জাহেদুল ইসলাম, লোহাগাড়া:

লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়ায় গত শনিবার (১৪ ডিস্মেবর) রাতভর তান্ডব চালিয়ে বন্যহাতির দল। তান্ডবে চার বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান স্থানীয় ইউপি সদস্য মো: লিয়াকত আলী। রাত জেগে নির্ঘুম রাত্রি যাপন করেছেন পদুয়া আলি সিকাদার পাড়ার লোকজন।

ক্ষতিগ্রস্থরা হলেন, ওই এলাকার আবু বক্কর, মো: মহসিন, আবুল হোসেন ও মোক্তারুল আলম। এছাড়াও বন্যহাতির তান্ডবে মৌসুমী ফসল ও ধান ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। গত ১ সপ্তাহে বন্যহাতির আক্রমনে ২ জন মারা যাওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এছাড়া ব্যাপক ক্ষতি করেছে গ্রামীণ কৃষকদের।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিন কলাউজান, চরম্বা, পদুয়া ও লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নে বন্যহাতির তান্ডব অব্যাহত রয়েছে। বন বিভাগের লোকজন কম থাকায় তারাও নিয়মিত হিমসিম খাচ্ছে। বনবিভাগের টহল অব্যাহত থাকলে জানমালে ক্ষতি সাধন কমে যাবে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলেই ওই এলাকার লোকজন ভয়ে চলাচল করছেন। প্রতিদিনই ৫/১০টি বসতবাড়িতে হামলা করছে বন্যহাতির দলটি। স্থানীয়রা বন বিভাগের অবহেলাকে দায়ী করছেন সব চেয়ে বেশি।

সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে বন্যহাতির ১৫/২০টির একটি দল খাবারের খোঁজে পদুয়া এলাকায় প্রবেশ করে। রাত ৮টার দিকে ডাক-চিৎকার করে তান্ডব শুরু করে। প্রথমে ফসলী জমিতে খাবারের খোঁজে নেমেই খাবার না পেয়ে বসতবাড়িতে হামলা করে। বন্যহাতির উপস্থিতি টের পেয়ে লোকজন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে কোন মতে প্রাণে রক্ষা পাই।

স্থানীয়রা বলছেন, বড় বড় দাঁতাল বন্যহাতির দল বসতবাড়িতে তান্ডব চালিয়ে ক্ষতি সাধন করে। স্থানীয়রা রাতভর পাহাড়া দিয়ে বন্যহাতি গুলোকে লোকালয় থেকে পিছু হাঠাতে বাধ্য করে।

স্থানীয় তাজুল ইসলাম শিবলী বলেন, বন্যহাতি আগে কখনো দেখিনি। হাতির দল এলাকায় তান্ডব চালাচ্ছে শুনে ভয়ে রাতভর ঘুমাতে পারি নাই।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো: লিয়াকত আলী বলেন, বন্যহাতি খাবারের সন্ধানে লোকলয়ে প্রবেশ করে। খাবার খেয়ে আবার বনে ফিরে যায়। লোকালয়ে এসে বসতবাড়িতে আক্রমন করে। তাতে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। রাতভর এলাকাবাসীকে সঙে নিয়ে বন্যহাতির দলটি পাহারায় জঙ্গলে ফিরে যায়। তবে বসতবাড়িতে তান্ডব চালালেও লোকজনের কোন প্রকার ক্ষতি সাধন করেনি বলেও জানান তিনি।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন সংরক্ষক (পদুয়া) শওকত ইমরান আরফাত বলেন, বন্যহাতির বাসস্থান দখল হওয়াতে খাবারের খোঁজে লোকালয়ে হানা দিচ্ছে। হাতির বাসস্থান ছেড়ে দিলে লোকালয়ে বন্যহাতি আর আসবে না। তিনি আরো বলেন, খুব শীঘ্রই বন্যহাতির বাসস্থান থেকে বসতঘর উচ্ছেদ করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •