বিদেশ ডেস্ক:
২০১৮ সালে সবচেয়ে বেশি বার সরকারি নির্দেশে ইন্টারনেট বন্ধ হয়েছে ভারতে। সাইবার স্পেসে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও মানবাধিকারের মতো বিষয়ের নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘অ্যাকসেস নাও’ এই পরিসংখ্যান জানিয়েছে। ওই সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে এখনও ভারতে ৩৭৩ বার ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত করা হয়।

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) দেশটির সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, রাজ্য বা কেন্দ্র সরকারের থেকে নির্দেশ পেয়ে বিশেষ বিশেষ পরিস্থিতিতে রাজ্যে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয় টেলিকম সংস্থাগুলো। আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা হাতের বাইরে চলে গেলেই নেট বন্ধের পথে হাঁটে সরকারগুলো। কখনও আবার হিংসা ছড়ানো বা গোষ্ঠী সংঘর্ষ রুখতেও নেট পরিষেবা বন্ধ করা হয়। ২০১২ থেকে এ পর্যন্ত কাশ্মিরে ১৮০ বার ইন্টারনেট বন্ধ হয়েছে। তবে রাজস্থানের মতো কোনও কোনও রাজ্যে পরীক্ষার চলাকালীন নকল করা বন্ধ করতেও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।

অ্যাকসেস নাও’র প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শুধু ২০১৯ সালেই ৯১ বার ইন্টারনেট বন্ধ হয়েছে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে। ২০১৮ সালে নেট বন্ধ হয়েছে ১৩৪ বার। শুধুমাত্র নথিভুক্ত হয়েছে এমন ঘটনারই তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি। তাদের মতে, প্রকৃত সংখ্যাটি এর থেকে অনেক বেশি। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের বিষয়গুলো সাধারণত স্থানীয় পুলিশ বিভাগ দেখাশুনা করে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি পাস হওয়া নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিক্ষোভের মধ্যে শুধু দিল্লি নয়, আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, অরুনাচল, পশ্চিমবঙ্গ, কর্নাটক ও উত্তরপ্রদেশে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। সব সময় রাজ্যজুড়ে নেট বন্ধ রাখা হয় না, কিছু কিছু বিশেষ এলাকায় করা হয়।

কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ সাল থেকে কেন্দ্রীয় সরকার ইন্টারনেট পরিষেবা নিয়ে কড়াকড়ি শুরু করে। তবে ওই সংস্থাটির মতে, ২০১৪ সাল থেকে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে দেশটিতে।

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর রিসার্চ অন ইন্টারন্যাশনাল ইকনমিক রিলেশন-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে নেট বন্ধ হওয়ার কারণে ৩০০ কোটি ডলার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ভারতে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •