সংবাদ বিজ্ঞপ্তি:
স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অগ্রসেনানী শহীদ দৌলতের অন্যতম সহযোগী মুজিব সেনা ঐক্য লীগের সাবেক কেন্দ্রিয় সাধারণ সম্পাদক ইয়াহিয়া খান কুতুবীসহ তৎসময়ে গ্রেপ্তারকৃত ১৪ নেতার কারান্তরীণ দিবস ৫ ডিসেম্বর। স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী সর্বদলীয় মিছিল থেকে ১৯৮৭ সালের ৫ ডিসেম্বর চিরিঙ্গা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন দুলাল মার্কেটের সামনে থেকে চকরিয়া ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াহিয়া খান কুতুবী, দুলাল ও আবুল হাসেম। তাদের মুক্তির দাবিতে এডঃ আমজাদ হোসেন ও দৌলত খানের এর নেতৃত্বে উপজেলা ঘেরাও করতে গেলে চকরিয়ার তৎকালীন ওসি আবদুর রউপের নির্দেশে দারোগা রাম বাবু ব্যাপক গুলি চালালে গুলিবিদ্ধ হন দৌলত খান। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় মালুমঘাটা খৃস্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি মৃত্যু বরণ করেন। ওই দিন ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। যাদের গ্রেপ্তার করা হয় তাদের দৌলত খান হত্যা মামলায় জড়িয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি প্রয়াত এডঃ আমজাদ হোসেন ও মুজিব সেনা ঐক্যলীগের সাবেক কেন্দ্রিয় সাধারণ সম্পাদক ইয়াহিয়া খান কুতুবী। ওই মামলায় আইনী লড়াইয়ে লিপ্ত হন জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালিন সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রিয় সদস্য এডঃ জহিরুল ইসলাম। তিনি ১৯৮৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর গ্রেপ্তারকৃত ১৪ জনকে মুক্ত করেন আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। যাদের মুক্ত করতে জীবন দিয়েছেন দৌলত খান। তাদেরই অন্যতম হচ্ছেন ইয়াহিয়া খান কুতুবী। যিনি এখনো জাতির জনকের স্বপ্ন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তৎসময়ে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সহ-সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এই পরিশ্রমি ত্যাগী নেতা ইয়াহিয়া খান কুতুবী। ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে স্থানীয় আওয়ামী লীগ মনোনয়ন না দিলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়ন দিয়েছিলেন। নির্বাচনে আওয়ামী নামধারী জামায়াত নেতা সিরাজদৌল্লাহর সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্রের কারণে পরাজিত হন। নির্বাচনের দিন জামায়াত শিবিরের ক্যাডার দের হামলায় গুরুতর আহত হন ইয়াহিয়া খান কুতুবীর ভাইসহ অন্তত ৩০ জন। যাদের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগীতা করেছেন আশেক উল্লাহ রফিক এমপি।
এত ষড়যন্ত্রের পরেও মাঠ ছেড়ে যাননি তিনি। এখনো কক্সবাজারে ও কেন্দ্রিয়ভাবেও বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করে শেখ হাসিনার ভিশন বাস্তবায়নে কাজ করছেন। মুজিব সেনা ঐক্যলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইয়াহিয়া খান কুতবী বলেন স্বৈরচার বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে শহীদ হন ডাঃ মিলন ও নুর হোসেন। তাদের জাতীয় বীর ঘোষণা করা হলেও আন্দোলনে শহীদ হওয়া দৌলত খানকে জাতীয় বীর ঘোষণা করা হয়নি। আমরা অবিলম্বে শহীদ দৌলত খানকে জাতীয় বীর হিসাবে ঘোষণা দেখতে চাই।
কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি প্রয়াত এ কে এম মোজাম্মেল হক তাঁকে মনোনীত করেছিলেন কুতুবদিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক হিসাবে। পরবর্তিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসাবে তাকে মনোনীত করা হয়। তার অন্যতম সহযোদ্ধা শহীদ দৌলতকে হরালেও মনোবল হারাননি ইয়াহিয়া খান কুতুবী। ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘুর্ণীঝড়ে তার দুই বোন ও নানীর মৃত্যু হয়। ওই ঘুর্ণীঝড়ে উপকুলের অন্তত লক্ষাধীক মানুষ মৃত্যু বরণ করে। তাদের স্মরণ রাখতে ইয়াহিয়া খান কুতুবী গড়ে তুলেন ২৯ এপ্রিল স্মৃতি ফাউন্ডেশন। ওই স্মৃতি ফাউন্ডেশন এর উদ্যেগে পরিচালিত হচ্ছে সেবা মুলক কার্যক্রম। কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আবচারের সহযোগীতায় কক্সবাজার শহরে ২৯ এপ্রিল স্মৃতি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পরিচালিত হয়েছে একাধীক চক্ষু শিবির। এতে প্রধান অতিথি ছিলে চট্টগ্রামের বিশিষ্ট শিল্পপতি বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি। জাতীয় প্রেস ক্লাব ও চট্টগ্রামে ৯১ এর ঘুণীঝড়ে নিহতদের স্মরণে পালিত হয়েছে একাধীক কর্মসূচী। অধিকাংশ কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করেছেন সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত আবদুর রাজ্জাক, বর্তমান বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ, সাবেক গনপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন ও আশেক উল্লাহ রফিক এমপি। ইয়াহিয়া খান কুতুবী রাজনীতির পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নেও ব্যাপক ভুমিকা রেখেছেন। তিনি উন্নয়ন মুলক কাজ করেছেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। বর্তমানে তিনি দক্ষিণ ধুরুং গাউছিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়ার পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জেলা পরিষদের বরাদ্দ থেকে এলাকার উন্নয়নেও ব্যাপক কাজ করেছেন। সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক এর ধারাবাহিক উন্নয়ন কার্যক্রমে এলাকাকে অর্ন্তভুক করেছেন। যা এখনো চলমান রয়েছে। ইয়াহিয়া খান কুতুবী কর্তৃক প্রতিষ্টিত ২৯ এপ্রিল স্মৃতি ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে ওই শোকাহত দিনকে শোক দিবস ঘোষণার দাবী জানিয়ে আসছে। কুতুবদিয়ায় স্থায়ী বেড়ীবাঁধ নির্মাণের জন্য তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •