ইমাম খাইর, সিবিএন:
কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়কের পাশে ঝাউতলা এলাকায় প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশে প্রথম বিশ্বমানের সী এ্যাকুরিয়াম রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ডে দর্শণার্থীদের ভীড় বাড়ছে। পর্যটন মৌসুমের শুরু থেকে এখানে আসছে দেশীবিদেশী অতিথি। কৌতুহলী হয়ে দেখছে সাগরতলের অজানা সব রহস্য।
বছরের শেষের দিকে প্রায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, এই সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে ভ্রমণ পিয়াসীরা। ১৬ ডিসেম্বরের ছুটিতে কক্সবাজারে আসা পর্যটকেরাও দেশের এই প্রথম এ্যাকুরিয়াম দেখতে ভীড় করছে। গত দুইদিনে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ডের উপরে মাছ, ডানে মাছ, বামে মাছ। অর্ধশতাধিক প্রজাতির মাছের ভিতর দিয়ে পথ চলতে হবে। তবে হঠাৎ হাঙ্গর মাছ সামনে এসে উপস্থিত হয়ে যেতে পারে। মানুষ খেকো মাছ পিরানহা ধারালো দাঁত খুলে হা করে ছুটে আসতে পারে। গায়ে লেগে যেতে পারে কুচিয়া, কচ্ছপ, কাঁকড়া, আউসসহ সাগরের তলদেশের নানা কিট পতঙ্গ। এর মাঝে সাগরের তলদেশের গাছ পালা, লতা, পাতা, গুল্ম, ফুল গায়ে পরশ লাগিয়ে দেবে।
সাগরের পাহাড়, গুহা, তলদেশ উঁচু নিচু আর এলোমেলো সাগর পথ পাড়ি দিতে দুই ঘন্টা সময় ব্যয় করতে হবে। এমন এ্যাডভেঞ্চার ভ্রমণ বিনোদনের জন্য দেশে প্রথমবারের মতো ফিস ওয়ার্ল্ড এ্যাকুরিয়াম হয়েছে কক্সবাজার শহরের ঝাউতলায়। যা কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে সংযোজন হয়েছে বিনোদনের নতুন ধাপ। বেসরকারিভাবে এটি তৈরি করেন রেডিয়েন্ট গ্রুপ।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সফিকুর রহমান চৌধুরী জানান, এটি মালেশিয়ার টেকনিক্যাল প্রকৌশলির সহায়তায় নির্মিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের এই এ্যাকুরিয়াম নির্মাণে সময় লেগেছে দুই বছর। তিনি বলেন, এটি শুধু কক্সবাজারের জন্য নয়- বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে বড় ভূমিকা রাখবে।
কারন হচ্ছে এই এ্যাকুরিয়ামে বঙ্গোপসাগরের থাকা বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মৎস্য সংক্ষণ করা হয়েছে। অচেনা এবং বিলুপ্ত প্রায় অনেক মাছও রয়েছে। সাগরের বিলুপ্ত মাছ বিভিন্ন প্রাণী সংরক্ষণে একটি জাদুঘরও করা হচ্ছে। এটা শুধু বিনোদনের জন্য নয়, এটি সাগরের জীববৈচিত্র ও প্রাণী সম্পর্কে জানার একটি শিক্ষা কেন্দ্র।
এদিকে, বাংলাদেশে প্রথম বিশ্বমানের সী এ্যাকুরিয়াম রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ডে দর্শণার্থীদের জন্য ফ্রি ট্যুরিস্ট বাস সার্ভিস চালু করেছে। ১২ ডিসেম্বর বিকালে দৃষ্টিনন্দন এই বাস সার্ভিস উদ্বোধন করণে পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন। এর আগে পুলিশ সুপারকে রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ডে স্বাগত জানান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ সফিকুর রহমান চৌধুরী, সিইও নাজমুল হক ও জিএম কাজী নিজামুল ইসলাম।
এসময় দৈনিক কালের কন্ঠ পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি ও কক্সবাজার জেলা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি তোফায়েল আহমেদ, এএসপি (ট্রাফিক) বাবুল চন্দ্র বনিক, চট্টগ্রাম জেলার ট্যুরিস্ট পুলিশের এএসপি রায়হান কাজেমী, ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কক্সবাজার-টুয়াক এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এম এ হাসিব বাদল, সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আসাফ উদ দ্দৌলা আশেক, আকবর মটরসের মালিক সেলিম আকবরসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। পরে ফিতা কেটে ও শ্বেত কবুতর উড়িয়ে বাস সার্ভিস উদ্বোধন করেন পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনসহ অতিথিরা।
এই ফ্রি ট্যুরিস্ট বাস রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড এর প্রবেশ টিকেটধারী দর্শনার্থীদের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী বীচ পয়েন্ট হতে রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ডে নিয়ে আসবে। এই ফ্রি বাস সার্ভিস চালুর ফলে পর্যটকদের ভোগান্তি ও যানজট লাঘব করবে।
প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) কাজী নিজামুল ইসলাম জানান, ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে একশ কোটি টাকা ব্যয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। এরই মধ্যে পর্যটন নগরী কক্সবাজার ভ্রমণে আসা পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড। এটি মালয়েশিয়ার প্রকৌশল সহায়তায় নির্মিত বিশ্বমানের সী একুরিয়াম। দৃষ্টিনন্দন এই পর্যটন স্পটে প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা প্রচুর পর্যটক সমাগম ঘটে। সামুদ্রিক শৈল মাছ, হাঙর, পিতম্বরী, আউস, শাপলা পাতা, সাগর কুচিয়া, বোল, পানপাতা, পাঙ্গাশ, চেওয়া, কাছিম, কাঁকড়া, জেলি ফিশসহ প্রায় ৬০ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ও প্রাণী ৫০টি একুরিয়াম রাখা হয়েছে। বিরল প্রজাতির কিছু মাছও এখানে রয়েছে। রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ডের ভেতরে-বাইরে করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন কারুকার্য, যা পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. সফিকুর রহমান চৌধুরী জানান, সমুদ্র সৈকত থেকে কিছু দূরে শহরে মেরিন ফিস অ্যাকুরিয়ামটি দুই বছর আগে স্থাপন করা হয়। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত দর্শনে আগত পর্যটকরা বিকেলে সৈকত ভ্রমণের পর সন্ধ্যার পর তাদের বিনোদনের তেমন ব্যবস্থা নেই। তবে অ্যাকুরিয়ামটি এক্ষেত্রে পর্যটকদের বিনোদনের জন্য একটি অন্যতম মাধ্যম হয়ে ওঠে। এটি দর্শনের জন্য সৈকত এলাকা থেকে বাস সার্ভিস দেওয়ার কারণে পর্যটকদের বিনোদন আরো সহজ হবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।