শাহীন মাহমুদ রাসেল:

কক্সবাজার সদর ও রামু উপজেলায় সারাবছর ফসল উৎপাদনযোগ্য কৃষি উর্বর জমিগুলো একের পর এক ডোবা নালা, গর্ত আর জলাশয়ে পরিণত করছে ভুমিদস্যুরা।

তারা কৃষকদের জমির মাটি বিক্রি করতে অতিরিক্ত টাকার লোভ দেখিয়ে জমির মাটি কিনে নিয়ে অতি গভীর করে মাটি তুলে নিয়ে ইটভাটায় বিক্রি করছে। এক জমি ক্রয় করে অতি গভীর করে মাটি তুলে বিক্রি করায় পাশের জমি ভেংগে যায়। তখন জমির মালিক বাধ্য হয়ে তার জমিটিও বিক্রি করে।

সেই সাথে দেওয়া হয় অতিরিক্ত টাকার প্রলোভন। তখন সেটাও কিনে নিয়ে অতি গভীর করে মাটি তুলে নেওয়া হয়। এভাবে একের পর এক জমিগুলো ডোবা নালা, গর্ত আর জলাশয়ে পরিণত করছে। ফলে প্রায় শুন্যের কোঠায় এসেছে এ এলাকায় কৃষি পণ্য উৎপাদন। আর সকলের সামনেই দিনের পর দিন কৃষি জমি বিলুপ্ত হলেও কখনই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ও লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাঠ থেকে আমন ধান ওঠার পরপরই ফসলি জমির মাটি বিক্রি শুরু হয়। আর এসব মাটি ট্রাকে ও ট্রলিতে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইটভাটায়। দুই উপজেলায় বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে ৩২টি ইটভাটা রয়েছে। মাটি বিক্রি করেছেন—এমন চার-পাঁচজন কৃষক জানান, ইটভাটায় মাটি সরবরাহের জন্য একশ্রেণির দালাল চক্র গ্রামে গ্রামে ঘুরে কৃষকদের মাটি বিক্রি করতে উৎসাহ জোগায় এবং স্বল্পমূল্যে উপরিভাগের এসব মাটি কেটে কিনে নেয়। দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কথা না জেনে সহজ-সরল কৃষকেরা নগদ লাভের আশায় জমির মাটি বিক্রি করেন।

অনুসন্ধান করে দেখাগেছে, দুই উপজেলার সিংহভাগ ভুমি এখন ডোবানালা ও জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে চাকমারকুল ইউনিয়নের ফুয়ারচর, কলঘর ও তেচ্ছিপুল এলাকার ভুমি সম্পুর্ণ জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। এখানে কয়েক বছর আগেও সারাবছর বিভিন্ন জাতের তরিতরকারী সহ ধান উৎপাদন হতো। কিন্তু বর্তমানে সে এলাকায় দেখে মনে হয় এটি অতি প্রাচীনতম জলাশয় ও বিল। বোঝার কোন উপায় নেই এগুলো আবাদী জমি। ঝিলংজা ইউনিয়নের দরগাহ, মুক্তারকুল ও খরুলিয়া এলাকাগুলোরও একই অবস্থা। তথাপি দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ নেই কারই।

জানা গেছে, সদর উপজেলার মোট আবাদী জমির পরিমান ৮ হাজার ২৩ হেক্টর। রামু উপজেলার ৯ হাজার ৩ হেক্টর। এসব ভুমি এতটাই কৃষি উর্বর যে সারাবছর ধান,গম,ভুট্রা,আলু, বেগুন, শীম, পেঁয়াজ, মরিচ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, পটল, পুঁইশাক, লালশাক, ধনেপাতা সহ বিভিন্ন তরকারী চাষ হয়। শুধু তাই নয়, এসব এলাকার কৃষি পণ্য স্থানীয় খাদ্য চাহিদা পুরন করার পরও প্রতিদিন শতশত ট্রাক ঢাকা চট্রগ্রাম সহ বিভিন্ন অঞ্চলে যেতো। কিন্তু বর্তমানে জমিগুলো ডোবা-নালায় পরিণত হওয়ায় ফসল উৎপাদন প্রায় শুন্যের কোটায় এসে পৌছেছে।

তবে বিষয়টি নিয়ে এলাকার কৃষক, সচেতন নাগরিক সোচ্চার হলেও কিছু অসাধু চাতুর লোকের কারসাজিতে তারা হার মানতে বাধ্য হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, এসবের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলে সমাজের ক্ষমতাসীন ও অসাধু টাউটরা ভয়ভীতি দেখায়। শুধু কি তাই! ফসলের চেয়ে জমির মাটি বিক্রি বা ইটভাটার কাছে জমি ভাড়া দিয়ে বেশী লাভবান হওয়ার প্রলোভন দিয়ে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। সেই সাথে ফসল উৎপাদনে করা হচ্ছে অনুৎসাহিত। ভয়ভীতি, অর্থের প্রলোভন ও উদ্বুদ্ধের কারসাজিতে নাজেহাল হয়ে পড়ছে কৃষকরা। এভাবেই তাদের কব্জায় নিয়ে একর পর এক কৃষি উর্বর ভুমিগুলো ডোবা-নালা গর্ত ও জলাশয়ে পরিণত করা হচ্ছে।

এবিষয়ে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমার নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। তবে সুনিদ্ষ্টি অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সহজ হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •