মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজার শহরের জিরো পয়েন্টের হলিডে মোড় থেকে পূর্ব দিকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পর্যন্ত সড়কটি পাকিস্তান সরকারের আমলে প্রস্থে সি এন্ড বি (কনস্ট্রাকশন এন্ড বিল্ডিং ডিপার্টমেন্ট) যতটুকু হুকুম দখল (একুয়ার) করে সড়কটি নির্মাণ করেছিল কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) শুধুমাত্র ততটুকু প্রস্থে উন্নয়ন করবে। এজন্য সড়কটির প্রসস্থকরণ, সৌন্দর্যবর্ধন ও নির্মাণ কাজ শুরুর আগে তৎকালীন সরকারের একোয়ারের ম্যাপ ও ড্রয়িং নিয়ে পুংখাখানুপুংখ ভাবে পরিমাপ করে সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। এসময় কারো কোন যৌক্তিক আবেদন থাকলে তাও সহৃদয়তার সাথে সুবিবেচনা করা হবে। তাই কক্সবাজার পুরাতন প্রধান সড়কের দু’পাশে একোয়ার বর্হিভূত নিজস্ব জমিতে বর্তমানে থাকা নাগরিকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোন কারণ নেই।
কক্সবাজার শহরের এবিসি ঘোনা চেয়ারম্যান ঘাটায় কক্সবাজার শহর আলোকায়ন প্রকল্প-৩ এর উদ্বোধন ও সরকারের যুগ্মসচিবের মর্যাদা পাওয়ায় কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমেদকে প্রদত্ত এক বিশাল সম্বর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন।

কউক চেয়ারম্যান বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় প্রধান সড়কের হাশেমিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে পূর্ব দিকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পর্যন্ত অংশ ১০০ ফুট প্রস্থে দু’লেইনে সড়কটি প্রশস্ত করা হবে। ২৯৮ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় ধরে একনেকে পাশ হওয়া প্রকল্পটি পাবলিক পকিউরমেন্ট রুল (পিপিআর) অনুযায়ী টেন্ডার বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। টেন্ডারের পর যতদ্রুত সম্ভব এ সড়কটির কাজ শুরু করা হবে ইনশাল্লাহ।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) এর চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমেদ কউক এর চলমান কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, সাড়ে ৩ বছর আগে কউক এর চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ পাওয়ার পর একটি প্লাস্টিকের টেবিল নিয়ে বর্তমান বিয়াম ভবনের উঠানে অফিস শুরু করেছিলাম। সেখানে মাত্র ৬জন জনবল ছিলো। কউক এর এ করুণ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে প্রকৌশলী, স্থপতি, পরিকল্পনাবিদ, নকসাকার, সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারী সহ ২৪০ জন জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া এখন চুড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এসব জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত রাখা হয়েছে। সেজন্য বর্তমানে কউক কার্যালয়ে কর্মরত কেউ সেখানে আবেদন করেও উত্তীর্ণ হয়নি। তিনি বলেন, কক্সবাজারের সবচেয়ে বৃহত্তম অফিস ভবন হবে ২৫৫ কোটি নির্মাণাধীন কউক ভবন। যেটির কাজ এখন দৃশ্যমান হয়েছে। তিনি বলেন, খুরুস্কুলে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রায়ন প্রকল্পের জমির পূর্ব পাশে স্মার্ট শহর গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। রামু উপজেলার চেইন্দতে খাস জমিতে প্লট নির্মাণ করা হবে। তিনি মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ এর কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রত্যেকে প্রত্যেকের পরিবারের সদস্যদের সুনজরে রেখে মাদক নিয়ন্ত্রণ করুন। তাহলেই পরিবার, পুরো সমাজ মাদক মুক্ত হবে। পুরো এলাকা ও দেশ মাদক মুক্ত হবে। তাই পরিবারের সদস্য ও এলাকার প্রতি নিজ নিজ নৈতিকতাবোধ থেকে দায়িত্বশীল হওয়ার জন্য সকলের প্রতি তিনি আহবান জানান।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমেদ সবুজবাগ, দক্ষিণ রুমালিয়ার ছরা, সমিতিবাজার, বাঁচামিয়ার ঘোনা, টেকনাফ পাহাড়, আশুরঘোনা সহ কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব এলাকা উন্নয়নে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। একই এলাকাকে ইয়াবা ও সর্বপ্রকার মাদকমুক্ত করতে এবং এখানকার অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সুপার ও র‍্যাবের সাথে আলাপ করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এলাকার জনপ্রতিনিধি, সমাজকমিটি, সর্বসাধারণের মতামতের ভিত্তিতে অনেকদিন আগে তৈরি করা কক্সবাজারের মাষ্টারপ্ল্যান থেকে এ এলাকাকে প্রয়োজনে ‘ওপেন জোন’ থেকে বাদ দেওয়া হবে। এরপর এ এলাকার ভূমি ব্যবহারের অনুমতি ও বাড়িঘর নির্মাণের জন্য বিধিসম্মতভাবে কউক থেকে প্ল্যান ডিজাইন পাশ করে দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।

কক্সবাজার পৌরসভার ৭ ওয়ার্ডের তিন ৩ বারের নির্বাচিত কাউন্সিলর আশরাফুল হুদা ছিদ্দিকী জামসেদের সভাপতিত্বে কক্সবাজার শহর কমিউনিটি পুলিশিং এর সভাপতি মিজানুর রহমানের নান্দনিক সঞ্চালনায় হাফেজ মাওলানা আবদুল্লাহ এর কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া মসজিদে বায়তুল্লাহ কমপ্লেক্স মাঠে অনুষ্ঠিত এ সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন, কক্সবাজার পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর জাহেদা আক্তার, এডভোকেট আবু সিদ্দিক ওসমানী, কউক এর উপ নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি জাহাঙ্গীর আলম, ডা. সাজ্জাদ হোসেন, ডা. নুরুল আবছার, এডভোকেট মোশাররফ হোসেন, মাওলানা শাহ আলম, সেলিম উল্লাহ সুজন, করিম উল্লাহ, সেলিম উল্লাহ সুজন প্রমুখ। বিশাল এই সম্বর্ধনা সভা শেষে সকলকে নৈশভোজে আপ্যায়িত করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রজেক্টরের মাধ্যমে কউক এর গৃহীত কার্যক্রম ও পরিকল্পনা দেখানো হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •