বলরাম দাশ অনুপম :

কক্সবাজার জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাসের পর মাস বেড়েই চলেছে বাড়ি ভাড়া। যেন নিয়মনীতির কোন বালাই নেই। কোন কারণ ছাড়াই মালিকদের ইচ্ছেমত বাড়ানো হচ্ছে ভাড়া। বিশেষ করে শহর ও শহরের আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এই বাড়ি ভাড়া বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। প্রতিটি বাড়িতে এক হাজার টাকা থেকে শুরু করে দুই/তিন হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে ভাড়া বৃদ্ধিতে এখানকার বাড়ি মালিকেরা ছাড়িয়ে গেছেন বন্দরনগরী চট্টগ্রাম এমনকি রাজধানী ঢাকার বাড়ি মালিকদেরও। শুধু ভাড়া বৃদ্ধি নয়, নির্দিষ্ট সময়ের পর বাড়ির গেট খোলা না পাওয়া, বিদ্যুতের আলাদা মিটার ছাড়াই অতিরিক্ত বিল দেওয়া, ইচ্ছেমতো গ্যারেজ ও সার্ভিস চার্জ, পানির জন্য অতিরিক্ত টাকা, দিনে নির্দিষ্ট একটি সময়ে পানি পাওয়ার অভিজ্ঞতা আছে পর্যটন শহরের প্রায় সব ভাড়াটিয়াদের। সবমিলিয়ে বাড়ি মালিকদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে ভাড়া টিয়ারা। জানা যায়-পর্যটন শহর কক্সবাজারে হু হু করে বাড়ছে মানুষের আনাগোনা। তার উপর রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন এনজিও সংস্থার লোকজনের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। সাথে বেড়েছে বাড়ির চাহিদা। আর এই সুযোগে বাড়ি মালিকেরা যেমন ইচ্ছে তেমন করে ভাড়া বৃদ্ধি করে যাচ্ছে। কক্সবাজার শহরের ঘোনারপাড়ার সজল কান্তি দে নামের এক ভাড়াটিয়া অভিযোগ করে বলেন-মালিকেরা যেভাবে নিজেদের ইচ্ছেমত বাড়িভাড়া বাড়াচ্ছে তাতে করে ভাড়াটিয়াদের অবস্থা বেসামাল হয়ে পড়ছে। কথায় কথায় মালিকেরা ভাড়াটিয়াদের বাড়িভাড়া বৃদ্ধিও স্লিপ ধরিয়ে দিচ্ছে, যদি ভাড়া বাড়িয়ে দিতে অনীহা প্রকাশ করে তাহলে কোন সুযোগ না দিয়েই সাথে সাথে বাড়ি খালি করে দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। জানা যায়, ৫ হাজার টাকার বাড়ি ভাড়া ২ থেকে ৩ হাজার টাকা বৃদ্ধি করে এখন আট থেকে দশ হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে। আর ১০ হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া দুই হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা বাড়িয়ে এখন নেয়া হচ্ছে ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা। অন্যদিকে বড় আকারের ২০ হাজার টাকার বাসা ভাড়া বাড়িয়ে এখন নেয়া হচ্ছে ২৩ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •