বিশেষ প্রতিবেদক:

শাপলাপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের হৃদয়ের সাথে গেঁথে থাকা একটি নাম এড. আবদুল খালেক চৌধুরী। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়া শেষ করেই নাড়ির টানে ছুটে এসেছিলেন অবহেলিত শাপলাপুরের হাল ধরতে। শাপলাপুরের আপামর জনগণ সম্ভাবনার ঝিলিক ছড়ানো এই মানুষটিকে তুলে দিয়েছিলেন ইউনিয়নের হাল। তিনবার নির্বাচিত হয়ে ২০ বছরের অধিক সময় তিনি এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। একটি অনুন্নত ও পশ্চাদপদ শাপলাপুরকে তিনি আধুনিক ও উন্নত শাপলাপুরে রূপান্তর করেছেন। তাই শাপলাপুরবাসীর হৃদয়ের গভীরে প্রোথিত আবদুল খালেককে আগামী ১২ ডিসেম্বরের ইউপি নির্বাচনে আবারো চেয়ারম্যান বানানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। শাপলাপুরের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সাথে কথা বলে এমনটি জানা গেছে।

শাপলাপুরের জনসাধরণ জানান, এড. আবদুল খালেক চৌধুরী শাপলাপুরের জনমানুষের কাছের মানুষ হিসেবে খ্যাত। ২০/২৫ বছর আগে শাপলাপুর ইউনিয়ন ছিলো খুব পশ্চাদগামী। যোগাযোগ ব্যবস্থার সংকট, অশিক্ষা, চুরি-ডাকাতিসহ নানা অপরাধপ্রবণ এলাকা ছিলো এই ইউনিয়ন। জনশ্রুিত রয়েছে, আবদুল খালেক চৌধুরী প্রথমবার চেয়ারম্যান হয়েই এসব অসঙ্গতির উত্তরণে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি শক্তহাতে ডাকাতদের প্রতিরোধ করেছিলেন। ডাকাতদের ধরে ধরে আইনের হাতে সোপর্দ করেছিলেন। এভাবে ডাকাতিসহ সব ধরণের অপরাধমুক্ত হয়েছে শাপলাপুর। তেমনিভাবে তিনবার চেয়ারম্যান হয়ে তিনি শাপলাপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থা আমূল পরিবর্তন করেছেন। এছাড়াও সাধারণ মানুষের সামগ্রিক সমস্যা লাঘবে তিনি সব সময় কাজ করেছেন। এসব কারণে তিনি শাপলাপুরের সাধারণ জনগণের হৃদয়ে গেঁথে রয়েছেন।

কথা হলে সাধারণ লোকজন আরো জানান, চেয়ারম্যান হয়ে এড. আবদুল খালেক চৌধুরী কখনো নিজের জন্য কিছু করেনি। তিনি সরকার থেকে পাওয়া বরাদ্দ যথাযথ খরচ করে শাপলাপুরের গ্রামীণ অবকাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন করেছেন। গরীব, বিধবা, বয়স্কসহ সব ধরণের অসহায় লোকজনের জন্য তার দরজা সব সময়ই খোলা থাকে। তার কাছে সহযোগিতার জন্য গিয়ে পায়নি এমন নজির মিলবে না। তিনি যতটুকু সম্ভব তার সহযোগিতা সবার জন্য বিলিয়ে দিয়েছেন। খারাপ মানুষের এলাকা হিসেবে এক সময় শাপলাপুরের বদনাম ছিলো। সব ধরণের খারাপ মানুষকে চাপ প্রয়োগ করে ভালোর পথে ফিরিয়ে এনেছিলেন তিনি। তিনিই শাপলাপুরের বদনামকে চিরতরে মুছে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন।

ভোটের মাঠ জরিপ করে দেখা গেছে, শুধু নিজের জন্মস্থান নয়; পুরো শাপলাপুরের মানুষের কাছে সমান জনপ্রিয় এড. আবদুল খালেক চৌধুরী। ইউনিয়নের ৯০% ভোটার তাঁর পক্ষে। সব মিলে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হলে তার জয় নিশ্চিত বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।

প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে শাপলাপুরের তিনবারের চেয়ারম্যান এড. আবদুল খালেক চৌধুরী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকে দামি সরকারি উচ্চ পদের চাকরির সুযোগ পেয়েও তা বাদ দিয়ে আমার জন্মভূমি শাপলাপুরের টানে ছুটে এসেছিলাম। কারণ আমার শাপলাপুর ছিলো বেশ পিছিয়ে পড়া একটি অনুন্নত ইউনিয়ন। শাপলাপুরের মানুষ আমার উপর আস্থা রেখেছিলেন। আমিও তাদের আস্থা ও বিশ্বারের প্রতিদান দিয়েছিলাম, এখনো দিয়ে যাচ্ছি। বাকি জীবনটাও শাপলাপুরবাসীর জন্য উৎসর্গ করতে চাই। যতদিন বেঁচে আছি শাপলাপুরের মানুষের সাথেই থাকবো।’

তিনি আরো বলেন, আমি নির্বাচিত হলে চেয়ারম্যান পথটিকে ইবাদত হিসাবে নিব। এটি আমার শেষ নির্বাচন সুতরাং আমার চাওয়া পাওয়ার আর কিছু নেই। বাকি জীবনটা আমি শুধু শাপলাপুর ও শাপলাপুরবাসীর জন্য উৎসর্গ করতে চাই। প্রিয় শাপলাপুরবাসী আমি শাপলাপুর ইউনিয়নের অসমাপ্ত কাজগুলি সমাপ্ত করতে আপনাদের কাছে মুল্যবান রায় প্রত্যাশা করছি।’