প্রথম আলো:
‘ইয়াবার জোগানদাতা’ আবুল কাশেম ওরফে ডন কাশেমের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বুধবার চট্টগ্রামের অ্যাডিশনাল চিফ ম্যাজিস্ট্রেট মহিউদ্দিন মুরাদ শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

পিকনিক বাস থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় কাশেমকে গত সোমবার কক্সবাজারের ঈদগাঁ থেকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই চট্টগ্রাম।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী শাহাবুদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, আসামি কাশেমকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পিবিআই ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রামের পরিদর্শক কাজী এনায়েত কবীর বলেন, কাশেম মিয়ানমার থেকে কক্সবাজারে ইয়াবা এনে সারা দেশে সরবরাহ করতেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদে পাচারকারী চক্রের সব সদস্যকে শনাক্ত করা যেতে পারে। এ জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।

চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি নগরের শাহ আমানত সেতু এলাকায় কক্সবাজার থেকে যশোরগামী একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে ২ লাখ ৪০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করে র‍্যাব। এ ঘটনায় আটজনকে আসামি করে মামলা করে র‍্যাব। পরে বাকলিয়া থানা-পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে। কিন্তু ঠিকানা না পাওয়ায় কাশেমসহ দুজন আসামির নাম বাদ দেন। আদালত কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে আদালত পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রামের পরিদর্শক কাজী এনায়েত কবীর বলেন, গত জুলাই মাসে তদন্তভার পাওয়ার পর পিবিআই কাশেমকে খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে তাঁর সঠিক নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়।

পিবিআই সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার কাশেম কক্সবাজারের বাসিন্দা হলেও রোহিঙ্গা। তাঁর বাবা নবী হোসেন বাংলাদেশে ৪০ বছর আগে অনুপ্রবেশ করেন। ২০১৩ সালে কক্সবাজারে ঈদগড়-ঈদগাঁও-বাইশারী সড়কে হিল লাইন সার্ভিসে চালকের সহকারী হিসেবে চাকরি করতেন কাশেম। ওই সুবাদে ডাকাতদের সঙ্গে তাঁর সখ্য গড়ে ওঠে। কাজ শুরু করেন তথ্যদাতা (সোর্স) হিসেবে। ডাকাত দলকে তথ্য দিয়ে বিভিন্ন গাড়িতে ডাকাতি করাতেন। বিষয়টি জানাজানি হলে নিজেই ডাকাত দলে যোগ দেন। পরে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। মিয়ানমার থেকে সরাসরি ইয়াবা এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি শুরু করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •