রিয়াজ উদ্দিন,পেকুয়া:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় রাস্তা কেটে তৈরী করছে ফসলি জমি। গ্রামীণ অবকাঠামোর ওই সড়কটি গ্রামবাসীর প্রায় শত বছরের যাতায়াত মাধ্যম। ওই সড়ক সাবাড় করে একটি প্রভাবশালী চক্র সেখানে তৈরী করছে ফসলের মাঠ। উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের জারুলবুনিয়া দক্ষিন জুম নামক স্থানে সড়ক কেটে শ্রেনী পরিবর্তনে মহোৎসব চলছে। খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপির মেম্বার ও রাজনৈতিক নেতৃবর্গ ওই স্থান পরিদর্শন করেছেন। এ দিকে শত বছরের সড়কটি কেটে সাবাড় করা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা দেখা দিয়েছে। এর পক্ষে একটি প্রভাবশালী পরিবার অপরদিকে সড়ক রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছে ৬ টি গ্রামের বিপুল জনগোষ্টী। তারা পাহাড়ী জনপদে গ্রামীণ যাতায়াত সড়ক জবর দখল থেকে মুক্ত রাখতে ঐক্যমত হয়েছেন। এ সংক্রান্ত বিষয়ে গ্রামবাসী জরুরী বৈঠকও ডেকেছেন। তবে এ সব উপেক্ষা করে প্রভাবশালী ব্যক্তি ওই সড়ক মিশিয়ে দিতে মোটেও তোয়াক্কা না করছে। গত ২ দিন ধরে জারুলবুনিয়া দক্ষিনজুম চলাচল সড়কে মাটি কাটার কাজ অব্যাহত রেখেছে। জারুলবুনিয়া দক্ষিনজুম কবরস্থানের পূর্ব পার্শ্বে সড়ক কর্তন অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, গত দু’দিন আগে থেকে সড়কটিতে শ্রেনী পরিবর্তনকাজ চলমান রয়েছে। এনজিও সংস্থা কোস্টের স্কুল ভবন সংলগ্ন স্থানে প্রায় দেড় চেইন মত সড়কটি কর্তনের আওতায় এসেছে। দক্ষিনজুম এলাকার কবির আহমদের ছেলে মো: হোসেন নামক প্রভাবশালী ব্যক্তি সড়কটি কেটে সাবাড় করছে। ওই ব্যক্তি মাটি কাটার শ্রমিক দিয়ে সড়কটি বিনাশ করছে। জন্নাতুল ফেরদৌস, মনোয়ারা বেগম, হাছিন আরা, সাদিয়া জন্নাতসহ আরও একাধিক গৃহবধূ জানায়, এ সড়ক শত বছরের। দক্ষিনজুম ভেটভেটি, ঘোরাঘোনা, রাজারডেবা, চারাঘোনা, গর্জনতলিসহ ৬ টি পাহাড়ী গ্রামের বিপুল মানুষ এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করছে। সড়কটি আমাদের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। সেটি কেটে ফেলানো হলে অন্তত দুই হাজার মানুষ যাতায়াত সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকবে। এক প্রকার অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে। দুলা মিয়া, আবুল কালাম, আবদু সাত্তার, গিয়াস উদ্দিন, জসিম উদ্দিন, এনাম, সেকান্দর, আলতাফ মিয়া, রাসেলসহ গ্রামবাসী জানায়, এটি পাহাড়ে বসতি স্থাপন থেকে সৃষ্টি। অবকাঠামো ধ্বংস হলে মানুষের জনজীবন স্তবির হয়ে যায়। একজন লোভী মানুষের কাছে এতগুলো মানুষ অসহায় হয় কিভাবে। পানের বরজ ও ফসলী মাঠের সাথে একাকার করতে শ্রমিক দিয়ে মাটি কাটছে মোহাম্মদ হোছন নামক ব্যক্তি। গ্রাম পুলিশ রমজান আলী জানায়, আমাকে লোকজন এসে বলছিলেন। আমি গিয়ে নিষেধ করেছি। এরপরও আইনকে অমান্য করে সড়কটিতে মাটি কাটছে। পাশে একটি স্কুলও আছে। সেটিও ওই ব্যক্তি দখল করে ফেলেছে। ৮ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী রফিক, ১০ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী মাশেক, ৭ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী মুবিন, তানজি, নাসরিন জন্নাত, মনিকা, ৯ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী আখি মনি, শারমিন, ফারজানা, হালিমা, ৮ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী হালিমা জানায়, রাস্তাটি কেটে ফেললে আমরা চলাচলে অবরুদ্ধ হয়ে যাব। স্কুলে যাওয়া যাবে না। লেখাপড়া অনিশ্চিত হবে। দক্ষিনজুম ৩ টি সমাজ কমিটির সমাজপতি শফিউল আলম, নেজাম উদ্দিন, নুর মোহাম্মদ, মো: আলী জানায়, মো: হোসেন দুরন্ত ও লোভী প্রকৃতির লোক। ঝগড়াটে সব কিছু গায়ের জোরে করে। রাস্তা কেটে সাবাড় করছে। কিন্তু কেউ মুখ খোলার সাহস করেনা। প্রতিবাদ করলে মারপিট করে। পাহাড়ে অনেক লোক দূরবর্তী স্থান থেকে এসে বসতি করছে। এরা খুবই অসহায়। তার ছেলে সেনাবাহিনীতে চাকুরী করে। এর ভয় দেখিয়ে মানুষকে জিম্মী করে রাখে। রাস্তাটি কেটে ফেললে ৬ টি গ্রামের ২ হাজার মানুষ অবরুদ্ধ হবে। জারুলবুনিয়া বাজারের দূরত্ব বাড়বে কয়েকগুন। ইউপি সদস্য আহমদ ছবি জানায়, আমি সকালে চৌকিদার পাঠিয়েছিলাম। এরপরও রাস্তা কাটা বন্ধ করেনি। দ্বিতীয় দফায় আমি নিজে গিয়ে নিষেধ করেছি। লোকজন জড়ো হয়েছিল। তারা সড়কটি রক্ষায় একত্রিত হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •