক্ষা জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহন করেন। কিন্তু শিক্ষার্থী অজ্ঞাত কারনে ওই শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়নি বলে শিক্ষা অফিসার জানিয়েছেন।

সরজমিন উখিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরীক্ষার হলরুম ঘুরে দেখা যায়, থাইংখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হল থেকে নকল করার দায়ে মোঃ জুবাইর নামের এক শিক্ষার্থীকে বহিস্কার করা হয়। সে বালুখালী এলাকার মোঃ কামালের ছেলে বলে ঠিকানায় উল্লেখ করা হয়। যার রোল নং-৯২৮। তাকে গত ২০/১১/২০১৯তারিখ আরবি বিষয়ে পরীক্ষার দিন বহিস্কার করা হয় বলে দায়িত্ব হল সুপার মাস্টার হাবিবুর রহমান জানান।

তবে সব কিছু ঠিকঠাক থাকার পরও পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত কেন জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ঠ মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মোঃ সেলিম উল্লাহ বলেন, যে ঠিকানায় ওই ছাত্রটি ভর্তি হয়েছিল তাকে সেখানে গিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া না যাওয়ায় উপস্থিত করা সম্ভব হয়নি।

হল পরিদর্শনের সময় কথা হয় উপজেলা শিক্ষা অফিসার সুব্রত কুমার ধরের সাথে, তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আদেশের ভিত্তিতে বহিস্কৃত শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহন করা হলেও শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকায় পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। প্রথম দিন যেহেতু অনুপস্থিত পরবর্তীতে তাকে আর সুযোগ দেওয়া হবেনা।

পরীক্ষা শুরু হওয়ার মাঝামাঝি সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর যথাসময়ে বহিস্কৃত প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা (পিইসি) এবং ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা নেওয়ার জন্য প্রশ্নপত্র পাঠিয়েছেন। যথা নিয়মে সবার উপস্থিতিতে পরীক্ষার হল রুমে তা খোলা হয়। কিন্তু বহিস্কৃত শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকায় তার পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

কি কারনে অনুপস্থিত তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ঠ মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক লিখিত বক্তব্যে তাকে খোঁজে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় (পিইসি) এবং ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষায় বহিষ্কার করা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার নেওয়ার গত ১৮ ডিসেম্বর নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। নির্দেশনায় ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা নিয়ে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফলাফল ঘোষণার কথা বলা হয়েছে। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট এ আদেশ দেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •