ইফতেখার শাহজীদ, কুতুবদিয়া:

ছেনুআরা বেগম। বয়স পঞ্চান্ন। উপজেলার আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের কাহার পাড়া এলাকার বাসিন্দা। পরনে হালকা পাতলা পুরাতন একটি শাড়ি। বেড়িবাঁধের গা ঘেঁষে একটি কুঁড়েঘরে বসবাস করেন তার। অভাবের সংসার কোন মতেই চলে দিন। এ শীতের দিনে শীতবস্ত্র কেনার সামর্থ তার নেই। সন্ধ্যায় বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় ইউএনও কম্বল বিতরণ করবেন শুনে তিনিও এসেছেন। কিন্তু এসে তিনি দেখলেন এলাকার জনপ্রতিনিধি চল্লিশ জনের নামের তালিকা করেছেন। তাতে তিনিসহ আরো অনেকেরই নাম নেই।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসার অপেক্ষায় সেখানে দাঁড়িয়ে থাকলেন ছেনুআরা। ততক্ষণে তার পাশে আরো বেশকিছু মানুষের ভিড় জমে গেছে। এলাকার প্রতিনিধির তৈরি করা তালিকায় তাদের নাম না থাকায় কম্বল পাবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কিত সবাই। কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিয়াউল হক মীর এসে সবাইকে সু-শৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়াতে বললেন এবং যারা এসেছেন সবাই কম্বল পাবে বলে ঘোষণা দিলেন। এবার ছেনুআরা বেগমসহ সবার মুখে হাসি ফুটল।

এব্যাপারে কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জিয়াউল হক মীর বলেন, অসহায় মানুষদের কাছে গিয়ে নিজ হাতে সাহায্য করতে পেরে ভালো লাগছে। এসময় সাথে ছিলেন সহকারি কমিশনার (ভুমি) সুপ্রভাত চাকমা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খোকন চন্দ্র দাশ।

কম্বল হাতে নিয়ে অনেকটা আবেগাপ্লুত হয়ে ছেনুআরা বেগম বললেন, “আগে হনো দিন হনো সাইজ্য ফাই। এবার ইউএনও দিয়ে বলি এক্কান হম্বল ফাইয়ি। হনো মতে শীতকাল আন হাডন যাইব। আল্লাহ ইউএনও‘র হায়াত দারাজ গরক।’’(অতীতে কোনদিন কোন প্রকার সাহায্য পাইনি। এবার ইউএনও দিয়েছে বলে একটি কম্বল পেয়েছি। যা দিয়ে কোনভাবে শীতকালটা কাটানো যাবে। আল্লাহ ইউএনও‘র হায়াত দারাজ করুক।)

এভাবে প্রায় প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে অসহায়দের খুঁজে বের করে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন তিনি।আজ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আলী আকবর ডেইল কাহার পাড়া থেকে শুরু করে কৈয়ারবিল সাগরপাড়ে বসবাসরত প্রায় সাড়ে চারশতাধিক অসহায়কে নিজ হাতে কম্বল বিতরণ করেছেন এ কর্মকর্তা। তার এই ব্যতিক্রমি উদ্যোগের ব্যাপক প্রসংশা করছেন দ্বীপের সচেতন মহলে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •