মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বলেছেন, এত একাউন্টার সত্বেও ইয়াবা ব্যবসা কমছেনা। আইনজীবীরা সবাই ঐকবদ্ধ হয়ে ইয়াবা ও মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামীদের আদালত থেকে জামিন না নিলে আটককৃত মাদক ব্যবসায়ীদের বাধ্য হয়ে জেলে থাকতে হবে। তখন জেলা থাকা ও জেলের বাইরে সবাই বছরের পর বছর জেলে থাকার ভয়ে ইয়াবাকারবারীরা নিজেরাই তাদের ব্যবসা বন্ধ করে ফেলবে। এজন্য আইনজীবীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইয়াবা নির্মূলে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য আহবান জানান। কক্সবাজার আইন কলেজ শিক্ষকতা করেছেন, এমন ১২ জন গুনী শিক্ষককে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান এ কথা বলেন।

মেয়র আরো বলেন, আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যে কক্সবাজারের বিশিষ্ট গুনীজনদের এবং রোববার ১৫ ডিসেম্বর কক্সবাজারের মুক্তিযোদ্ধাদের কক্সবাজার পৌরসভার উদ্যোগে সম্মাননা প্রদান করা হবে। এজন্য কক্সবাজার পৌরসভা কর্তৃপক্ষ গুণীজনের তালিকা তৈরী করছে।

সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও কক্সবাজার আইন কলেজের গর্ভনিং বডির সভাপতি মোঃ কামাল হোসেন বলেন,
কক্সবাজারকে পর্যটন রাজধানী ঘোষণার জন্য মন্ত্রণালয় ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। যেভাবে দেশের বিভিন্ন স্থান বিশেষভাবে পরিচিত, সেগুলো সংশ্লিষ্ট বিশেষ বিষয়ে রাজধানী ঘোষনা করা হয়েছে। ঠিক একইভাবে কক্সবাজার পর্যটনের জন্য বিখ্যাত হওয়ায়, কক্সবাজারকে পর্যটন রাজধানী ঘোষণা করার জন্য সরকারের কাছে পত্র দিয়েছি। আশাকরি সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসনের দেওয়া এ পত্র সুবিবেচনা করবেন।

জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন আরো বলেন, গুনীজনদের অপরিসীম অবদানের কারণে শুধু কক্সবাজার নয়, সারা বাংলাদেশ আজ এত সমৃদ্ধ ও উর্বর। যাঁদের নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি। তিনি সবকিছুর চেয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা দেশ ও জাতির জন্য খুবই কল্যাণকর। কারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সারাজীবন আলো ছড়ায় আলোকিত মানুষ তৈরী করে। তিনি বলেন, অন্যান্য পেশার চেয়ে আইন পেশায় থেকে সমাজে বেশী অবদান রাখা যায়। সেজন্য আমি আমার জ্যেষ্ঠ কন্যা প্রথিতি কামালকে আইনজীবী হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করছি। প্রথিতি কামাল এবছর এসএসসি পরীক্ষার্থী বলে জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন তাঁর বক্তব্যে জানান। তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠিত অরুণোদয় স্কুল ও কক্সবাজার ডিসি কলেজের কার্যক্রম তাঁর বক্তব্যে সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরেন।

বুধবার ১১ ডিসেম্বর রাতে কক্সবাজার আইন কলেজ প্রাঙ্গনে কক্সবাজার আইন কলেজের অধ্যক্ষ এডভোকেট মুহাম্মদ বাকের’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ আল আমিন পারভেজ, কক্সবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এ.কে.এম ফজলুল করিম চৌধুরী, কক্সবাজার সিটি কলেজের অধ্যক্ষ ক্য থিং অং বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন।

যে ১২ জন গুনী শিক্ষককে সম্মাননা প্রদান করা হয়, তাঁদের মধ্যে মরণোত্তর রয়েছেন ৪ জন। তারা হলেন-কক্সবাজার আইন কলেজ ও কক্সবাজার সরকারি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ সৈয়্যদুল আবরার মোহাম্মদ শামসুল হুদা চৌধুরী (মরণোত্তর), এডভোকেট ফিরোজ আহমদ চৌধুরী (মরণোত্তর), এডভোকেট নুর আহমদ (মরণোত্তর) এডভোকেট মোহাম্মদ আবুল বশর (মরণোত্তর)। অন্যান্যরা হলেন-সাবেক অধ্যক্ষ এডভোকেট এস.এম নুরুল হক চৌধুরী, এডভোকেট ছালামত উল্লাহ, এডভোকেট শাহনেওয়াজ আহমদ জাহাঙ্গীর, এডভোকেট পীযুষ কান্তি চৌধুরী, কক্সবাজার আইন কলেজ ও কক্সবাজার সরকারি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক এডভোকেট (প্রফেসর) নুর আহমদ, এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ও এডভোকেট রেবেকা সুলতানা।

এডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমানের সঞ্চালনায় মাওলানা নুরুল হকের কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন, সম্মাননা প্রাপ্ত গুনী শিক্ষক এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, এডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, অধ্যাপক সোমেশ্বর চক্রবর্তী, কলেজ গভর্নিং বডির সদস্য রহিম উদ্দিন সিদ্দিকী, অধ্যাপক আবুল মনসুর, এডভোকেট আলহাজ্ব শামসুল আলম, এডভোকেট দীলিপ আচার্য, এডভোকেট ওসমান গণি, কলেজের কৃতি ছাত্র সাংবাদিক আযাদ মনসুর প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে গুনীজন শিক্ষক সম্মাননা পাওয়া সাবেক পিপি, বর্ষীয়ান আইনজীবী এডভোকেট (অধ্যাপক) নুর আহমদ প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেনকে তাঁর নিজের লেখা ৩ টি বই উপহার দেন। বই ৩ টি নিয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন এডভোকেট নুর আহমদকে ধন্যবাদ জানান।

বিশেষ অতিথি কক্সবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এ.কে.এম ফজলুল করিম চৌধুরী বলেন, দেশ বিদেশে মাটির নীচে তেল, স্বর্ণ, গ্যাস পাওয়া যায়, আর কক্সবাজারের আকাশে বাতাসে ইয়াবা পাওয়া যায়। এজন্য সন্তানদের ভাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানোর পরও তাদের নিয়মিত খোঁজ নেওয়া দরকার।

গুনী শিক্ষক সম্মাননা প্রদান উপ কমিটির আহবায়ক ও অধ্যক্ষ এডভোকেট মুহাম্মদ বাকের বলেন, সম্মাননা প্রদানের জন্য মনোনীত গুনী শিক্ষকেরা এই কলেজকে অনেক অবদান রেখেছেন। তাঁদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া, মূল্যায়ন করা আমাদের পক্ষে কখনো কোনদিন সম্ভব নয়। তিনি বলেন আমি গর্ববোধ করি যাঁরা কক্সবাজারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তাঁরাই কক্সবাজার আইন কলেজে শিক্ষকতা করেছেন। তারপরও কলেজের সীমিত সাধ্য দিয়ে আমরা মরণোত্তর শিক্ষককদের পরিবার পরিজনকে এবং যাঁরা এখনো আমাদের ছায়া হয়ে আছেন তাঁদেরকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও মর্যাদায় অভিষিক্ত করার চেষ্টা করেছি। তিনি আরো বলেন, কক্সবাজার আইন কলেজের এসব গুনী শিক্ষক তাদের নিজ নিজ কর্মগুনে সবার কাছে সমুজ্জ্বল। পরবর্তী প্রজম্মকে উৎসাহিত করতে গুনী শিক্ষকদের আলোয় আলোকিত করতে এই আয়োজন করেছি। বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানে গুনী শিক্ষকদের ক্রেস্ট প্রদান, উপহার সামগ্রী প্রদান, ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো সহ বিভিন্ন ভাবে সম্মাননা জানানো হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •