আবুল কালাম, চট্টগ্রাম:
নগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, দেশকে উন্নয়নে এগিয়ে নিতে হলে জনগণকে ভ্যাট দিতে হবে।এই ভ্যাট হচ্ছে দেশের চালিকা শক্তি ভ্যাট ট্যাক্সের মাধ্যমে দেশের ইকোনমি শক্তিশালী হয়। দেশের সামগ্রিক পরিকল্পনা নির্ভর করে ইকোনমির উপর ভিত্তি করে। কাজেই উন্নয়ন পরিকল্পনা, রাজস্ব আয় এবং জনগণ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। জনগণ ভ্যাট-কর দিচ্ছেন বলেই রাজস্ব আয় বাড়ছে। রাজস্ব আয় বেড়েছে বলেই সরকার উন্নয়নের রোল মডেল হয়ে বিশ্বে মাথা উচু করে দাড়াতে পারছে।

মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) নগরীর আগ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে জাতীয় ভ্যাট দিবসের এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মানসিকতায় পরিবর্তন নিয়ে আসা উচিত। রাষ্ট্র ব্যবসা করে না। তাই জনগণকে ভ্যাট, ট্যাক্স দিতে এগিয়ে আসতে হবে। সরকার বিনামূল্যে বই দিচ্ছে। বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। জনগণ সুফল পাচ্ছেন।

মেয়র নাছির বলেন, প্রত্যেক বাঙালির কাছে ১০ বছর আগে বিদেশ যাওয়া এবং এখনকার বিদেশ যাওয়ার পার্থক্য উপলব্ধি এখন আনন্দজনক সত্য। আগে আমাদেরকে ইমিগ্রেশনে নানামুখী হয়রানি করা হত। এখন সে অবস্থায় আর পড়তে হয় না। আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের কারণে মর্যাদা বেড়েছে। আমাদের ওপর নির্ভর করছে কত দ্রুত দেশ এগিয়ে যাবে। আমাদের আইন মানতে হবে। সংকীর্ণতা পরিহার করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখতে হবে।

বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য মারগুব আহমেদ।

কর অঞ্চল-৩ এর কমিশনার সৈয়দ মোহাম্মদ আবু দাউদ বলেন, স্বাধীনতার আগের প্রজন্ম জানে, বটমলেস বাস্কেট বলা হয়েছিল আমাদের দেশকে। ৪০ বছর পর সেই দেশ সামাজিক নিরাপত্তার নজির হয়েছে। এর নায়ক করদাতারা।

তিনি বলেন, ইউরোপ আমেরিকায় চিকিৎসা সরকার দেয় নাকি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি দেয়? প্রিমিয়াম দিয়ে এ সেবা পায় তারা। বাংলাদেশে ৩০ ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা দেওয়া হয়।

ভ্যাট কমিশনার মোহাম্মদ এনামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রামের কর কমিশনার ইকবাল হোসেন, আবুল কালাম কায়কোবাদ, মুনতাসির বিল্লাহ, বন্ড কমিশনার মাহবুবুজ্জামান, চট্টগ্রাম উইম্যান চেম্বারের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবিদা মোস্তফা প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ভ্যাট আইন জনবান্ধব করা হয়েছে। ভ্যাট ব্যবসায়ীর আয় ব্যয়ের অংশ নয়। পণ্য কেনার সময় ভোক্তারা ভ্যাট দেন সরকারকে। এ ভ্যাট সংগ্রহ করেন ব্যবসায়ীরা। সরকারের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে এ অর্থ ব্যয় হচ্ছে। ভ্যাট দান নয়, অবদান।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের সহ-সভাপতি এএম মাহবুব চৌধুরী, চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক অঞ্জন শেখর দাশ, নারী উদ্যোক্তা রুহি মোস্তফা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

জাতীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ ভ্যাট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কক্সবাজারের ওশান প্যারাডাইস, খাগড়াছড়ির ফোর স্টার এন্টারপ্রাইজ ও অরণ্য বিলাস, পটিয়ার বনফুল অ্যান্ড কোম্পানি, ষোলশহরের ব্র্যাক আড়ং, সীতাকুণ্ডের চৌধুরী টি ওয়্যার হাউস ও বান্দরবান সদরের হোটেল হিলভিউ রেসিডেন্সিয়ালকে পুরস্কার দেন অতিথিরা।

স্থানীয় পর্যায়ে আবুল খায়ের স্টিল মেল্টিং লিমিটেড, কর্ণফুলীর সুপার পেট্রো কেমিক্যাল লিমিটেড, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, এনঅ্যান্ডএন টি ওয়্যারহাউস, এমএম ইস্পাহানি লিমিটেড ও উত্তরা মোটরস লিমিটেডকে পুরস্কৃত করা হয়। বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে।

অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার কাজী মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন ও বন্ড কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার তাহমিনা আক্তার পলি।